মঙ্গলবার, জুন ২৫

বার বার বলা সত্ত্বেও ফোনের বিল জমা দিচ্ছেন না বরুণ, অভিযোগ বিএসএনএলের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভোটের ঠিক আগে পিলভিতের প্রার্থী বরুণ গান্ধীকে নিয়ে অস্বস্তিতে পড়ল বিজেপি। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিএসএনএল পিলভিত জেলা নির্বাচনী অফিসারকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, বরুণের থেকে টেলিফোন বিল বাবদ তাদের ৩৮ হাজার টাকার বেশি পাওনা আছে। বার বার বলা সত্ত্বেও তিনি বিল মেটাননি।

গত ৩০ মার্চ বিএসএনএল ওই চিঠি দেয়। তাতে বলা হয়েছে, বরুণের বকেয়া টেলিফোন বিলের পরিমাণ ৩৮ হাজার ৬১৬ টাকা। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে অত টাকা বিল হয়েছে। ওই সময় বরুণ পিলভিতের সাংসদ ছিলেন।

বিলের টাকা সরাসরি বরুণের থেকে আদায় করতে চায় বিএসএনএল। চিঠিতে তারা লিখেছে, লোকসভার সচিবালয়ের সঙ্গে আমাদের অনেকগুলি চিঠি আদানপ্রদান হয়েছে। আমাদের বলা হয়েছে, এমপিকেই ওই অর্থ দিতে হবে।

চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, বিএসএনএলের জেলা অফিস থেকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট না নিয়েই বরুণ পিলভিতে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় বিভিন্ন সরকারি দফতর থেকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট জমা দিতে হয়। না দিলে প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলও হয়ে যেতে পারে।

২০১৪ সালে বরুণ সুলতানপুর কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়েছিলেন। সেবার তাঁর মা মানেকা গান্ধী প্রার্থী হয়েছিলেন পিলভিতে। এবার মানেকা দাঁড়িয়েছেন সুলতানপুর থেকে। পিলভিতে ভোট হবে ২৩ এপ্রিল।

ভোটের আগে বেশ কয়েকবার বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন বরুণ। অনেকে ভেবেছিলেন, শীঘ্রই তিনি যোগ দিচ্ছেন কংগ্রেসে। কিন্তু পরে দেখা যায়, বিজেপি ভোটে প্রার্থী করেছে বরুণকে। তিনিও সুর বদলে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশকে যে সম্মান এনে দিয়েছেন, তার কোনও তুলনা নেই। এমনকী প্রাক্তন দুই প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও ইন্দিরা গান্ধীর চেয়েও মোদীকে উঁচু স্থান দেন তিনি। তাঁর কথায়, আমার পরিবারের অনেকে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু মোদীর মতো দেশকে তাঁরা সম্মানিত করতে পারেননি।

বরুণের বাবা সঞ্জয় গান্ধী একসময় কংগ্রেসের বড় নেতা ছিলেন। জরুরি অবস্থার সময় তাঁকে ঘিরে নানা অভিযোগ ওঠে। ওই সময়কার পুলিশি বাড়াবাড়ির জন্য সঞ্জয় অনেকাংশে দায়ী বলে বিরোধীরা অভিযোগ করেন। ১৯৮০ সালে বিমান দুর্ঘটনায় সঞ্জয়ের মৃত্যু হয়। তার পরে সঞ্জয়ের স্ত্রী মানেকা গান্ধীর সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে ইন্দিরার। পরে মানেকা ও সঞ্জয় দু’জনেই বিজেপিতে যোগ দেন।

Comments are closed.