ইরানের ভুল হামলার জেরে তেহরানে ভেঙে পড়েছে বিমান! দাবি করল আমেরিকা, রাষ্ট্রসঙ্ঘের দ্বারস্থ ইউক্রেন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তেজনার আঁচ ক্রমেই বাড়ছে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে। আঘাত-প্রত্যাঘাতে যুদ্ধের দামামা বাজছে। এর মধ্যেই বুধবার তেহরানের আকাশে ইউক্রেনের যে যাত্রিবাহী বিমানটি ভেঙে পড়ে, সেটি ইরানেরই দায় বলে দাবি করল আমেরিকা। জানা গেছে, মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় ১৭৬ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আমেরিকার অভিযোগ, ইরানই ভুল করে ধ্বংস করেছে সেটি।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলি জানিয়েছে, উপগ্রহ, রাডার ও বৈদ্যুতিন যন্ত্রসমূহ থেকে যে তথ্য পাওয়া গেছে তা ইঙ্গিত করছে, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ওই বিমান দুর্ঘটনার কারণ হতেই পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, “আমার মনে হয়, বিমানটি হয়তো কোনও স্পর্শকাতর এলাকায় ঢুকে পড়েছিল। তখনই কেউ ভুল করে কিছু করে ফেলেছে। প্রযুক্তিগত গন্ডগোল নয়, কোনও বড় ভুল হয়েছে বলে মনে হয় আমার।” এভাবেই নাম না করেও ইরানকে বিঁধেছেন ট্রাম্প।

    একই সুরে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। তিনি জানিয়েছেন, ইরানই ওই বিমানটিতে হামলা চালিয়েছিল। একাধিক গোয়েন্দা সূত্র এমনই বলছে বলে দাবি তাঁর। বিমানটিতে ৬৩ জন কানাডার নাগরিক ছিলেন। গোয়েন্দা বিভাগের মতে, ইরান থেকে আকাশে ওড়া ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করা হয়েছিল বিমানটিকে। হয়তো ভুল করেই এমনটা ঘটে গেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও এমনই দাবি করেছেন। তবে এই হানা ইরান ভুল করে করেছে বলেও মনে করেন তিনি। তাই পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন বরিস জনসন।

    এই সমস্ত দাবি অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। তাদের হামলার অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে জানিয়ে দিয়েছে তারা। এও জানিয়েছে, তেহরান বিমানবন্দর থেকে বিমান নিয়মিত উড়ছে। নির্দিষ্ট একটি বিমান তারা ভুল করে ধ্বংস করে দিয়েছে, এমনটা অবাস্তব ধারণা। ইরানের মন্ত্রী আলি আবেদজাদেহ বলেছেন, ঘটনাস্থলে পাওয়া ব্ল্যাকবক্স থেকে দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বার করার চেষ্টা চলছে। তথ্যগুলি যাচাই করতে ফ্রান্স বা অন্য কোনও দেশের সহায়তা নেওয়া হতে পারে বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, কানাডার কাছে এ বিষয়ে কোনও তথ্য থাকলে তারা যেন ইরানকে জানায়।

    অন্যদিকে দুর্ঘটনার তদন্তের জন্য রাষ্ট্রসঙ্ঘের দ্বারস্থ হয়েছে ইউক্রেনও। ইউক্রেনের ৪৫ সদস্যের একটি দল তেহরানে গিয়েছে। এই দুর্ঘটনার বিষয়ে যে কোনও দেশের কাছে কোনওরকম নিশ্চিত তথ্য থাকলে, তা তাদের জানানোর আবেদন করেছে ইউক্রেন।

    গত সপ্তাহে বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে মার্কিন এয়ারস্ট্রাইকে নিহত হন ইরানের শীর্ষ কম্যান্ডর জেনারেল কাসেম সোলেমানি। তখনই প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছিল ইরান। তারপর মঙ্গলবার রাতে ইরাকের দু’টি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে পরপর ব্যালেস্টিক মিসাইল ছোড়ে তারা। বুধবার রাতেও হামলা চালায় ইরান। ওই দিনই তেহরান থেকে আকাশে ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইউক্রেনের এক যাত্রিবাহী বিমান ভেঙে পড়েছিল। এর পরেই চাঞ্চল্যকর দাবি ওঠে, ইরানের ভুলে ধ্বংস হয়েছে বিমানটি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More