শনিবার, অক্টোবর ১৯

কলকাতার এক কোম্পানির থেকে ঘুষ, স্টিং অপারেশনে ধরা পড়লেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর

দ্য ওয়াল ব্যুরো : অভিযোগ, কলকাতার এক প্রিন্টিং ফার্মকে ৬০ লক্ষ টাকার কন্ট্রাক্ট পাইয়ে দিয়েছিলেন ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। বিনিময়ে তিনি ঘুষ নিচ্ছিলেন ছ’লক্ষ টাকা। টাকা নেওয়ার সময় স্টিং অপারেশনে ধরা পড়েন তিনি। নিউজ ভ্যানগার্ড নামে এক স্থানীয় চ্যানেলের স্টিং অপারেশনে যে ভিডিও দেখা গিয়েছে, তাতে মনে হয়, উপাচার্য ভি এল ধারুকর ঘুষ নিচ্ছেন। তিনি ওই প্রিন্টিং কোম্পানিকে যে টাকার কন্ট্রাক্ট পাইয়ে দিয়েছিলেন, তার ১০ শতাংশ ঘুষ হিসাবে দাবি করেছিলেন।

নিউজ চ্যানেলটি মোট তিনটি ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করেছে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, উপাচার্য কন্ট্রাক্টের অঙ্কের ১০ শতাংশ ঘুষ হিসাবে চাইছেন। আর একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, একটি ব্যাগ থেকে অপর ব্যাগে বিপুল পরিমাণ কারেন্সি নোট ভরা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় অবশ্য বলেছে, উপাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা। নিউজ চ্যানেলের উদ্দেশ্য ছিল উপাচার্যের ভাবমূর্তির ক্ষতি করা। অভিযুক্ত উপাচার্যের বাড়ি আওরঙ্গাবাদে। তিনি আগে মহারাষ্ট্রে মারাঠাওয়াড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস কমিউনিকেশন ও জার্নালিজম দফতরের প্রধান ছিলেন। গত বছরের জুলাই মাসে তিনি ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হন। তিনি বরাবরই আরএসএসের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। অনেকে বলেন, সেজন্যই তাঁকে উপাচার্যের পদটি পাইয়ে দিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। অধ্যাপক ধারুকর একসময় বিজেপির ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই দাবি করেছে, ত্রিপুরা সরকারকে অবিলম্বে স্টিং অপারেশন নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিতে হবে এবং অভিযুক্ত উপাচার্যকে গ্রেফতার করতে হবে।

অধ্যাপক ধারুকর এর আগেও বিতর্কে জড়িয়েছেন। ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হওয়ার পরে তিনি ক্যাম্পাসে এবিভিপি-র পতাকা তুলেছিলেন। পরে বিতর্কের মুখে পড়ে তিনি বলেন, এবিভিপি একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন।

Comments are closed.