মায়ের বুকে ছবি আঁকছে সন্তানরা, কেরলের সমাজকর্মী রেহানা ফতিমার আগাম জামিনের আর্জি খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরলের নারী অধিকার কর্মী রেহানা ফতিমার আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। জুন মাসে একটি বিতর্কিত ভিডিও প্রকাশ করে আইনি সমস্যার মুখে পড়েন তিনি। গত মাসের ১৯ তারিখে প্রকাশিত সে ভিডিওয় দেখা গিয়েছিল, রেহানার দুই ছোট্ট সন্তান তাঁর উন্মুক্ত বুকে ছবি আঁকছে।

এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার পরেই নানা মহলে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। রেহানার নামে বিভিন্ন থানায় অভিযোগও দায়ের হয়। এমনকি পকসো ধারায় মামলাও দায়ের হয় ফতিমার বিরুদ্ধে। কেরল হাইকোর্ট রেহানা ফতিমাকে অগ্রিম জামিন দিতে অস্বীকার করে। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে গেছিলেন রেহানা। সেখানেও খারিজ হয়ে গেল জামিনের আবেন।

এই ভিডিওটিকে অশ্লীলতা ছড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে অভিযোগ তুলে, সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি অরুণ মিশ্রের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ প্রশ্ন করে, “আপনি এসব কেন করেছেন? আপনি সমাজকর্মী হতেই পারেন, কিন্তু এটা কী ধরনের অসভ্যতা? আপনি অশ্লীলতার প্রচার করছেন। এটা সমাজের পক্ষে রুচিহীনতার পরিচয়। এটা দেখে বাচ্চাদের উপর কী প্রভাব পড়বে?”

রেহানার আইনজীবী গোপাল শঙ্করানারায়ণ পাল্টা সওয়াল করেন, এই ঘটনাটিকে এমন ভাবে দেখানো হচ্ছে যেন এটি শিশুদের নিয়ে পর্নোগ্রাফি করা হয়েছে। কোনও পুরুষ যদি তাঁর ঊর্ধাঙ্গ অনাবৃত রাখতেন, সেখানে যদি বাচ্চারা ছবি আঁকত, তাহলে কোনও বাধা আসত না। কিন্তু যেই এটা একজন মহিলা করেছেন, তখনই এসব নানা ভিত্তিহীন অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে।

এই প্রথম নয়, রেহানা ফতিমার নাম এর আগেও সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে এসেছে। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শবরীমালা মন্দিরে জোর করে প্রবেশ করতে গিয়ে বাধা পান তিনি। সেবারেও তাঁকে বিএসএনএল-এর সরকারি চাকরি খোয়াতে হয়েছিল, নিতে হয়েছিল বাধ্যতামূলক অবসর। ফতিমা অভিযোগ তুলেছিলেন, তাঁর স্বাধীনতার প্রতি হস্তক্ষেপ করছে রাষ্ট্র। এবারেও তাঁর অভিযোগ একই।

সোমবার ফতিমা সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন জানিয়ে বলেন, “কেরলের অসংখ্য দেবদেবীর মূর্তি রয়েছে, যাঁদের ঊর্ধ্বাঙ্গ অনাবৃত। তাঁদের মন্দিরে রেখে পুজো করা হয়। এটা একটা স্বর্গীয় সৌন্দর্য, এটা কোনও যৌনতা উদ্রেককারী বিষয় নয়। তাহলে কোনও মহিলার নগ্নতা (যেখানে কোনও অঙ্গ দেখা পর্যন্ত যাচ্ছে না) বোঝা গেলেই তা অশ্লীলতা কী করে হয়! বাচ্চারা মায়ের শরীরে ছবি আঁকলে সেটা কীভাবে যৌনতার বার্তাবহ হতে পারে এই অদ্ভুত আইন ব্যবস্থায়!”

পকসো ধারায় দায়ের হওয়া মামলা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রেহানা। শিশুরা মায়ের শরীরে ছবি আঁকলে তা কোনও ভাবেই শিশুদের উপর যৌন অত্যাচার নয়। নগ্নতার অর্থ সমসময়েই যৌনতা ও অশ্লীলতা নয় বলেই দাবি তাঁর।

রেহানার সেই বিতর্কিত ভিডিওয় দেখা গিয়েছিল, ঊর্ধ্বাঙ্গে কোনও আবরণ না রেখেই বিছানায় শুয়ে আছেন তিনি। পরণে শুধু একটা লাল রঙের শর্টস। ওই অবস্থায় রেহানার নগ্ন বুকে তাঁর শিশু পুত্র ও কন্যা একটি ফিনিক্স পাখি আঁকছে। ভিডিওটি আপলোড করে সঙ্গে ক্যাপশনে মালায়ালাম ভাষায় রেহানা লেখেন, “বদ্ধ যৌনতার সমাজে মহিলারা নিরাপদ বোধ করেন না। কোনও মহিলার শরীর এবং যৌনতা কী সেই সম্পর্কে আরও খোলামেলা হওয়া দরকার। যদি বাড়ি থেকেই তা শুরু করা হয় তবে এটা সমাজে পরিবর্তন আনতে পারে।”

এর পরেই কেরলের তিরুভাল্লা জেলার পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৬৭ নম্বর ধারায় অর্থাৎ ‘ইলেকট্রনিক মাধ্যমে যৌনতা সম্পর্কিত বিষয়বস্তু পোস্ট করা’ এবং পকসো আইনের ৭৫ নম্বর ধারা অর্থাৎ ‘সন্তানের প্রতি নিষ্ঠুরতা’র অধীনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এর পরেই হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন রেহানা ফতিমা, যা গত শুক্রবার প্রত্যাখ্যান করেছে আদালত। পুলিশ রেহানার মোবাইল, ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করেছিল।

এর পরেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন রেহানা, কিন্তু জামিন মিলল না সেখানেও।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More