ভিড় এড়িয়ে ঘুরে আসুন হিমালয়ের পাদদেশে শান্ত নিরিবলি এই গ্রামে

৫৩

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো:  বন্ধ দ্বারের অন্ধকারে কতদিন আর থাকা যায় বলুন! মনকেও আর বেশিদিন বন্দি করে রাখা সম্ভব নয়। এই অসুস্থ সময়ে বেড়াতে যাওয়া অসম্ভব জেনেও বেড়ানোর প্ল্যান করে, পুরোনো ভ্রমণের ছবি দেখে মন ভাল রাখার চেষ্টা করছেন অনেকেই। কিন্তু এভাবেই বা আর কতদিন! ঘরে থাকতে থাকতে শুধু শরীর না, মনও ক্লান্ত হয়ে পরছে। লকডাউনে দীর্ঘ দিন ঘরে বসে সকলেরই একঘেয়ে সময় কেটেছে। সোশ্যাল মিডিয়া ঘাঁটলে দেখা যাবে, বহুদিন কোথাও বেড়াতে যেতে না পেরে ভ্রমণপিপাসুরা তো বটেই, এমনকি যারা বছরে একবার হয়ত ঘুরতে যান তাদেরও প্রাণ হাঁসফাঁস করতে শুরু করেছে। হয়ত ইতিমধ্যে অনেকে প্ল্যানও করে ফেলেছেন আগামীতে কোথায় বেড়াতে যাবেন তার।

ভ্রমণ তো শুধু ছুটি কাটানোর আর আনন্দ উপভোগ করার জন্য নয়। নিজেদের মানসিক স্বাস্থ্যের কথা ভেবেও অনেকে বেড়াতে যান। ডাক্তাররাই সাজেস্ট করেন বছরে অন্তত দু’তিন বার হাওয়া বদল করতে। দৈনন্দিন জীবনে একটু ব্রেক সবারই প্রয়োজন। আর সেইজন্য, এমনকি সায়কিয়াট্রিস্টরাও পেশেন্টদের বেড়াতে যেতে বলেন।

যারা পাহাড়ে বেড়াতে পছন্দ করেন তাদের পছন্দের তালিকার প্রথমেই থাকে মুসৌরির নাম। কিন্তু এই করোনা আবহে মুসৌরির ভিড়ে না গিয়ে বরং ঘুরে আসুন মাত্র এক ঘণ্টার দূরত্বে কণাতাল থেকে। একই জায়গায় বারবার না গিয়ে এই আনকোরা নতুন এডভেঞ্চার আপনার ভ্রমণে আলাদা আনন্দ নিয়ে আসবে।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এ বছর বাঙালির ভ্রমণে বাধা তো পরেইছে, ইতিমধ্যে আবার বেশ কিছু বিধিনিষেধও আরোপ করা হয়েছে। সবার আগে মানুষ ভাবছেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা। খুব ভিড় হয় এমন জায়গা এড়িয়ে যেতে চাইছেন সকলেই। একটু শান্ত নিরিবিলি জায়গার সন্ধানে আছেন যারা, তাদের জন্য কণাতাল পারফেক্ট চয়েজ। একঝলক দেখে নিন এর বৈশিষ্ট্যগুলো-

১. শহুরে জীবন থেকে বহুদূরে এই পাহাড়ি গ্রাম। পাহাড়ের মাঝে মাঝে  কোটি বনাল স্টাইলের কটেজ আদিম ভারতীয় জীবনযাত্রার ছবি মেলে ধরবে আপনার চোখের সামনে। নদীর ধারে টেবিল পেতে বসে চেখে দেখতে পারেন স্থানীয় খাবার, যেমন-  মান্ডুয়া রুটি, লাল চালের ভাত, পাহাড়ের বিশেষ ধরনের ডাল। আপনার দিনের শুরুটাই হবে বুনো মিন্ট, ক্যামোমিল, সিনামনের ফ্লেভারে তৈরি চা দিয়ে। চাইলে পায়ে হেঁটে বা ট্রেক করে আশেপাশের গ্রামগুলোতে ঘুরে আসতে পারেন। আবার চাইলে কটেজের পাশের আপেল বাগানেও কিছুটা সময় কাটাতে পারেন।

২. কণাতালের এক ঘণ্টা দূরত্বে আছে ধনৌলটি। স্কুল-ট্রিপের জন্য এক্কেবারে পারফেক্ট। কিছুটা হেঁটে একটু উপরে গেলেই চোখে পড়বে ‘অম্বার’ ও ‘ধারা’ নামের যমজ ইকো পার্ক । কিছুক্ষণ সময় কাটাতে পারেন সেখানেও। অল্প একটু দূরে দেবদারু গাছে ঢাকা আরও একটা অ্যাডভেঞ্চার পার্ক আছে। ছোটোদের তো ভালো লাগবেই, বয়স্করাও সুন্দর সময় কাটাবেন এখানে।

৩. ধনৌলটির থেকে গাড়িতে ২০মিনিটে পৌঁছে যাবেন সুরখন্দা দেবীর মন্দিরে। এই মন্দিরের যাত্রাপথটাই ভীষণ সুন্দর। প্রায় দু’কিলোমিটার পথ এঁকেবেঁকে সিঁড়ির মত উঠেছে। একদম উপরে উঠে প্যানারমিক ভিউয়ে একই ফ্রেমে দেখতে পাবেন হিমালয়ের বরফ ঢাকা পাহাড়, দেরাদুন, ঋষিকেশ।

৪. কণাতাল থেকে এক কিলোমিটার দূরেই কোদিয়া ফরেস্ট। দেবদারু আর পাইন গাছে ঢাকা এই গভীর জঙ্গল অরণ্যপ্রেমীদের টানবেই। কিছুটা পায়ে হেঁটে ঘুরতে পারেন ,কিছুটা জিপ-সাফারিও করতে পারেন। খুব ভোরের দিকে গেলে হরিণ সহ আরও কিছু বন্য জন্তু দেখার সম্ভাবনাও আছে।

কীভাবে যাবেন?

দেরাদুনের জলি গ্র্যান্ট সবচেয়ে কাছের এয়ারপোর্ট। রেলপথে এলে দেরাদুন বা ঋষিকেশে থামবেন। এর কাছেই অনেক বাস, ট্যাক্সি পেয়ে যাবেন। আর নিজে গাড়ি চালিয়ে এলে জারিপানি থেকে রাজপুরের দিকে যাবেন। বাইপাস রোডে ধরে মুসৌরি পৌঁছে, সেখান থেকে মাত্র ১৩ কিমি দূরত্বে ধনৌলটি। তার ১৮ কিমি দূরে কণাতাল।

কখন যাবেন?

কণাতালে সারাবছরই ঠান্ডা থাকে। তবে বর্ষায় এর রূপ আপনাকে মুগ্ধ করবেই। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে বেড়াতে আসুন। আর বরফে ঢাকা কনতাল দেখতে গেলে আপনাকে আসতে হবে ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাসের মধ্যে।

থাকার ব্যবস্থা ?

কণাতালের এই গ্রামে বসবাসের জন্য ফার্ম স্টাইলের বেশ কয়েকটি কটেজ রয়েছে। আছে ফুল্লোরি হোমস্টেও। সময় করে আগে থেকে বুকিং না করলে, কখনও কখনও ঘর পেতে অসুবিধা হয়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More