সোমবার, এপ্রিল ২২

এই মেয়ের চাপে বিজ্ঞাপনের ভাষা বদলেছিল বহুজাতিক

চান্দ্রেয়ী সেনগুপ্ত

ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়।  পরে এই দূরত্ব নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে মেগান জানায় যে, দূরত্বের বিষয়টি তাঁদের দু’জনের প্রথম থেকেই জানা ছিল। একে অন্যের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার পর তাঁরা একে অন্যের জন্য সময় বের করেছে। কাজটা মোটেই সহজ হয় নি। কিন্তু প্রেম গভীর, তাই ইচ্ছেও প্রবল।  পূর্বরাগ চলাকালীন কখনই একটানা দু’সপ্তাহের বেশি একে অন্যকে ছেড়ে থাকেননি। কাজের ফাঁকে ফাঁকে হয় মেগান উড়ে আসতেন লন্ডনে। সময় কাটিয়ে যেতেন কেন্সিংটনে ‌হ্যারির নটিংহিল কটেজে। নয়তো হ্যারি চলে যেতেন মেগানের টরন্টোর ফ্ল্যাটে। মেগান তখন ‘স্যুট্‌স’-এর কাজ নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত। এমনও হয়েছে যে, সে টরন্টোতে ফিরে সোজা এয়ারপোর্ট থেকে স্টুডিওতে চলে গিয়েছেন। দুই মহাদেশের সময়ের ব্যবধানের জন্য রাতদিনের হিসেব ওলটপালট হয়ে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় শরীরের উপর চাপ পড়েছে, কিন্তু অভিসার কমেনি।

একি নিছকই পার্থিব প্রেমের আকর্ষণ নাকি নিয়তির নির্দেশে দুটি আত্মার মিলন? নাহলে কে ভেবেছিল যে ইংল্যান্ডের রাজপরিবারে পৃথিবীর সবচেয়ে যোগ্য পাত্রের পাত্রী আসবে সুদূর ক্যালিফোর্নিয়ার এক সাধারণ পরিবার থেকে? তবে পরিবার সাধারণ হলে কী হবে, পাত্রী তো অসাধারণ। নাহলে কোনও সাধারণ পরিবারের এগারো বছরের ছোট্ট মেয়ে প্রক্টার  অ্যাণ্ড গ্যাম্বল-এর মতো ডাকসাইটে কোম্পানিকে তাদের বিজ্ঞাপনের ভাষা পাল্টাতে বাধ্য করতে পারে?  ২০১৫ সালে ইউনাইটেড নেশান্স অফ উওমেন এর বিশ্ব সম্মেলনে মেগান তাঁর সেই অভিজ্ঞতার কথা বলেছে। এগারো বছরের মেগান তখন স্কুলে পড়েন। তাদের বলা হয়েছিল যে তৎকালীন কয়েকটি প্রচলিত বিজ্ঞাপন দেখে বিজ্ঞাপনগুলির যথার্থতা সম্বন্ধে মন্তব্য করতে। বিজ্ঞাপনগুলি দেখাকালীন একটি বিজ্ঞাপন মেগানকে যথেষ্ট বিচলিত করে। বিজ্ঞাপনটি ছিল একটি বাসন ধোয়ার ডিটারজেন্টের। ট্যাগ লাইন ছিল, ‘উওমেন অল ওভার আমেরিকা আর ফাইটিং গ্রিজি পটস অ্যাণ্ড প্যান্স। ক্লাসের ছেলেদের মতে সেটি যথার্থ ছিল কারণ মহিলারাই তো রান্নাঘরে কাজ করে। কিন্তু মেগান তা মানেনি। তার মতে এটি অত্যন্ত নারী বৈষম্যবাদী একটি মন্তব্য। তার মতে রান্নার কাজ শুধুমাত্র মহিলাদের নয়, মহিলাদের জায়গা শুধুমাত্র রান্নাঘরে নয়। বাড়ি ফিরে সে তার বাবাকে এই ঘটনাটি জানিয়ে তার অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং বাবার উৎসাহে সে কোম্পানির উদ্দেশে তার মতামত জানিয়ে চিঠি লেখে। কয়েক মাস পরে মেগানকে অবাক করে কোম্পানি লাইনটি পালটে করে ‘পিপল অফ আমেরিকা……’ সেদিন ছোট্ট মেগানের হয়েছিল এক মূল্যবান শিক্ষা। সে বুঝেছিল যে বৈষম্যবাদিতা অন্যায়। না হলে ওই জাঁদরেল কোম্পানি একটা ছোট্ট মেয়ের চিঠি পেয়ে এই পরিবর্তন করত না। এমনই অনন্যসাধারণ এই মেয়ে। তার মতে – ‘উমেন সুড বি ইনভাইটেড অ্যাট্‌ দ্য টেবিল উইথ দ্য ম্যান, অ্যাণ্ড ইফ দে আর নট, দে শুড ক্রিয়েট দেয়ার ওউন টেবিল’।……… (ক্রমশ)

সোহোর সেই দেখাতেই হ্যারির মনে হয়েছিল এ-ই সহধর্মিণী

বোতসোয়ানায় তারাভরা আকাশের নীচে প্রেমের অঙ্গীকার 

Shares

Leave A Reply