বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

অসমে ফের বাঙালি-হত্যা! গলা কেটে খুন দুই শ্রমিককে, কেটে নেওয়া হয়েছে আরও দু’জনের হাত

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আবারও অসমে খুন হলেন দুই বাঙালি শ্রমিক! অভিযোগ, নৃশংস ভাবে গলার নলি কেটে খুন করা হয়েছে তাঁদের৷ বাধা দেওয়ার জন্য আরও দু’জনের হাত কেটে নেওয়া হয়েছে৷ মৃতদের নাম শেখ ইদ্রিস (৪৮) ও মহম্মদ আলি (৩২)৷ তাঁরা দু’জনই মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ায় বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে৷ ঘটনার তদন্ত শুরু করছে পুলিশ৷

সূত্রের খবর, মাস দেড়েক আগে পাঁশকুড়া থেকে রাজমিস্ত্রির কাজ করার জন্য অসমের তিনসুকিয়ার দুমদুমায় গিয়েছিলেন সাত-আট জন শ্রমিকের একটি দল। সেই দলেরই সদস্য ছিলেন মৃত দুই শ্রমিক৷ দুমুমায় একটি আসবাব তৈরির কারখানায় কাজ করতেন তাঁরা৷ থাকতেন কাছেই একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে৷

পারিবারিক সূত্রের খবর, হঠাৎই গত কাল রাত ন’টার পর থেকে আর তাঁদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। তার পরেই রবিবার তাঁদের মধ্যে দু’জনের গলা-কাটা দেহ উদ্ধার হওয়ার খবর আসে বাড়িতে। হাতকাটা অবস্থায় বাকি দু’জনকে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে।

সূত্রের খবর, কয়েক দিন আগে ওই শ্রমিকদের সঙ্গে অজ্ঞাত পরিচয় কয়েক জনের ঝামেলা হয়েছিল টাকা পয়সা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে। এর পরেই গলা কেটে খুন করা হয় তাঁদের দু’জনকে৷ বাধা দিতে গেলে হাত কেটে নেওয়া হয় আরও দু’জনের৷ রবিবার সকালে দুমদুমা থানা থেকে এই খুনের খবর জানানো হয় পাঁশকুড়া থানায়৷ এর পরেই খবর দেওয়া হয় মৃতদের বাড়িতে৷ শোকে ভেঙে পড়ে তাঁদের পরিবার৷ অসম প্রশাসনের সহায়তায় দ্রুত মৃতদের দেহ রাজ্যে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা শুরু হয়েছে৷ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দুমদুমা থানার পুলিশ৷

প্রসঙ্গত, গত বছর অসমের তিনসুকিয়াতেই খুন করা হয়েছিল আরও পাঁচ বাঙালিকে। এনআরসি নিয়ে বিতর্কের মাঝে ওই পাঁচ বাঙালি খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে অসম থেকে এ রাজ্য। মৃতদের নাম ছিল, শ্যামলাল বিশ্বাস, অনন্ত বিশ্বাস, অবিনাশ বিশ্বাস, সুবল দাস ও ধনাই নমশূদ্র। এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দায় সরব হন অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল৷ ঘটনার প্রতিবাদে অসমে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূলে একটি প্রতিনিধি দল৷ কিন্তু বিমানবন্দরেই তাঁদের আটকে দেওয়া হয়েছিল৷

ওই খুনের ঘটনার সঙ্গে আলফা জঙ্গিদের যোগ রয়েছে বলে প্রথমে অনুমান করা হয়েছিল। যদিও পরে সেই খুনের দায় অস্বীকার করে আলফা৷

রবিবার এই দুই শ্রমিকের খুনের ঘটনাকে ঘটনাকে ‘নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ’ বলে দাবি করেছে পুলিশ। তা অবশ্য একেবারেই মানতে নারাজ মৃত ও আহতদের পরিজনরা। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, এনআরসি নিয়ে উত্তাল হয়ে ওঠা অসমে ফের কি আক্রমণের মুখে বাঙালিরা?

Comments are closed.