জলবায়ু রক্ষার প্রসঙ্গে ফের পরস্পরকে বিঁধলেন গ্রেটা এবং ট্রাম্প, নাম নিলেন না কেউ কারও

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক জন ১৭, অন্য জন ৭৩। হিসেবমতো, বয়সের দিক থেকে দাদু-নাতনি সম্পর্ক তাঁদের। সম্ভবত বিশ্বের মিষ্টতম ও প্রিয়তম সম্পর্কগুলির মধ্যে একটা। কিন্তু বয়স যেমনটাই হোক না কেন, আদতে তাঁরা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন অনেক দিন ধরেই। বারবার আক্রমণ করেছেন পরস্পরকে। বিঁধেছেন চড়াস্বরে। তাঁদের মতের অমিল বারবার চর্চার বিষয় হয়েছে সংবাদমাধ্যমে। আরও একবার ঘটে গেল তেমনটা। সুইৎজারল্যান্ডের ডাভোসে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মঞ্চে পরস্পরকে নাম না করে বিঁধলেন তাঁরা।

    তাঁরা হলেন জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আন্দোলন করে বিশ্বের সাড়া জাগানো সুইডিশ কিশোরী পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    মঙ্গলবার থেকে ডাভোসে শুরু হয়েছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলন। সেখানে উপস্থিত ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বক্তৃতায় গ্রেটার নাম উল্লেখ না করে বলেন,  “যারা জলবায়ু নিয়ে সবসময় ‘অশুভ কিছু ঘটা’ এবং বিশ্বে ‘বিপর্যয় ঘনিয়ে আসার’ চিন্তা করে, তাদের প্রত্যাখ্যান করতে হবে। আগামী দিনের সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগাতে হলে সেটাই জরুরি।”

    জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলাতে তিনি আগামী দশ বছরে এক ট্রিলিয়ন গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন সেই মঞ্চে। আধঘণ্টার বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরিবেশকে গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন। জলবায়ুকর্মীদের ‘নৈরাশ্যবাদী’ আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, এটি নেতিবাচক নয়, ইতিবাচক চিন্তার সময়।

    ট্রাম্পের বক্তৃতার পরেই গ্রেটা বক্তৃতা দেন সেই একই সম্মেলনে। সেখানে তিনিও ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করেই জলবায়ু বিষয়ে নেতাদের আরও বেশি কাজ করার আহ্বান জানান। ট্রাম্প যে গাছ লাগানোর কথা বলেছেন, সে বিষয়টি উল্লেখ করে গ্রেটা বলেন, শুধুমাত্র গাছ লাগিয়ে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। বরং অবিলম্বে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ বন্ধ করতে হবে।

    গ্রেটা আরও জানান, জলবায়ুকর্মীদেরকে ‘নেতিবাচক’ বলে সমালোচনা করা আর কাজের কাজ কিছুই না করে বসে থাকা কোনও সমাধান নয়। তরুণদের কথা শোনার জন্য রাষ্ট্রনেতাদের আহ্বান জানান গ্রেটা। এর আগে একবার যেমন বলেছিলেন, সেকথাই ফের বলেন গ্রেটা। “আমাদের বাড়ি এখনও পুড়ছে। আপনারা হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকার কারণে আগুনের শিখা আরও বাড়ছে।”

    এর আগে গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মুখোমুখি হয়েছিলেন ট্রাম্প এবং গ্রেটা। তবে সে সময়ে কেউ কারও সঙ্গে কথা বলেননি। তবে ট্রাম্পের দিকে তাকিয়ে অগ্নিদৃষ্টি হেনেছিলেন গ্রেটা। সে ভিডিও ভাইরাল হয় পরে। অন্যদিকে গ্রেটার পাশ দিয়ে ট্রাম্প হেঁটে গেলেও, গ্রেটাকে যেন লক্ষ্যই করেননি ট্রাম্প।

    তবে তখন কথা না বললেও, পরে ট্রাম্প এক টুইটে গ্রেটাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করেছিলেন৷ তিনি লিখেছিলেন, “তাকে দেখে খুব সুখী মেয়ে মনে হয়। একটি সুন্দর ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে৷ দেখে খুব ভালো লাগছে।” এই টুইটের সমালোচনা হয়েছিল নানা মহলে। অনেকেই বলেছিলেন, ১৬ বছরের মেয়ের পেছনে লাগা ট্রাম্পকে মানায় না।

    কিন্তু সামনাসামনি যদি ট্রাম্প কথা বলতেন, তাহলে কী বলতেন গ্রেটা? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে গ্রেটা বলেছিলেন, “মনে হয় না আমি ওঁকে কিছু বলতাম বলে। কারণ উনি বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের কথা শোনেন না। তাহলে আমার কথা কেন শুনবেন? সে কারণে সম্ভবত আমি কিছুই বলতাম না, আমি আমার সময় নষ্ট করতাম না।”

    এখানেই শেষ নয়। দু’মাস পরে, গত বছর ডিসেম্বরে গ্রেটাকে ‘পারসন অফ দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করেছিল টাইম ম্যাগাজিন৷ তখন ফের গ্রেটাকে নিয়ে টুইট করেছিলেন ট্রাম্প৷ লিখেছিলেন, “গ্রেটাকে অবশ্যই তার রেগে যাওয়ার সমস্যা নিয়ে কাজ করতে হবে৷ এর পরে তার এক জন বন্ধুকে নিয়ে পুরোনো ও ভাল মুভি দেখতে যাওয়া উচিত।”

    জলবায়ু ও পরিবেশ বাঁচাতে স্কুলপড়ুয়াদের আন্দোলন ‘ফ্রাইডেস ফর ফিউচার’-এর উদ্যোক্তা গ্রেটা থুনবার্গ। দু’বছর আগে থেকে প্রতি শুক্রবার করে স্কুলে না গিয়ে সুইডিশ সংসদের সামনে বসে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু করেছিলেন তিনি। গত বছর রাষ্ট্রনেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে, মানুষ মারা যাচ্ছে, পুরো ইকোসিস্টেম ভেঙে পড়ছে৷ আমরা গণবিলুপ্তির শুরুর দিকে আছি, আর আপনারা সবাই টাকা ও মুনাফার কথা ভাবছেন।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More