নির্ভয়া ঘাতকের আর্জি খারিজ, সুপ্রিম কোর্ট বলল, জেলে অত্যাচার হলেই ক্ষমা পাওয়া যায় না

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো : নির্ভয়ার অন্যতম ঘাতক মুকেশ সিং-এর কৌঁসুলি অঞ্জনা প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টে বলেছিলেন, তাঁর মক্কেল তিহাড় জেলে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। মুকেশের ক্ষমাভিক্ষার আর্জি নাকচ করার সময় রাষ্ট্রপতি অনেকগুলি বিষয়ের প্রতি নজর দেননি। বুধবার সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার জানাল, জেলে কারও ওপরে যদি অত্যাচার হয়ে থাকে, তার মানে এই নয় যে, রাষ্ট্রপতি তার ক্ষমাভিক্ষার আবেদন নতুন করে বিবেচনা করবেন।

    মঙ্গলবার অঞ্জনা প্রকাশ শীর্ষ আদালতে বলেন, “আদালত আমার মক্কেলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। তাকে কি ধর্ষণ করতে বলা হয়েছে?” আইনজীবীর দাবি, মুকেশকে বেআইনিভাবে জেলের নিঃসঙ্গ কুঠুরিতে রাখা হয়েছিল। আরও নানাভাবে তার ওপরে অত্যাচার হয়েছিল। কিন্তু তার ক্ষমাভিক্ষার আর্জি নাকচ করার সময় সেই বিষয়গুলি খেয়াল রাখা হয়নি।

    একইসঙ্গে অঞ্জনা প্রকাশ দাবি করেন, মুকেশ সিঙ্গের সঙ্গে একই মামলায় বন্দি রাম সিং-কে জেলেই হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে দেখানো হয়েছে। তা নিয়ে আর তদন্তও করা হয়নি। ২০১৩ সালের মার্চ মাসে জেলের কুঠুরিতে রাম সিং-কে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলতে দেখা যায়।

    আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ভোর ছ’টায় নির্ভয়া মামলার চার আসামি, মুকেশ, পবন গুপ্ত, বিনয় কুমার শর্মা এবং অক্ষয় কুমারের ফাঁসি হওয়ার কথা আছে।

    তিহাড় সূত্রে খবর, শেষ মুহূর্তে ফাঁসির হাত থেকে বাঁচতে সব রকমের চেষ্টা চালাচ্ছে চার দোষী। তাদের আইনজীবীদের দিয়ে বারবার সুপ্রিম কোর্টে যতরকমভাবে সম্ভব আবেদন করছে। তাদের আবেদন হয়তো টিকছে না, কিন্তু আইনি পদ্ধতিতে বিষয়টি দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছে তারা।

    বারবার ফাঁসি পিছিয়ে যাওয়ায় দিল্লি সরকার ও তিহাড় জেল কর্তৃপক্ষের দিকে আঙুল তুলেছেন নির্ভয়ার মা। তাঁর অভিযোগ, ঠিকমতো সব কিছু হলে অনেক আগে দোষীদের ফাঁসি হয়ে যেত। সরকারের কর্তব্যে গাফিলতির ফলেই তারা এখনও বেঁচে আছে।

    অন্যদিকে এই ধরনের মামলায় আইনে কিছু বদল আনার জন্য সুপ্রিম কোর্টকে আবেদন করেছে কেন্দ্র। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এই ধরনের মামলায় একবার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর বারবার বিভিন্ন উপায় প্রাণভিক্ষার আর্জি জানিয়ে এই পদ্ধতিকে যাতে দোষীরা দীর্ঘায়িত করতে না পারে সেদিকে নজর দেওয়া উচিত দেশের শীর্ষ আদালতের।

    এখন দেখার এই জোড়া পিটিশনের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেয় সুপ্রিম কোর্ট। শনিবারই ফাঁসির সাজা বলবত থাকে কিনা সেটাও দেখার।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More