মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৯

‌শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে উদ্যোগী জেআইএস গোষ্ঠী ও সিইজিআর‌

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতি বছর দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য অজস্র প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। তবে দেখা যাচ্ছে, সব প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় শিক্ষক–শিক্ষিকা নেই। স্নাতকস্তরের পঠনপাঠন শেষ করা পড়ুয়াদের অনেকেই দক্ষ নন। বাণিজ্যিক, কর্পোরেট সংস্থা চায় দক্ষ, যোগ্য এবং শিল্পবান্ধব কর্মী। এখন সরকারি চাকরির সুযোগ কমে আসছে। তাই স্নাতকরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাকরির সন্ধান করছেন। এদেশে ক্রমেই বাড়ছে তরুণের সংখ্যা। অন্য দিকে, দক্ষ কর্মীর পাশাপাশি আরও একটি ঘাটতির কথা উঠে আসছে। সেটি হল শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাঠ্যসূচিতে অনেক বদল আসে। যথাযথ প্রশিক্ষণের সুযোগের অভাবে শিক্ষকদের সেই বদলের সঙ্গে পরিচয় করানোর ক্ষেত্রে অনেক ফাঁকফোকর রয়ে যাচ্ছে।

আর এই জায়গাটি ধরতে পেরে তা পূরণ করার কাজ শুরু করে দিয়েছে জেআইএস গোষ্ঠী এবং সেন্টার ফর এডুকেশন গ্রোথ অ্যান্ড রিসার্চ (সিইজিআর‌)। শিক্ষকদের পড়ানোর মান আরও উন্নয়নে ১০৪ জন শিক্ষকের জন্য তারা আয়োজন করেছিল ‘ফ্যাকাল্টি ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রাম অন ‌হায়ার এডুকেশন ফ্যাকাল্টি কেরিয়ার ওরিয়েন্টেশান অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট’ শীর্ষক সপ্তাহব্যাপী বিশেষ কর্মশালার। কলকাতার নারুলা ইনস্টিটউট অফ টেকনোলজিতে। এটি সিইজিআর–এর তৃতীয় ব্যাচ। রাজ্যে এই প্রথম এমন উদ্যোগ নেওয়া হল।

শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের পাঠ্যক্রম তৈরি করেছে সিইজিআর–এর বিশেষ দল। যেখানে ছিলেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য, উপাচার্য এবং অধিকর্তারা। শিক্ষকদের ব্যক্তিগত দক্ষতাবৃদ্ধি, শিল্পোদ্যোগে উন্নয়ন, জনসংযোগ, উদ্ভাবনী শক্তি, সমস্যা সমাধান, লক্ষ্যে পৌঁছনোর প্রেরণা, জ্ঞাননির্ভর শিল্পের ব্যাপারে জানানো হয়। যাতে তাঁরা পড়ুয়াদের শেখাতে পারেন কীভাবে লেখাপড়া করলে তা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে, তাঁরা কোন দিকে গেলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেশি। এ ছাড়াও ছিল গ্রুপ ডিসকাশন, কেস স্টাডি, শিক্ষকদের বক্তৃতা।

‘চাকরি পেতে গেলে এমন ব্যবস্থা দরকার যেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিল্প হাত ধরাধরি করে চলতে পারবে। শিল্পোদ্যোগ নিঃসন্দেহে অর্থ উপার্জনের, স্বরোজগারের একটি রাস্তা। তবে সেই তরুণ–তরুণীটির দরকার পরামর্শ। পাঠ্য বিষয় কমিয়ে দরকার ব্যবহারিক দিক সম্পর্কে জানার আরও সুযোগ করে দেওয়া। আর তাই শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁদের পঠনপাঠনের মান আরও বাড়িয়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বিষয় তাঁদের জানা থাকলে তাঁরা আরও সহজে পড়ুয়াদের সে সম্পর্কে জানাতে পারবেন। এই বিষয়টি মাথায় রেখে ‌হায়ার এডুকেশন ফ্যাকাল্টি কেরিয়ার ওরিয়েন্টেশান অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট–এর ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে। যাতে উচ্চশিক্ষার প্রযুক্তির পড়ুয়াদের তাঁরা আরও ভালভাবে শেখাতে পারেন।’ জেআইএস গোষ্ঠীর এমডি সর্দার তরণজিৎ সিং এ কথা জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সিইজিআর–এর মেন্টর এবং এআইসিটিই–এর অধিকর্তা মনপ্রীত সিং মান্না, মোকস (‌ম্যাসিভ অনলাইন ওপেন কোর্স)‌ সম্পর্কে জানান। তাঁর মতে, পড়ুয়ারা কী ভাবছে তা বোঝার চেষ্টা করা দরকার শিক্ষকদের। ক্লাসের সময়সীমা রয়েছে। তাই অনলাইন ব্যবস্থায় আরও জোর দেওয়া দরকার। পড়ুয়ারা মনোযোগ দিলে লেখাপড়া আরও ভালভাবে হয়। উদ্ভাবনী শক্তি জাগিয়ে তুলতে উপযুক্ত পরিবেশের পাশাপাশি দরকার পড়ুয়াদের অবিরাম উৎসাহ দেওয়া।

‘এই কর্মশালা করতে পেরে খুব খুশি। আশা করছি পড়ুয়ারা অনে উপকার পাবেন। শিক্ষানীতি, সময়ের যথাযথ ব্যবহার, চাপ সামলানোর মতো বিষয়গুলি সম্পর্কে জানার সুযোগ রয়েছে ছাত্রছাত্রীদের।’ এমনই মত নারুলা ইনস্টিটিটউট অফ টেকনোলজি–র অধ্যক্ষ মৈত্রেয়ী রায় কাঞ্জিলালের।

 

Leave A Reply