কান পরিষ্কার করা কি আদৌ উচিত কাজ, জানলে চমকে যেতে হয়

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: কান পরিষ্কার করার জন্য সেফটিপিন থেক পাখির পালক, কলম থেকে কটন বাড অনেকেই অনেক কিছু ব্যবহার করেন। চুলের ক্লিপ থেকে দেশলাই কাঠি কিছুই বাদ যায় না। অনেকে তো আবার রাস্তার পাশে বসে পড়েন কান পরিষ্কার করার জন্য।

    কিন্তু জেনে রাখা দরকার এর সব ব্যবহার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তুলনামূলকভাবে নিরাপদ কটন বাড। কিন্তু সেটাও কম বিপজ্জনক নয়। হয়তো কয়েক দিন আগে খুলে রাখা প্যাকেট থেকে কটন বাড বের করে নিয়ে ব্যবহার করা হল। সেটা কিন্তু বেশ বিপজ্জনক৷ আর্দ্রতার কারণে প্যাকেট খুলে রাখা কটন বাডে ছত্রাক জন্মায়। সেটি ব্যবহার করলে কানে ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে৷ আর বিশেষজ্ঞরা বলেন কোনও কিছু দিয়েই কান পরিষ্কার করার দরকার নেই।

    কারণ, কান পরিষ্কার করার সময়ে কোনও কারণে হঠাৎ চমকে উঠলে অসতর্কতাবশত আঘাত লাগতে পারে৷ এমনকি কানের পর্দা ছিঁড়ে যেতে পারে৷ অনেক সময়েই কানের কোনও অসুখের জন্য কান চুলকায়, তবে কটন বাডের ব্যবহার অসুখের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।

    বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিশেষ কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া কান পরিষ্কারের আদৌ কোনও দরকারই নেই। প্রাকৃতিকভাবেই নিজস্ব কিছু প্রক্রিয়ায় কান পরিষ্কার হয়৷ যাঁরা নিয়মিতভাবে কান পরিষ্কার করেন, তাঁরা প্রাকৃতিকভাবে কান পরিষ্কার হওয়ার পদ্ধতিতে বাধা তৈরি করেন।

    জেনে রাখা দরকার যে, ত্বকের মৃত কোষ ও বাইরের ধুলোময়লা মিলে তৈরি হয় কানের খোল বা ওয়াক্স। প্রকৃতিগতভাবেই কানের সরুপথের ত্বক বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেখানে জমে থাকা তরল ও আঠালো খোলকে কানের বাইরে পাঠাতে ব্যস্ত থাকে। সেই সঙ্গে চোয়ালের অনবরত নড়াচড়া সাধারণভাবে কানে জমা খোলকে কান থেকে বের করে দেয়। এই দুই প্রক্রিয়ায় বেশির ভাগ লোকের কানে জমতে থাকা খোল বেরিয়ে যায়। কিন্তু যারা নিয়মিত পরিষ্কার করেন তাঁরা সেটা বুঝতে পারেন না। উল্টে তারা কিছু ক্ষতিই করেন।

    কান পরিষ্কার করার সময়ে কিছুটা ময়লা বের হলেও অনেকটাই ধাক্কা খেয়ে কানের সরুপথের গভীরে গিয়ে আটকে থাকে। তাই কানে চুলকানি বা অন্য কোনও সমস্যা হলেও কটন বাড দিয়ে কান পরিষ্কার করার কোনেও প্রয়োজন নেই। বরং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    চিকিৎসকরা বলেন, কানের ময়লা বা ‘সেরুমেন’ আমাদের কানকে রক্ষা করে। বাইরের ধুলো, বালি, নোংরা থেকে কানের ভিতরের অংশকে বাঁচায় এই ‘সেরুমেন’। শুধু তাই নয়, ব্যাক্টেরিয়া, ফাঙ্গাসের আক্রমণ থেকেও আমাদের কানকে বাঁচায় কানের ময়লা। মধ্যকর্ণ এবং অন্তঃকর্ণকে আর্দ্র এবং তৈলাক্ত রাখতে সাহায্য করে ‘সেরুমেন’। যখন ‘সেরুমেন’ শুকিয়ে যায় তখন মুখের পেশীর সঙ্কোচন-প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে নিজের থেকেই তা কান থেকে বেরিয়ে যায়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More