কুলদীপ সেঙ্গারের বিরুদ্ধে রায় দেবে আদালত, তার আগেই নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন সেই উন্নাওতেই

আজ, বৃহস্পতিবার সেই মামলার রায় বেরোনোর কথা। তার ঠিক আগেই সেই উন্নাও থেকেই খবর এল, ১২ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: উন্নাওয়ের প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া গণধর্ষণ মামলার রায় বেরিয়েছে আগেই। তার পরে জানা গেছে, ধর্ষিতার বাবাকে পিটিয়ে মারার ঘটনাতেও অভিযুক্ত সেঙ্গার। আজ, বৃহস্পতিবার সেই মামলার রায় বেরোনোর কথা। তার ঠিক আগেই সেই উন্নাও থেকেই খবর এল, ১২ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। অভিযুক্ত যুবককে খুঁজছে পুলিশ।

    পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার অর্থাৎ হোলির দিনে যখন গ্রামবাসীরা সকলে উৎসবে মেতে ছিলেন, তখনই সকলের চোখের আড়ালে নিয়ে গিয়ে এক নাবালিকাকে উপর্যুপরি ধর্ষণ করে অভিযুক্ত যুবক। এর পরে তার গলা টিপে খুন করার চেষ্টা করে অভিযুক্ত। বালিকা অজ্ঞান হয়ে গেলে, খুন হয়েছে ভেবে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় ধর্ষক যুবক। পরে ধর্ষিত ও অচেতন অবস্থায় নাবালিকাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে গ্রামবাসীরা। অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় কানপুরে। কিন্তু প্রাণে বাঁচেনি মেয়েটি। মারা যায় মঙ্গলবার রাতেই।

    গত বছরের শেষের দিকেই একের পর এক গণধর্ষণের ঘটনা সামনে আসে উন্নাও থেকে। ধর্ষণের রাজধানী হয়ে ওঠে উত্তরপ্রদেশের এই জেলা। এক তরুণীকে গণধর্ষণ করার পরে তিনি আইনের দ্বারস্থ হলে তাঁকে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিজেপির প্রাক্তন বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তরুণীকে গণধর্ষণ করে তাঁর পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা করেছেন পরপর। গাড়ি চাপা দিয়ে খুন করতে চেয়েছেন ধর্ষিত তরুণীকেও।

    সেই কুলদীপ সেঙ্গারকে গত ১৬ ডিসেম্বর দোষী সাব্যস্ত করেছিল দিল্লির তিস হাজারি আদালত। তার চার দিন পরে সাজা শোনান বিচারক। যাবজ্জীবনের সাজা এবং ২৫ লক্ষ টাকা জরিমানা হয় কুলদীপ সেঙ্গারের।গত বছর ৩ অক্টোবর সিবিআই এই ধর্ষণ মামলার চার্জশিট পেশ করে। সেখানে জানা যায়, নির্যাতিতাকে ২০১৭ সালে অপহরণ করে টানা ন’দিন ধরে ধর্ষণ করা হয়।

    মেয়ের সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ জানিয়ে ন্যায়বিচারের জন্য পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কিশোরীর বাবা। তারপরেই তাঁর নামে অস্ত্র আইনে মামলা রুজু হয়। গ্রেফতারও হন তিনি। তবে তিনি অভিযোগ জানান, প্রকাশ্যেই তাঁকে বেধড়ক মারধর করেছিল কুলদীপ সেঙ্গারের ভাই অতুল সিং। কেউ একবারও বাধা দেয়নি অতুলকে। কিশোরীর বাবাকে বাঁচানো তো দূরের কথা। বুকে এবং পেটে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন বলেও জানিয়েছিলেন উন্নাওয়ের ধর্ষিতা কিশোরীর বাবা।

    গ্রেফতারির পর জেলে যাওয়ার আগে মেডিক্যাল চেকআপের জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল কিশোরীর বাবাকে। আচমকাই পেটে প্রবল যন্ত্রণা শুরু হয় তাঁর। মারাও যান ওই ব্যক্তি। পরে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা যায়, অন্ত্র ফুটো হয়ে গিয়েছিল রোগীর। তার জেরেই রক্তে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। সারা শরীরে পাওয়া গিয়েছিল ১৪টি আঘাতের চিহ্ন। শুধু তাই নয়, উন্নাওয়ের ধর্ষণ-কাণ্ডের শুনানির ঠিক আগের দিনই রহস্যজনক ভাবে মারা গেছিলেন কিশোরীর বাবার শুশ্রূষা করা চিকিৎসক প্রসান্ত উপাধ্যায়।

    মার্চ মাসের চার তারিখে আদালত জানায়, ধর্ষিতার বাবার উপর হামলায় অভিযুক্ত কুলদীপ সেঙ্গার এবং তার ভাই। অভিযোগ জানিয়েছিলেন কিশোরীর বাবা নিজেই। সেই অভিযোগেই এবার দোষী সাব্যস্ত হয়েছে কুলদীপ সেঙ্গার।

    তারই রায় দেবে আজ আদালত। কিন্তু আদতে উন্নাওয়ের অবস্থা যে সেই তিমিরেই রয়েছে, তারই প্রমাণ মেলে ফের ১২ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুন করার ঘটনা সামনে আসতে। অভিযোগ উঠেছে, একের পর এক ঘটনা ঘটে গেলেও আদতে কোনও নড়চড় নেই প্রশাসনের অন্দরে। বেশিরভাগ ঘটনায় পুলিশ অভিযোগ পর্যন্ত নেয় না, ফলে সামনে আসে না বহু ঘটনা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More