মোদীর ‘ভাইব্র্যান্ট গুজরাত’ জৌলুস হারাচ্ছে? আমেরিকার পরে সরে গেল ব্রিটেনও

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাণিজ্যিক কোনও লাভ নেই, শুধুই দেখনদারি। এমনই অভিযোগ তুলল ভাইব্র্যান্ট গুজরাত সামিটের সহযোগী দেশ ব্রিটেন। শুধু তাই নয়, ইভেন্টের শেষ মুহূর্তে নিজেদের অংশগ্রহণ প্রত্যাহারও করে নিল তারা! তবে এই প্রথম নয়। আগামী বছরের ১৮ থেকে ২০ জানুয়ারির এই ইভেন্ট থেকে নিজেদের অংশগ্রহণ প্রত্যাহার করে নিয়েছে আমেরিকাও।

ব্রিটেনের এক সিনিয়র কূটনীতিক বলছেন, “আমরা ২০১৫ এবং ২০১৭ সালে সহযোগী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলাম এই সামিটে। কিন্তু যে টাকা এবং অন্যান্য বিষয় আমরা বিনিয়োগ করেছিলাম, সেই হিসেবে আর্থিক লাভ হয়নি মোটেই। সে ক্ষেত্রে আমাদের সিদ্ধান্ত, ওই টাকাটা অন্য কোনও কাজে ব্যবহার করব। অঙ্কটা কম নয়, ২৫ হাজার পাউন্ড… সেটা দিয়ে আমরা আরও অনেক কিছুই করতে পারি। এতটা টাকার বিনিময়ে, সামিট থেকে মাত্র দু’-তিনটে ব্যবসার চুক্তি নিয়ে আসা কোনও কাজের কথা নয়।”

সেই সঙ্গে তিনি এ-ও জানান, ব্রিটেন যেহেতু সহযোগী রাষ্ট্র হিসেবে অংশগ্রহণ করছে না, তাই লক্ষ টাকা খরচ করে বিশেষ অতিথিদেরও আনবে না তারা। এমনকী ভাইব্র্যান্ট গুজরাটের প্রদর্শনীতেও অংশগ্রহণ করবে না। ২০১৫ সালে দু’টো  এবং ২০১৭ সালে মাত্র একটা ব্যবসায়িক চুক্তি হয়েছে এই সামিটে অংশগ্রহণ করে। এর পরে ২০১৯-এ আর সহযোগী দেশ হিসেবে অংশগ্রহণ করার কথা ভাবছে না ব্রিটেন।

কিন্তু আমেরিকার পরপরই এই প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পিছনে কি বিশেষ কোনও কারণ আছে? এই প্রশ্নের উত্তরে ওই কূটনীতিক বলেন, “আমাদের এই সিদ্ধান্তের পিছনে কোনও রাজনীতি নেই। আমাদের বিনিয়োগের মাত্রা নির্দিষ্ট, সেটা থেকে আমরা সেরা ফলটা পেতে চাইব। ২০১৫ আর ১৭ থেকে আমরা শিক্ষা নিয়েছি।”

২০০২ সালের পর থেকেই ব্রিটেনের সঙ্গে গুজরাতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ক্রমশ মজবুত হয়েছে। গুজরাতের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মস্তিষ্কপ্রসূত ভাইব্র্যান্ট গুজরাত সামিটে ব্রিটেনের অংশগ্রহণ সেই জোটকে আরও পোক্ত করেছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঝলমলে সামিটের আড়ালের অন্তঃসারশূন্যতা যে বেরিয়ে এসেছে, ব্রিটেনের সাম্প্রতিকতম সিদ্ধান্তই তার প্রমাণ।

এ কথা লিখে টুইট করেন রাহুল গান্ধীও।

এই বছরের গোড়ায় মার্কিন কনসাল জেনারেল এডগার ডি কিগানও বঢ়োদড়া সফরের পরে জানিয়ে দেন, আমেরিকা ও ভারতের মধ্যে পুরনো সমস্ত ব্যবসায়িক চুক্তির মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে সামিটে অংশগ্রহণ করবে না আমেরিকা।

ব্রিটেনের সঙ্গেও কি এরকম কোনও অমীমাংসিত চুক্তি রয়েছে গুজরাতের? ওই ব্রিটিশ কূটনীতিক জানান, “গুজরাতের সঙ্গে ব্রিটেনের এ যাবৎ যা ব্যবসায়িক চুক্তি ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক নির্মিত হয়েছে, তা এখনও পর্যন্ত যথেষ্ট পোক্ত। আমরা গুজরাতে অসাধারণ কিছু ব্যবসা করছি, সেখানে কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু সেটা আলাদা ব্যাপার। তার সঙ্গে ভাইব্র্যান্ট গুজরাতে অংশগ্রহণ করার সম্পর্ক নেই। এটা একেবারেই নির্দিষ্ট রাজ্যকে বড় করে তুলে ধরার একটি ইভেন্ট। এটা বাণিজ্যের জন্য লাভজনক নয়। তাই এতটা টাকা বিনিয়োগ করে এই ইভেন্টে অংশগ্রহণ করব না আমরা।”

সূত্রের খবর, গত বছর ১৬ মিলিয়ন পাউন্ডের পণ্য গুজরাতে রফতানি করার কথা ভেবে গুজরাতে তিনশ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের পণ্য রফতানি করেছিল ব্রিটেন। এবার লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে করা হয়েছে পাঁচশ মিলিয়ন পাউন্ড। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, ব্যবসার দিক থেকে কোনও সমস্যা নেই। নেই বাণিজ্যিক সম্পর্কেও।

ভাইব্র্যান্ট গুজরাতে এখনও পর্যন্ত অংশগ্রহণকারী দেশগুলি হল, মরিশাস, সিঙ্গাপুর, জাপান, কানাডা, চে, ডেনমার্ক, প্রান্স. নরওয়ে, পোল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, আরব ও উজবেকিস্তান।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More