বুধবার, অক্টোবর ১৬

সরকারি সুবিধা নিলে আমেরিকায় স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাবেন না অভিবাসীরা, কড়া ট্রাম্প

দ্য ওয়াল ব্যুরো : সোমবার আরও কড়া অভিবাসন নীতি ঘোষণা করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাতে লক্ষ লক্ষ অভিবাসীর আমেরিকার নাগরিকত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেল। মূলত দক্ষিণ আমেরিকার স্প্যানিশ ভাষাভাষী দেশগুলি থেকে যে দরিদ্র মানুষজন আমেরিকায় এসে জীবিকা নির্বাহ করেন, তাঁরাই নতুন অভিবাসন নীতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সবচেয়ে বেশি। তাঁদের আর স্থায়ীভাবে সেদেশে বসবাসের অধিকার দেওয়া হবে না।

ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, যে অভিবাসীরা ফুড স্টাম্প, সরকারি চিকিৎসা ও অন্যান্য কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা নেন, তাঁরা আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার পাবেন না। বিদেশ থেকে যাঁরা বেআইনিভাবে আমেরিকায় এসেছেন, অদক্ষ শ্রমিক হিসাবে জীবিকা অর্জন করেন, তাঁরা যাতে সেদেশে বাস করার আইনি অধিকার না পান, সেজন্যই নতুন অভিবাসন নীতি ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। তাতে বলা হয়েছে, যদি দেখা যায়, কোনও বিদেশি আমেরিকায় এসে সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারেন, তাঁকে দেশে ঢুকতেই দেওয়া হবে না। যাঁরা ইতিমধ্যে আমেরিকায় এসেছেন, কিন্তু জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা নেন, তাঁরা স্থায়ী বসবাসের অধিকার পাবেন না।

হোয়াইট হাউস থেকে বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেছেন, আমেরিকার নাগরিকরা যে সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন, তা যদি রক্ষা করতে হয়, তাহলে অভিবাসীদের স্বনির্ভর হতে হবে। আমাদের দেশের নাগরিক নন, এমন বিরাট সংখ্যক মানুষ ও তাঁদের পরিবার আমাদের উদার জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন। আমাদের আয়ে ভাগ বসাচ্ছেন। তাঁরা না থাকলে আমেরিকার নাগরিকরা আরও বেশি সুবিধা পেতেন।

আমেরিকায় এখন ২ কোটি ২০ লক্ষ বিদেশি আইনিভাবে বসবাস করেন। তাঁরা নাগরিকত্ব পাননি। তাছাড়া ১ কোটি ৫ হাজার বেআইনি অভিবাসী আছেন। তাঁরা অনেকেই আমেরিকায় দীর্ঘদিন বাস করছেন। হোয়াইট হাউসের বক্তব্য, যে বিদেশিরা নাগরিকত্ব পাননি, তাঁদের অর্ধেকই সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ করেন। বিদেশিদের ৭৮ শতাংশ পরিবারের কর্তা হাইস্কুলের গণ্ডি পেরোননি। তাঁরা কোনও না কোনও কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা নেন।

Comments are closed.