মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৫

আরে-মামলার শুনানি আজই শুনবে সুপ্রিম কোর্ট, জরুরি ভিত্তিতে গড়া হল বেঞ্চ! জামিন পেলেন ২৯ পরিবেশকর্মী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরে কলোনির অরণ্য রক্ষার আবেদন নিয়ে দেশের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-এর দ্বারস্থ হয়েছিলেন পরিবেশ আন্দোলনকর্মীরা। আজ, সোমবার জরুরি ভিত্তিতে সেই মামলার শুনানি হবে বলে জানা গিয়েছে। শুক্রবার থেকে বিক্ষোভ আন্দোলনে যে ২৯ জন পরিবেশকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, তাদের শর্তসাপেক্ষে জামিনও মঞ্জুর করা হয়েছে অন্য একটি আদালতে।

রবিবারই আন্দোলনকারীদের তরফে কয়েক জন আইন-পড়ুয়া প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈকে একটি চিঠি লিখে আবেদন করেছিলেন, আরে কলোনির বিপুল বনাঞ্চল কেটে সাফ করে দেওয়া থামাতে প্রধান বিচারপতি বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করুন। কারণ মুম্বই হাইকোর্টে তাঁদের আবেদন খারিজ হয়ে গেছে। এখন সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন করতে গেলে যে সময় লাগবে, সেই সময়ে গাছ সাফ করে দেবে প্রশাসন।

এই আবেদনের পরেই বিচারক অরুণ মিশ্র এবং অশোক ভূষণকে নিয়ে তড়িঘড়ি একটি বেঞ্চ তৈরি করা হয়েছে প্রধান বিচারপতির নির্দেশে। সেই বেঞ্চই আজ শুনবে আরে-মামলার শুনানি।

সবুজ সরিয়ে আরে কলোনিতে মেট্রো প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। ২৩ হাজার ১৩৬ কোটি টাকার কোলাবা-বান্দ্রা মেট্রো প্রকল্পের জন্য আরে অঞ্চলকে প্রায় বৃক্ষশূন্য করতে হবে। একটা কারশেড তৈরির জন্যই কাটতে হবে আড়াই হাজারের বেশি গাছ। রাজ্য সরকারের এই পরিকল্পনার কথা সামনে আসার পরই তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয় আরে কলোনিতে। স্থানীয়রা তো বটেই, রাজ্যের নানা জায়গা থেকে পরিবেশপ্রেমী, ছাত্রছাত্রী থেকে অধ্যাপক-গবেষকরা ভিড় জমান কলোনিতে। হাতে হাত রেখে মানবশৃঙ্খল তৈরি করে বৃক্ষছেদনে বাধা দেন। জমায়েত তুলতে হাজির হয় মুম্বই পুলিশের বিশেষ বাহিনী। গোটা এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।

আরে এলাকায় গাছ কাটা রুখতে চারটি আবেদন দাখিল হয় বম্বে হাইকোর্টে। কিন্তু চারটিই খারিজ করে দেয় আদালত। জানানো হয়, আরে কলোনি সবুজে ভরা হলেও এই এলাকাকে ‘জঙ্গল’-এর স্বীকৃতি দেওয়া হবে না। আদালত মুখ ফিরিয়ে নিলে ফের গাছ কাটার তোড়জোড় শুরু হয়। রুখে দাঁড়ান পরিবেশপ্রেমীরা।

পাঁচ লক্ষেরও বেশি গাছ রয়েছে আরে কলোনিতে। অনেক বিরল প্রজাতির গাছও রয়েছে। পরিবেশবিদদের কথায়, এই অঞ্চলকে মুম্বইয়ের ফুসফুস বলা হয়। দূষিত মুম্বই শহরকে অক্সিজেন দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছে এই সবুজ অঞ্চল। এই এলাকাকেই ধ্বংস করার কাজে মেতেছে সরকার। আরে কলোনি ঘিরে রেখেছে বিশাল পুলিশবাহিনী। তাই কলোনির বাইরেই ক্যাম্প করে রাতভর প্রতিবাদ করেছেন বহু মানুষ।

বেআইনি বিক্ষোভের অভিযোগে টেনে-হিঁচড়ে গ্রেফতার করা হয় ২৯ জন পরিবেশকর্মীকে। রবিবার রাতে সাত হাজার টাকা করে ব্যক্তিগত বন্ডের বিনিময়ে এবং আর কোনও বিক্ষোভে সামিল না হওয়ার শর্তে জামিন মেলে তাঁদের। জানা গেছে, তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই পড়ুয়া। আজ, সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু হবে তাঁদের। সোমবার বেলা ১১টা নাগাদ মুক্তি পাওয়ার কথা তাঁদের। এক আন্দোলনকারী পড়ুয়ার মায়ের কথায়, “এটা সাময়িক স্বস্তি মিলল হয়তো। কিন্তু লড়াই জারি থাকবে।”

এ সবের মধ্যে মুম্বই মেট্রো রেল কর্পোরেশনের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হয়েছে, তারা নাকি সারা শহরে ২৪ হাজার গাছ লাগিয়েছে। তাই এই কাজের জন্য তাদের আড়াই হাজার গাছ কেটে ফেলাটা যুক্তিযুক্ত।

Comments are closed.