মঙ্গলবার, জুন ২৫

মাইনে দিতে পারেননি বস্, কিডন্যাপ করে অত্যাচার!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আপনি কি কোনও কোম্পানির বস্? তাহলে কর্মীদের সঠিক সময়ে মাইনেটুকু অন্তত দিন।  নইলেই বিপদ।  বেঙ্গালুরুতে ৭ মাস মাইনে দিতে পারেননি একটি কোম্পানির মালিক।  তাতেই তাঁকে কিডন্যাপ করেন ৭ জন কর্মী।

বেঙ্গালুরুর হালাসুরুতে একটি স্টার্টআপ কোম্পানি চালাতেন ২৭ বছরের সুজয় এসকে।  কিছু আর্থিক সমস্যার জন্য তাঁর কোম্পানির কর্মীদের তিনি সাত মাস মাইনে দিতে পারেননি।  কোম্পানিও বন্ধ করে দেন তিনি।  তাঁকে দু বার কিডন্যাপের অভিযোগ ওঠে ৭ জনের বিরুদ্ধে।  তাঁদের ৪ জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।  বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।  অভিযুক্তদের মধ্যে একজন মহিলা রয়েছেন।

রিপোর্ট অনুযায়ী সুজয় কুডলু এলাকায় একটি আইটি কোম্পানি খোলেন।  অর্থনৈতিক সমস্যায় সেটা বন্ধ করে দেন।  এই সাত মাসের মাইনে না দেওয়ার বিষয়টি যদিও সুজয় অস্বীকার করেছেন।  হালসুরুর পুলিশ এই ঘটনায় বিশ্ব, তাঞ্জিম, রশ্মি, লিকিথ, রাকেশ, দর্শন এবং সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে আইপিসির ৩৫১, ৩৬২ ও ৫০৩ ধারায় অভিযোগ দায়ের করেছে।  অর্থাৎ হামলা, অপহরণ এবং ফৌজদারি ভীতি এই ধারার অভিযোগগুলো দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশের কাছে সুজয় নিজে অভিযোগ জানাননি।  যে হাসপাতালে তিনি ভর্তি ছিলেন, সেখানে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করলে হাসপাতাল থেকে পুলিশে জানানো হয়, তখন ঘটনা সামনে আসে।

গত ২১ শে মার্চ লিকিথ এবং বিজয় বেঙ্গালুরুর কেমব্রিজ লে আউটে তাঁদের বাড়ির কাছে প্রাক্তন বস্ কে ডাকেন।  সুজয় সেখানে পৌঁছনর পরেই তাঁকে জোর করে ঠেলে একটি গাড়িতে ঢুকিয়ে একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।  সেখানে দুদিন আটকে রেখে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।  তবে ছাড়ার সময়ে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় যত দ্রুত সম্ভব তাঁদের বকেয়া মিটিয়ে দিতে।  পরের বার আবার ২৫ শে মার্চ একইভাবে ওই ৭ জন সুজয়ের উপর হামলা করে।  সেদিন সুজয় তামিলনাড়ু যাচ্ছিলেন।  মান্ড্য-এর জেলার কাছে মাদ্দুরে তাঁর উপর চলে অত্যাচার।  সেদিনও তাঁকে আটকে রাখা হয়, পরের দিন বেঙ্গালুরুর বিরুপাক্ষপুরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সঞ্জয়, লিকিথ, দর্শন ইতিমধ্যেই পুলিশের জালে।  এই কাণ্ডে তাঁদের সাহায্য করেছিলেন নিরঞ্জন, তাঁকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  বাকিদের খোঁজ চলছে।  অভিযুক্তদের প্রত্যেকেরই বয়স ২৫ এর কম।

Comments are closed.