বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৩
TheWall
TheWall

প্রত্যাঘাতের আশঙ্কায় মার্কিন নাগরিকদের ইরান ছাড়তে বলল ওয়াশিংটন

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই বাগদাদে রকেট হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল কাশেম সোলেমানিকে, একথা জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

সোলেমানির মৃত্যুর পরে মার্কিন নাগরিকদের ‘অবিলম্বে’ ইরান ছাড়তে অনুরোধ করেছে ওয়াশিংটন ডিসি কারণ তারা মনে করছে ইরান তাদের উপরে ‘কঠোর প্রতিশোধ’ নিতে পারে। ইতিমধ্যেই এই হত্যাকে ভয়ানক অপরাধ বলে অভিহিত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রৌহানি।

আরও পড়ুন: ভয়ঙ্কর জবাব পাবে আমেরিকা, সোলেমানির মৃত্যুর পর চরম হুঁশিয়ারি ইরানের

ইরান যে এই হামলার বদলা নেওয়ার চেষ্টা করবে সে কথা মার্কিন প্রশাসন জানে। তাই সম্ভাব্য সাইবার হানা ও ‘জঙ্গি হামলা’ রুখতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করে ফেলেছে ওয়াশিংটন ডিসি। সম্ভাব্য ইরানি হামলার ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে ইজরায়েলও। পরিবর্তিত পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে গ্রিস সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। বাগদাদে মার্কিন হামলার নিন্দা করে রাশিয়া বলেছে, এই ঘটনা উপসাগরীয় অঞ্চলে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেবে।

বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যখন সোলেমানিকে নিয়ে কনভয় সবেমাত্র বার হয়েছে তখনই তার উপরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউ-৯ ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে। ক্ষেপণাস্ত্র হানায় সোলেমানির সঙ্গে ইরাকি প্রটোকল অফিসার-সহ বেশ কয়েকজন ইরাকি আধিকারিকের মৃত্যু হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ডস কর্পস অধীন যে শক্তিশালী কুদস ফোর্স ছিল, তারই নেতা ছিলেন সোলেমানি। তাঁর সঙ্গে যে ইরাকি আধিকারিকদের মৃত্যু হয়েছে তাঁদের তেহরানের মদতপুষ্ট ইরাকি জঙ্গি বলে বর্ণনা করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলি।

বিগত দুই দশক ধরে ইরানের গোয়েন্দার দায়িত্বে ছিলেন সোলেমানি। তাঁকে হত্যা করা হয়েছে যথেষ্ট কৌশলী ভাবেই।

আরও পড়ুন: বাগদাদ বিমানবন্দরে এয়ারস্ট্রাইক আমেরিকার, ইরানের সেনাপ্রধান-সহ নিহত অন্তত আট

গত বছর ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে ইরাকে একজন মার্কিন ঠিকাদারের মৃত্যুর পর থেকেই ইরানের সঙ্গে টানাপোড়েন বাড়ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের।

সিরিয়ায় সমস্যা শুরু হওয়া ইস্তক সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাসর-আল-আসাদকে যেসব নেতা রক্ষা করে আসছেন তাঁদের অন্যতম ছিলেন সোলেমানি। সিরিয়া ও ইরানের মধ্যে সুসম্পর্কের ব্যাপারে তাঁর উদ্যোগ ছিল। সিরিয়াই বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠী, আঞ্চলিক শক্তি এমনকি রাশিয়াকে পর্যন্ত সঙ্গে নিয়েছে বলে মনে করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম। তার ফলেই এই ভৌগোলিক অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করে ইরাক যুদ্ধের সময় ইরাকি জঙ্গিদের মদত দিয়েছিলেন সোলেমানি। তিনিই তাদের আধুনিক বোমা তৈরির সরঞ্জাম সরবরাহ করেছিলেন এবং প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। ইরাক যুদ্ধে শত শত মার্কিন সেনার মৃত্যুর জন্য তাই সোলেমানিকে দায়ী করে আমেরিকা।

Share.

Comments are closed.