শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

ঢাকায় আওয়ামি লিগের গোষ্ঠীসংঘর্ষ, আতঙ্ক

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত রবিবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ থেকে কার্যত মুছেই গিয়েছে বিরোধীরা। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে আওয়ামি লিগ। বুধবার রাতে খোদ রাজধানী ঢাকায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ল আওয়ামি লিগের দুই গোষ্ঠী। বৃহস্পতিবার বেলায় সংসদে শপথ নিয়েছেন আওয়ামি লিগের এমপিরা। তার আগে দলে গোষ্ঠী সংঘর্ষের খবরে অস্বস্তি ছড়িয়েছে শাসক শিবিরে।

বুধবার রাতে যেখানে আওয়ামি লিগের গোষ্ঠী সংঘর্ষ হয়, সেই জায়গার নাম সেগুনবাগিচা। স্থানীয় মানুষজন জানিয়েছেন, আওয়ামি লিগের গণসংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লিগ এবং ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র লিগের সমর্থকরা মারপিটে জড়িয়ে পড়ে। গুলির শব্দও শোনা যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, সেগুনবাগিচা কিচেন মার্কেট এলাকায় রাত সাড়ে ১০ টা নাগাদ শুরু হয় গোলমাল। জনৈক প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, আওয়ামি লিগ সমর্থক ছাত্রেরা স্বেচ্ছাসেবক লিগকে একটি সাইনবোর্ড লাগাতে বাধা দেওয়ায় মারপিট লেগে যায়। কয়েকটি মোটর সাইকেলে আগুন লাগানো হয়। গুলিও চলে। আতঙ্কিত মানুষজনকে দৌড়ে পালাতে দেখা যায়।

সেগুনবাগিচা অঞ্চলে আওয়ামি লিগের ঢাকা মেট্রোপলিটন (সাউথ) ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক জুবের আহমেদের বাড়ি। বুধবার রাতে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল আওয়ামি লিগ সমর্থক ছাত্ররা। গত রবিবারের নির্বাচন উপলক্ষে সেখানে আওয়ামি লিগের একটি অস্থায়ী শিবির তৈরি হয়েছিল। ছাত্রদের অভিযোগ, স্বেচ্ছাসেবক লিগের সমর্থকরা সেই শিবির ভাঙতে গেলে তারা বাধা দেয়। সেই নিয়ে শুরু হয় সংঘর্ষ।

জুবের বলেছেন, গোলমালের সময় তিনি বাড়ি ছিলেন না। পরে বাড়ি ফিরে শুনেছেন, তাঁর সঙ্গে কয়েকজন দেখা করতে এসেছিল। তাদের মারধর করা হয়েছে। কয়েকটি মোটর সাইকেলও ভাঙা হয়েছে। স্থানীয় শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, দু’টি গোষ্ঠীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। তবে কেউ গুলি চালায়নি। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে।

এদিন বেলা ১১ টায় সংসদে শপথ নেন আওয়ামি লিগের এমপিরা। শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরি। বেলা সাড়ে ১২ টা থেকে শপথ পাঠ করান জাতীয় পার্টির এমপিরা। কিন্তু দলের চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ সংসদে উপস্থিত ছিলেন না।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামি লিগ জিতেছে ২৬৭ টি আসন। জাতীয় পার্টি জিতেছে ২০ টি আসন। তবে ওই দলের নেতারা স্থির করতে পারেননি তাঁরা শাসক জোটে শামিল হবেন, নাকি বিরোধী পক্ষে থাকবেন।

বিরোধী দল বিএনপি ও তার জোটসঙ্গীরা পেয়েছে মাত্র সাতটি আসন। তারা একবাক্যে বলেছে, ভোটের নামে প্রহসন হয়েছে।

Comments are closed.