শুক্রবার, নভেম্বর ১৬

ট্রাই করুন কিছু ট্রিক, সহজেই স্বাদ বদলের ম্যাজিকে মজে যান

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একঘেয়ে কোনও কিছুই আমাদের না-পসন্দ। রান্নার ক্ষেত্রেও তাই। রোজ এক খাবার যেমন মুখে রোচে না, রোজ এক রান্না করতেও ভালো লাগে না। তখন নতুন নতুন উপায় ভাবলে ক্ষতি কী! তাতে রসনাতৃপ্তির সঙ্গে মনের আনন্দও সহজেই আসে। কিছু ট্রিক আমরা ট্রাই করলে যদি দেখি তা খাবারের রূপ, রং ও জেল্লা বাড়াতে সাহায্য করে তাহলে অসুবিধে তো নেই। চেষ্টা করে দেখুন আপনিও।
মন জয় করার সহজ রাস্তা পেটের মধ্যে দিয়ে যায়, এটা তো আমরা সবই জানি। আমাদের পাঁচ ইন্দ্রিয়কে সজাগ রাখতে দারুণ কাজে দেয় প্লেটে সাজানো পদ। যত সুন্দর আর ফ্রেশ দেখতে লাগবে, ততই খিদে পাবে। তার সঙ্গে খাবার তৈরির সময়ের আওয়াজ কানে গেলে তো কথাই নেই। আর ভালো গন্ধ পেলে জিভ থেকে জল ঝরতে শুরু করে। এ সবের মধ্যেই আপনার খিদে চনমনে হয়ে উঠতেই পারে প্লেটের পদ পেটে ভরার জন্য।


প্রথমেই আমরা স্যালাড নিয়ে যদি মাঠে থুড়ি প্লেটে নামি তাহলে কেমন হয়? আমরা রোজ একঘেয়ে স্যালাড খাই। সেটাকেই ফ্রেশ করে বানাতে তার রংকে বেশি করে কাজে লাগাব। সাধারণ শসা-টোম্যাটোর স্যালাডকেই আরও রঙিন করে তুলতে পারেন। শশা, টোম্যাটো আলাদা করে আগে নিয়ে তাতে নুন ও মরিচ দিয়ে হাল্কা নাড়াচাড়া করে লেটুস পাতা দিয়ে দিন। এতে একসাথে সব মেখে নেওয়ার বদলে আলাদা তো হলই, সঙ্গে লেটুস শেষে দেওয়ায় তার রূপ রস গন্ধে ভাঁটাও পড়ল না। আর টোম্যাটোর ঐ লাল রঙও প্লেটের দিকে আপনাকে টেনে নিয়ে গেল।

রান্নার সময়ে ফুটন্ত কড়া বা অন্য বাসনে অনেক সময়ে আমরা স্টিলের চামচ বা হাতা খুন্তি রাখি। তার বদলে রাখুন কাঠের হাতা খুন্তি। এতে রান্নার যে রস সেটা আরো টেস্টি হবে। কাঠের সাথে ফুটে। তাছাড়াও আপনি যখন সেগুলিতে হাত দেবেন দেখবেন অত গরমও লাগছে না। কাঠ তাপকে পরিবহণ করে না বলে গরমও লাগে না। তাহলে এক ঢিলে ২ পাখি। ট্রাই করে দেখুন।


অনেক সময়েই এক রান্না আমরা নতুন স্বাদে খেতে চাই। কী করবেন সেক্ষেত্রে! আলাদা কিছুই নয়। ফ্রিজে রাখা ধনেপাতা, পার্সলে ও পুদিনা এক্ষেত্রে আপনার কাজে দেবে। মাছ, মাংস বা ডিম অথবা হোক না নিরামিষ কোনও পদ—নামানোর আগে কড়াইতে দিয়ে দিন ওই সব হার্ব। রান্নার চেহারার সঙ্গে সাথে স্বাদ গন্ধেও একঘেয়েমি কেটে যাবে।

পেঁয়াজের নিজস্ব গন্ধ সব রান্নাতেই কম বেশি তার রেশ রাখে। কিন্তু আপনি যদি পেঁয়াজের চড়া স্বাদ বা গন্ধ না চান, তা হলে আপনি চাইলেই একটা ব্যবস্থা করতে পারেন। যে কোনও রান্নায় ব্যবহারের আগে পেঁয়াজ কেটে জলে চুবিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ। আর তারপর সেটা কোনো পাতলা কাপড় বা টিস্যুতে ছড়িয়ে কিছুক্ষণ রেখে রান্নায় দিন। দেখবেন, অনেকটা আপনি যেমন চান তেমন হাল্কা স্বাদ গন্ধ পাবেন।


আজকাল সকলেই খুব ফিগার সচেতন। আমরা তাই তেল মেপে খাই। কিন্তু রোজকার রান্নায় কতটাই বা তেল মাপা যায়? লঙ্কা পেঁয়াজ ভেজে তুললে সেই তেল ফেলে দিতেও তো গা কড়কড় করে এই দুর্মূল্যের বাজারে। সহজ উপায় ওই তেল চাইলেই আমরা ভাত ভাজা বা ডিমকারি রান্নায় ব্যবহার করতে পারি। তাতে তেলও কাজে এল আর লঙ্কা পেঁয়াজ না ব্যবহার করেও সেই গন্ধটা পেলাম খাবারে।

মাংস বা মুরগি রান্নার পরে কড়াইতে যা কিছু লেগে থাকে তাও যদি ব্যবহার করতে চান তাতে ঢেলে দিন অল্প ওয়াইন বা মাংস সেদ্ধ করা জল। আপনার শস রেডি। অন্যরকম অথচ সহজলভ্য এই শস একবার ট্রাই করে দেখতেই পারেন। সবসময়েই আপনি যে কোনো তরকারি তৈরির পরে এই ট্রিকটা ট্রাই করতে পারেন তাতে আপনার জিভ মাঝেমধ্যেই অন্য স্বাদ পাবে সহজেই।

মাংসের কথা হচ্ছে যখন, আমরা ঝোল ঝাল ছাড়াও স্যান্ডউইচ থেকে স্যালাডে ব্যবহার করতে পারি মাংস। শুধু স্যান্ডউইচ হলে অবশ্যই তাতে কিছু সব্জিও জুড়ে দিন। আপনার পুষ্টিগুণ থেকে পেটভরা সবই হবে একসাথে। মটরশুঁটি বা বিনস্ কড়ায় দিয়ে হাল্কা নেড়ে নিন নুন মশলা দিয়ে, তাতে দিন উপরে বলা গ্রেভি বা শস। আপনার জন্য তৈরি নতুন স্বাদ। 

স্যালাড বা স্যান্ডউইচ জাতীয় খাবারে যে চিকেন বা পর্ক ব্যবহার করছেন তাকে আরো একটু নরম তুলতুলে করতে চাইলে আরেকটা কাজ করতে পারেন। ব্যবহারের আগে টুকরোগুলো নুনজলে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। দেখুন কেমন জাদু হয় তাতে। এতে আপনার টেস্টবাডও খুশি আর আপনিও কারণ এই নুনজলের স্নানে ওই অ্যানিম্যাল প্রোটিনের ফ্যাট অনেকটাই কেটে যাচ্ছে।

নুন খেলে নাকি মানুষ গুণ গায়। অন্তত শীতকালে আপনার ত্বকের সাথে যখন শাকসব্জিও তাদের জেল্লা হারায় তখন তাদের পাতে ব্যবহারের আগে শশা, লেটুস, বাঁধাকপি,পার্সলেদের গায়ে হাল্কা নুন ছড়িয়ে দিন। তারপর কাটা সবজি বা পাতাকে কিছুক্ষণ জল ঝরাতে দিন। দেখুন সবজি থেকে জল বেরিয়ে আসার পরে কেমন তরতাজা করে থাকে সেগুলো।
আহারে বাহার আনতে এটার সঙ্গে ওটা চালিয়ে দেখুন কেমন লাগে। সহজ করে বলি। চিকেন স্যুপে নিন ফিশ সস, আর আঙুল থুড়ি চামচ চাটতে থাকুন। হতেই পারে এই শীতকালে আপনি আর মেনুই বদলালেন না।আবার চাইলে আপনি সমপরিমাণ সাদা ভিনিগার এবং চিনি কড়ায় দিয়ে ফোটাতে থাকুন। এরপর সেটা নামিয়ে অ্যাড করুন মনপসন্দ ফ্লেভার। ব্যাস মনখারাপ কেটে যাবে নিমেষেই।

বাড়িতে রেখে দেওয়া অনেক পুরোন সস খুব পাতলা ট্যালটেলে হয়ে গেলে সেটা চওড়া কোনো পাত্রে দিয়ে হাল্কা ফোটান আর সেটায় থাকা অতিরিক্ত জল বাষ্প হতে দিন। তৈরী আপনার মনের মতো সস।

নুনের যেমন গুণ তেমন মরিচেরও। ডিম হোক বা স্যালাড আপনার টেস্টবাডকে তরতাজা করতে চাইলে ছড়িয়ে দিন মরিচ। দেখুন কেমন রুচি আসে মুখে।

বিট খেতে আমরা অনেকেই ভালোবাসি না। অথচ স্বাস্থ্যকর এই সব্জির জন্য আপনি অন্যরকম কিছু ভাবেননি। এক চামচ করে তেল ও ভিনিগার মিশিয়ে তাতে বিটটা রাখুন আর ছড়িয়ে দিন নুন ও মরিচ। এরপর সেটা ৪০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে আভেনে ঘুরিয়ে নামিয়ে নিন। ঠাণ্ডা হওয়ার পর খেয়ে নিন। দেখুন তো এই বিটরোস্ট ভালো লাগে কি না!

বাড়িতে আজকাল অ্যাপেল সিডার ভিনিগার প্রায় সকলেই রাখেন স্বাস্থ্য সচেতন বলে, রান্নার সময়ে এই ভিনিগার জলে মিশিয়ে রান্না করুন দেখুন বাড়িতে কেমন সুগন্ধ হয়। অর্থাৎ হাতের কাছে রাখা জিনিসেই আপনার রসনাতৃপ্তির বাসনা মিটছে। তাই এই শীতে এই ঘরোয়া উপায়গুলো ট্রাই করুন আর ওজন আয়ত্বে রেখেই একঘেয়েমি থেকে বাঁচুন।

 

Shares

Comments are closed.