রবিবার, জুন ১৬

সাংবাদিককে মার, মুখে প্রস্রাব করে দিল রেল পুলিশ

দ্য ওয়াল ব্যুরো : মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশের শামলি জেলায় একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছিল। সেই খবর কভার করতে গিয়ে রেলপুলিশের হাতে বেধড়ক মার খেলেন এক সাংবাদিক। শুধু তাই নয়, মারধরের পর তাঁর মুখে প্রস্রাব করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। গত সপ্তাহেই উত্তরপ্রদেশে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের মানহানি করার অভিযোগে পাঁচ সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়। তা নিয়ে নিন্দার ঝড় ওঠে নানা মহল থেকে। এরপরে ফের ওই রাজ্য থেকে সাংবাদিক নিগ্রহের কথা শোনা গেল।

অভিযোগকারী সাংবাদিকের নাম অমিত শর্মা। তিনি নিউজ ২৪ নামে এক টিভি চ্যানেলের সঙ্গে যুক্ত। ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেছেন, আরপিএফ কর্মীরা সাদা পোশাকে ছিল। একজন আমার ক্যামেরায় আঘাত করল। তারপর আমাকে ঘিরে শুরু হল মার। আমার জামাকাপড় ছিঁড়ে দেওয়া হল। আমাকে লক আপে পুরে দেওয়া হল। আমার মুখে প্রস্রাব করে দেওয়া হল।

অমিত যখন ট্রেনের লাইনচ্যুত হওয়ার ছবি তুলছিলেন, তখন রেলপুলিশের লোকেরা তাঁকে যথেচ্ছ লাথি, ঘুষি মারে বলে অভিযোগ। তাঁর ক্যামেরা ও মোবাইলও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পরে স্থানীয় আরও কয়েকজন সাংবাদিক রেলপুলিশের কর্তাদের সঙ্গে দেখা করেন। সাংবাদিককে মারধরের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দেওয়া হয়। বুধবার সকালে অমিতকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, অমিত শর্মা থানা লক আপের মধ্যে রয়েছেন। সেখান থেকে সহকর্মীদের বলছেন, কী হয়েছিল। তিনি বলেছেন, ১০-১৫ দিন আগে রেল পুলিশের ওপরে খবর করেছিলেন। সেই খবরের ফুটেজ ছিল আমার মোবাইল ফোনে।

পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় সাংবাদিক নিগ্রহের ভিডিও তাদের নজরে এসেছে। রেল পুলিশের এক স্টেশন হাউস অফিসার ও এক কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করা হয়েছে ইতিমধ্যে। উত্তরপ্রদেশের ডিজি ও পি সিং বলেন, আমরা একটি ভিডিও ক্লিপ দেখেছি যাতে এক সাংবাদিককে মারধর করতে দেখা গিয়েছে। শামলিতে জিআরপি-র স্টেশন হাউস অফিসার রাকেশ কুমার ও কনস্টেবল সঞ্জয় পাওয়ারকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই ওই ভিডিও দেখে মন্তব্য করেছেন, উত্তরপ্রদেশে সাংবাদিকরা এমনই নির্যাতনের শিকার হন। এর আগে মঙ্গলবার যোগীর মানহানির দায়ে অভিযুক্ত সাংবাদিককে ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তাতে অস্বস্তিতে পড়ে উত্তরপ্রদেশ সরকার।

Comments are closed.