মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৩

পুলওয়ামা-কাণ্ডের তীব্র নিন্দা করে জইশকে দুষল রাষ্ট্রসঙ্ঘ, আপত্তি তুলল চিন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাশ্মীরের সাম্প্রতিক জঙ্গি হানা প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ উল্লেখ করল জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই- হম্মদের নাম। তাদের নাম উল্লেখ করে হামলাত তীব্র নিন্দা করে তারা। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে চিনের তরফে জানানো হয় আপত্তি। সূত্রের খবর, চিন দাবি করে, যাতে জইশের নাম উল্লেখ করা না হয়।

এক বিবৃতিতে রাষ্ট্রসঙ্ঘ বলেছে, “কাপুরুষের মতো আঘাত হেনে কাশ্মীরে চল্লিশেরও বেশি সিআরপিএফ জওয়ানকে হত্যা করা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদ কড়া ভাষায় এই হামলার বিরোধিতা করছে। ঘটনার দায়  নিয়েছে জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ।” নিরাপত্তা পরিষদের সমস্ত সদস্য-রাষ্ট্রকে নিজেদের বাধ্যবাধকতাকে দূরে সরিয়ে রেখে ভারত সরকারকে সাহায্য  করতে হবে বলেও জানানো হয় বিবৃতিতে।

কিন্তু সূত্রের খবর, এই  বিবৃতি আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল চিন। আটকানো সম্ভব না হলে বিবৃতিতে অন্তত কয়েকটি পরিবর্তনের কথা  তারা বলেছিল। প্রথমত, বিবৃতিতে  জইশের নাম থাক  সেটা চিন মোটেই চায়নি। তা ছাড়া ঘটনাটি কাশ্মীরে ঘটেছে এটা লেখা  নিয়েও আপত্তি ছিল চিনের। তারা চেয়েছিল, ‘ভারত শাসিত কাশ্মীর’ কথাটা লেখা হোক। এ ছাড়াও ভারত সরকারকে সাহায্য করার বিষয়টিকে বাধ্যতামূলক না করে আবেদন হিসেবেই পেশ করতে চেয়েছিল চিন। তবে  সেটা  হয়নি।

শুধু পুলওযামা কাণ্ডের পরে নয়, চিন বরাবরই যে কোনও ইস্যুতে পাকিস্তানের পাশে থাকে। এর আগেও এই ধরনেরই অবস্থান নিয়েছে বেজিং। আদতে শেষ তিন বছর ধরে  চিনের আপত্তিতেই  পুলওয়ামা-সহ ভারতে হয়ে যাওয়া একাধিক জঙ্গি হানার মূল চক্রী মৌলানা মাসুদ আজাহারকে রাষ্ট্রসঙ্ঘ ঘোষিত জঙ্গির তকমা দেওয়া  যাচ্ছে না। তবে পুলওয়ামার হামলার পর নিহত জওয়ানদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছিল চিন।

হামলার পর থেকেই পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাপে ফেলার চেষ্টা করছে ভারত। বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে এ ব্যাপরে জানিয়েছে তারা। পাশাপাশি বিশেষ বাণিজ্যিক  তকমা  ফিরিয়ে  নিয়েছে দিল্লি। পাকিস্তান  থেকে  ভারতে আসা যে কোনও জিনিসের উপর ২০০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপান হয়েছে।

তবে হামলার সঙ্গে তাদের কোনও রকম  দায় আছে  বলে এখনও মানতে রাজি হয়নি পাকিস্তান। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান জানিয়েছেন, জঙ্গি হামলার সঙ্গে  পাকিস্তান জড়িত এমন কোনও প্রমাণ ভারতের কাছে  নেই। তবু তারা পাকিস্তানকে  অভিযুক্ত করছে।

Shares

Comments are closed.