কোভিড রোগীর মৃদু বা মধ্যম উপসর্গ থাকলে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন, খোলসা করল স্বাস্থ্যমন্ত্রক

এদিনও স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ভারতে কোভিড ১৯ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার হার বাড়ছে। সোমবার এই হার ৩১.১৫ শতাংশ। এই হারের ক্রমাগত বৃদ্ধি যথেষ্ট ইতিবাচক।

১২

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্প্রতি ভারতে কোভিড রোগীদের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। সেখানে জানানো হয়েছে কোভিড রোগীর শরীরে মৃদু বা মধ্যম উপসর্গ থাকলে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে। হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়ার সময় পুনরায় টেস্ট করারও প্রয়োজন নেই। এই নির্দেশিকা ঘিরে অনেক ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে। কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার ব্যাপারে বিস্তারিত জানাল স্বাস্থ্যমন্ত্রক।

সোমবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের যুগ্মসচিব লব আগরওয়াল এই ব্যাপারে জানান। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্যমন্ত্রকের নির্দেশিকায় বদল হওয়ার প্রধান কারণ হল আমরা টেস্ট নির্ভর পরিকল্পনা থেকে সময় ও উপসর্গ নির্ভর পরিকল্পনায় গিয়েছি। পৃথিবীর অনেক দেশেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ বা আইসিএমআরও জানিয়েছে, মৃদু বা মধ্যম উপসর্গ থাকলে তা ১০ দিনের মধ্যে কমে যায়। তাই সেক্ষেত্রে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে।”

হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দিলেও তাঁদের একাধিক নিয়ম মেনে চলতে হবে বলে জানিয়েছেন লব আগরওয়াল। তিনি বলেন, “যাঁদের শরীরে কোভিড ১৯ সংক্রমণ আরটি পিসিআর টেস্টের মাধ্যমে পাওয়া গিয়েছে এবং উপসর্গ মৃদু থেকে মধ্যম তাঁদেরই শুধুমাত্র ছুটি দেওয়া হবে। কিন্তু তারপরেও সাতদিন হোম আইসোলেশনে থাকতে হবে তাঁদের। থ্রি লেয়ারড মাস্ক ও অন্য সতর্কতা নিতে হবে তাঁদের। পরিবারের কারও সংস্পর্শে আসা যাবে না। যদি কোনও সমস্যা দেখা যায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।”

শনিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে নির্দেশিকা জারি করে বলা হয় “যে সব রোগীর উপসর্গ কম বা খুবই কম, তাঁদের উপসর্গ কমে গেলে কিংবা তিনদিন ধরে জ্বর না থাকলে ১০ দিন পরে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে ছাড়ার আগে আর টেস্ট করার দরকার নেই। যেসব রোগীর মধ্যম উপসর্গ রয়েছে, তাঁদের যদি তিনদিন ধরে জ্বর না থাকে এবং কোনও অক্সিজেনের সাপোর্ট দরকার না হয়, তাহলে উপসর্গ কমে যাওয়ার ১০ দিন পরে তাঁদেরও ছেড়ে দেওয়া যাবে। যদি তিনদিনের মধ্যে উপসর্গ ফিরে আসে কিংবা অক্সিজেনের দরকার হয়, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে সেক্ষেত্রেও পুনরায় টেস্টের দরকার নেই।” শুধুমাত্র যেসব রোগীর উপসর্গ খুব বেশি, তাঁদেরই ছাড়ার আগে আরটি পিসিআর টেস্ট করতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি একবার পরীক্ষায় রিপোর্ট নেগেটিভ আসে তখনই ছাড়া হবে তাঁদের।

আরও পড়ুন অনলাইন টিকিট বুকিং শুরু হতেই আইআরসিটিসি-র ওয়েবসাইট নিষ্ক্রিয়, ক্ষমা চেয়ে টুইট রেলের

এই নির্দেশের পর প্রশ্ন ওঠে, সব রোগীর বাড়িতে কি আলাদা করে থাকার বা আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা সম্ভব! এমন অনেকেই রয়েছেন যে দু’কামরার ফ্ল্যাটে পাঁচ জন থাকেন। একটিই শৌচালয়। তাঁরা কী করবেন? যাঁদের বাড়িতে আইসোলেশনে থাকা সমস্যা তাঁরা কী করবেন সেই বিষয়ে অবশ্য এ দিনও কিছু জানাননি লব আগরওয়াল।

এদিনও স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ভারতে কোভিড ১৯ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার হার বাড়ছে। সোমবার এই হার ৩১.১৫ শতাংশ। এই হারের ক্রমাগত বৃদ্ধি যথেষ্ট ইতিবাচক।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More