সোমবার, নভেম্বর ১৮

যাদবপুর-কাণ্ডে কদর্য মিম ঊর্মিমালাকে নিয়ে! ক্ষমা চাইলেন বাবুল, ফের করলেন আক্রমণ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাচিকশিল্পী ঊর্মিমালা বসুর ছবি দিয়ে কদর্য মিম তৈরির নিন্দায় ফেটে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। কবি, বুদ্ধিজীবী, অভিনেতা, গায়ক– একটা বড় অংশ গর্জে উঠেছেন প্রতিবাদে। যাদবপুর কাণ্ডের জেরে প্রাক্তনী হিসেবে তিনি যে মত প্রকাশ করেছেন, তার জেরেই তাঁকে নিয়ে এই অশ্লীল আচরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ বিজেপি-র সমর্থকদের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদে জমায়েতেরও ডাক দিয়েছে কিছু সংগঠন। এ সবের মধ্যেই মঙ্গলবার সকালে ঊর্মিমালা বসুকে উদ্দেশ্য করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষমা চান বাবুল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরেই ঊর্মিমালাকে ফের পাল্টা আক্রমণ করলেন বাবুল নিজেই।

সমালোচনার ঝড় দ্বিগুণ হয়েছে বাবুলের দ্বিতীয় পোস্টের পরে।

গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। সেখানেই তাঁর ঢোকা নিয়ে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ, তাঁর উপর আক্রমণ করেন ছাত্রছাত্রীরা। তাঁর চুল ধরে টানেন, তাঁর জামা ছিঁড়ে দেন। পড়ুয়াদের অবশ্য পাল্টা অভিযোগ, তাঁরা শান্তিপূর্ণ ব্যারিকেড করেছিলেন, বাবুল ও তাঁর রক্ষীরাই আগে আক্রমণ করে।

ঘটনার জেরে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল গোটা যাদবপুর চত্বর। আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয় চার নম্বর গেটের সামনে। ভাঙচুর করা হয় ইউনিয়ন রুম। কয়েক জন ছাত্রকে ভর্তি করতে হয় হাসপাতালেও।

এই ঘটনার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মত-পাল্টা মত শুরু হয়। তাণ্ডবের বিরুদ্ধে নিন্দা করেন বহু মানুষ। প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে তীব্র ধিক্কার জানিয়ে সমর্থন করেছেন ছাত্রছাত্রীদের। আর সেই তালিকাতেই ছিলেন বাচিক শিল্পী ঊর্মিমালা বসুও। যাদবপুরের পড়ুয়াদের সমর্থনে মুখ খুলেছিলেন তিনি। অন্য এক জনের একটি লেখা নিজের ওয়ালে পোস্ট করেছিলেন।

সেই পোস্টে তিনি বলেন, “বাবুলের উচিত বাচ্চাগুলোর কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া।” যার জেরে পাল্টা ঊর্মিমালা বসুকেও ক্ষমা চাইতে বলা হয় বাবুলের কাছে। কিন্তু তিনি চাননি। ক্ষমা না চাওয়ার পর থেকেই কদর্য ভাষায় আক্রমণ করা শুরু হয় ঊর্মিমালা বসুকে। সোশ্যাল মিডিয়ার ওই কুরুচিকর মিমের বিরুদ্ধেই এফআইআর দায়ের করছেন শিল্পী ঊর্মিমালা বসু। উল্লেখ্য, কুরুচিকর ওই মিমে ঊর্মিমালা বসুকে ‘যৌনদাসী’ বলা হয়। এর প্রতিবাদে নিন্দার ঝড় বয়ে গিয়েছে গোটা রাজ্য জুড়ে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও সেই ঝড়েরই প্রতিফলন।

ঊর্মিমালা নিজে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, ‘‘বাবুলের সঙ্গে আমাদের বহু বার বিভিন্ন সময়ে নানা অনুষ্ঠানে দেখা হয়েছে। সব সময় সুন্দর ভাবে কথা বলেছেন। সেটা ব্যক্তিগত সম্পর্ক। ওঁর সঙ্গে রাজনৈতিক অবস্থানে আমার মতপার্থক্য আছে। থাকতেই পারে। রাজনৈতিক ভাবে তিনি কী করবেন বা বলবেন, সে ব্যাপারে আমার কোনও মতামত নেই।’’

একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এই ৭৩ বছর বয়সে আমাকে নিয়ে যাদের নোংরা কথা বলতে আটকায় না, তাদের সামনে ছাত্রছাত্রীরা আরও বেশি বিপন্ন, আমার কাছে সেটাই দুশ্চিন্তার। ছোটদের, যারা আমার নাতিনাতনির বয়সি তাদের সাবধানে থাকতে বলি। আর সবাইকে বলি, এই অসভ্য রুচিহীনদের বেশি গুরুত্ব না দিতে। আমার কোনও ভয় নেই। জীবনের উপান্তে এসে এই নোংরামি আর অসভ্যতা বেদনাদায়ক, এই যা।’’

মঙ্গলবার সকালেই ঊর্মিমালা বসুর প্রতি আক্রমণের তীব্র নিন্দা করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় নিজে। প্রতিবাদ করে ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, “এই ধরনের আচরণ একেবারেই কাম্য নয়৷ আমি ওঁকে ব্যক্তিগত ভাবে চিনি৷ যাদবপুর কাণ্ডে উনি যা বলেছেন তাঁর উত্তর আমি দেব যথা সময়ে৷ কিন্তু এই ধরনের নোংরা মিম একেবারেই সমর্থনযোগ্য নয়।” দেখুন সেই পোস্ট।

কিন্তু এই পোস্ট করার ঘণ্টা তিনেক পরেই ফের একটি পোস্ট করেন তিনি। যেখানে ঊর্মিমালা বসুকে ‘জন্মান্ধ’ বলে আক্রমণ করে, পক্ষপাতের অভিযোগ আনেন তিনি। দেখুন সেই পোস্টটিও।

Comments are closed.