লন্ডনের ভারতীয় দূতাবাসে হামলা নিয়ে মোদীর কাছে দুঃখ প্রকাশ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত সপ্তাহেই লন্ডনে ভারতীয় হাই কমিশনের উপরে হামলা চালায় ওই দেশে বসবাসকারী পাকিস্তানি ও খালিস্তানিরা। এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে টেলিফোন করে দুঃখ প্রকাশ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।

গত মাসেই ব্রিটেনের নয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বরিস জনসন। ফোনে তাঁকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তখনই মোদীকে দ্বিতীয় বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য পাল্টা শুভেচ্ছা জানান বরিসও। ক্ষমাও চান ১৫ অগাস্ট ব্রিটেনের ভারতীয়দের উপরে ঘটা হামলার জন্য। ভারত ও ব্রিটেনের বাণিজ্যিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও উন্নত করা নিয়েও আলোচনা করেন তাঁরা। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর জনসনের সঙ্গে এই প্রথম আলাপচারিতায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিংসার ঘটনা রোখার চ্যালেঞ্জের বিষয়ে আলোচনা করেন মোদী।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের সময়ে, ১৫ অগাস্ট ব্রিটেনে বসবাসকারী ভারতীয়দের ওপরে যে আক্রমণ হয়েছে, সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। ভারতের স্বাধীনতা দিবসের দিন লন্ডনে ভারতীয় দূতাবাসের সামনে এই গোলমাল হয়। এই নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমাও চেয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

তিনি এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, এর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভারতীয় দূতাবাসের নিরাপত্তাও বাড়ানো হবে। ওই দিন ভারতীয় দূতাবাসের সামনে পাকিস্তানি একটি গোষ্ঠী এবং কাশ্মীরি ও শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের গোষ্ঠী জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুকে সামনে রেখে ভারত বিরোধী স্লোগান দেয়। ভারতীয় হাইকমিশনের সামনে প্রতিবাদ করতে ভারতীয়রা গেলে তাদের নিগৃহীতও করা হয়।

প্রসঙ্গত, কাশ্মীর নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পরের দিনই ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হল মোদীর। ভারত ও ব্রিটেনের বাণিজ্যিক পার্টনারশিপের বিষয়েও সহমত হয়েছেন মোদী ও জনসন। সন্ত্রাস দমনের প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দিয়ে জনসনকে বলেন, “ভারত ও ইউরোপ-সহ বিশ্বের সর্বত্র সন্ত্রাস থাবা বসিয়েছে। সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির বাড়বাড়ন্ত রুখতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ প্রয়োজন।”

নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বরিস জনসনের সামনে এখন মুখ্য বিষয় ব্রেক্সিট। তাই দায়িত্ব পাওয়ার এক মাসের মধ্যেই তিনি ব্রেক্সিট বিষয়ে ইইউ-কে চিঠি লিখে বিষয়টি সুরাহার ব্যাপারে পদক্ষেপ করেছেন ইতিমধ্যেই। ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি ডোনাল্ড টুস্ককে লেখা সেই চার পাতার চিঠিতে ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে ইইউ-ভুক্ত দেশ আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে সীমান্ত উন্মুক্ত রাখার কৌশল বা ‘ব্যাকস্টপ’ ব্যবস্থা নিয়ে তাঁর দ্বিমতের কথা জানিয়েছেন বরিস জনসন। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ককে চিঠি দিয়ে বরিস জনসন বলেছেন, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের শান্তি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রেও বিষয়টি ঝুঁকিপূর্ণ।

কিন্তু এর উত্তরে টাস্ক বলেছেন, অন্য কোনও রকম বিকল্প প্রস্তাব ছাড়াই যাঁরা বিষয়টির বিরোধিতা করছেন, তাঁরা আয়ারল্যান্ডের সীমান্ত নতুন করে ঠিক করার ভাবনাকেই সমর্থন করেন আদতে। টাস্ক বলেন, ‘‘কোনও বিকল্প না খুঁজে পাওয়া পর্যন্ত আয়ারল্যান্ডে ‘কঠোর’ সীমান্ত এড়াতে ‘ব্যাকস্টপ’ই ভরসা।’’

কী এই ‘ব্যাকস্টপ’?

নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড এবং রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডকে যে সীমান্ত পৃথক করে, সেই বিষয়টি ব্রেক্সিট মীমাংসার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ব্রেক্সিটের ফলে আর যা-ই হোক না কেন, ওই সীমান্তে কোনও তল্লাশি বা পরিকাঠামোগত পরিবর্তন হবে না— এই বিষয়ে ব্রিটেন এবং ইইউ সম্মত হয়েছিল। এ বার সেই সীমান্ত প্রশ্নেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ‘ব্যাকস্টপ’ হচ্ছে শেষ উপায়, যেখানে আয়ারল্যান্ড দ্বীপে মসৃণ সীমান্ত রাখা হবে বলে ভাবা হয়েছিল।

কিন্তু এর পরে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী লিয়ো ভারাডকার ফোনে বরিস জনসনকে জানিয়েছেন, এই চুক্তি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ‘ব্যাকস্টপ’ই থাকবে। যদিও জনসন চিঠিতে ইইউকে জানান, ব্রিটেনের সার্বভৌমত্বে ‘ব্যাকস্টপ’ সাযুজ্যপূর্ণ নয়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More