শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

মালদহ-মুর্শিদাবাদ-দিনাজপুরে তৃণমূলের ঝড়, ধুলোয় কংগ্রেস দুর্গ

দ্য ওয়াল ব্যুরো:  এক সময়ে বরকত গনি খান চৌধুরীর নামেই কংগ্রেস জিতত এখানে। বৃহস্পতিবার মালদহের মাটিতে সেই গনি মিথটাই ধুলোয় মিশিয়ে দিল তৃণমূল কংগ্রেস। পাশের জেলা মুর্শিদাবাদেও উবে গেল অধীর-ম্যাজিক। পঞ্চায়েত ভোটে প্রবল তৃণমূলী ঝড়ে একদা কংগ্রেসের দুর্গে রাহুল গান্ধীর দলের খড়কুটো সম্বলটুকু শুধু রয়ে গেল মাত্র। প্রায় শূন্য থেকে শুরু করে তুলনায় বরং ভাল ফল করেছে বিজেপি।

মালদহে ২৮৮১টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ৫১টিতে আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে গিয়েছিল শাসক দল। এখনও পর্যন্ত যে সব গ্রাম পঞ্চায়েতে ফলাফল ঘোষণা হয়েছে তার মধ্যে নব্বই ভাগ আসনে এগিয়েছে তৃণমূল। শাসক দল এগিয়ে রয়েছে ৭৫৮টি আসনে, বিজেপি ১৮টি আসনে এবং বামও কংগ্রসে যথাক্রমে ১২টি ও ৪৮টি আসনে। পঞ্চায়েত সমিতিতেও ৪২৩টি জেলা পরিষদের ৩৮ আসনের মধ্যে সিংহভাগেই এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল।

মুর্শিদাবাদে কংগ্রেসের অবস্থা আরও ভয়াবহ। সেখানে ৪১৭১টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ১৪৯১টিতে ভোট হয়েছে। এখনও পর্যন্ত যে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে তার মধ্যে ১১৫৭টিতেই এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল। মাত্র ৬টিতে বিজেপি, ৮টিতে বামেরা এবং ৯টি আসনে এগিয়ে রয়েছে কংগ্রেস। পঞ্চায়েত সমিতির ৭৩৬ টি আসনের মধ্যে ৪৭২টি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে গিয়েছিল শাসক দল। যে ২৬৪ টি আসনে ভোট হয়েছে তার মধ্যে ১৩৩টি আসনে এগিয়ে রয়েছে শাসক দল। মাত্র ১ টিতে এগিয়ে কংগ্রেস। আর জেলা পরিষদে এখনও পর্যন্ত যে ফলাফল ঘোষণা হয়েছে তার সবকটিতেই জিতেছে তৃণমূল। বিরোধীরা সেখানে খাতাই খুলতে পারেনি।

একই ভাবে উত্তর দিনাজপুরে জেলা পরিষদের আসনগুলিতেও ঝড় চলছে তৃণমূলের। সেখানেও শাসক দল ছাড়া কেউ খাতা খুলতে পারেনি। পঞ্চায়েত সমিতি ও গ্রাম পঞ্চায়েতেও উত্তর দিনাজপুরে এখনও পর্যন্ত ঘোষিত আসনের ৯৯ শতাংশ-তে জয়ের পতাকা উড়ছে শাসক দলের।

অথচ এই তিন জেলাই কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ছিল। ঐতিহাসিক ভাবেই সেখানে এতদিন তৃতীয় হয়েছে তৃণমূল। শাসক দলের তরফে এই জেলা গুলির দায়িত্বে এক সময়ে ছিলেন মুকুল রায়। তাঁকেও বারবার ব্যর্থতার মুখ দেখতে হয়েছিল। এমনকী গত বিধানসভা ভোটে মালদহে একটি আসনেও জেতেনি তৃণমূল। দলীয় তরফে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর পরই এই তিন জেলার দায়িত্ব দেন রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। হাতে নাতে নেত্রীকে ফল এনে দেখালেন শুভেন্দু।

যদিও তৃণমূলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ এনেছেন মালদহে গনি পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের বক্তব্য, গায়ের জোরে ভোট ছিনিয়ে নিয়েছে শাসক দল। অন্য দিকে অধীর চৌধুরী ও তাঁর অনুগামীদের কথায়, মুর্শিদাবাদে ভোটের নাম প্রহসন হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন দিয়ে ভোট করিয়েছে তৃণমূল।

এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে শুভেন্দুবাবু বলেন, গায়ের জোরে ভোট করালে মালদহে অধিকাংশ আসনে কংগ্রেস প্রার্থী দিল কী করে? আর মুর্শিদাবাদে কংগ্রেসের অবশিষ্ট রয়েছে কোথায়?

পর্যবেক্ষকদের মতে, কংগ্রেস যে ভাবে কান্নাকাটি করছে তাতে গলে যাওয়ার কারণ নেই। বাস্তব হল, মালদহের মানুষের সঙ্গে বরকত সাহেবের উত্তরাধিকারীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। তৃণমূলের হাত ধরে সাংসদ পদ বাঁচিয়ে রাখতে এখন বেশি উতলা বরকত সাহেবের ভাই আবু হাসনাত খান চৌধুরী এবং ভাগ্নী মৌসম বেনজির নুর। মুর্শিদাবাদেও কর্মীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন অধীরবাবু। অপূর্ব সরকারের মতো তাঁর অনুগামী নেতারাই এখন তাঁর থেকে দূরে সরে গিয়েছেন। তা ছাড়া বাম আমলে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে জিতে আসা অধীর চৌধুরী এখন কোথায়? অধিকাংশ সময়েই তিনি থাকেন দিল্লিতে। মুর্শিদাবাদ দূর, কলকাতাতেই তাঁর দেখা মেলে না!

Leave A Reply