মেয়েরা চিরকালই আদরের সন্তান, বাবার সম্পত্তিতে সর্বদা তাদের সমান অধিকার, ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কন্যাসন্তানের বিয়ে হোক বা না হোক, পৈতৃক সম্পতিতে মহিলাদের অধিকার চিরকালই রয়েছে, থাকবে। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে এমনটাই রায় দিলেন বিচারপতি অরুণ মিশ্র। এই ঐতিহাসিক রায়ে তিনি জানিয়েছেন হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে ২০০৫ সালের সংশোধনী অনুযায়ী যে কোনও হিন্দু মহিলার অধিকার রয়েছে তাঁর মা-বাবার সম্পত্তিতে। বিচারপতি জানিয়ে দিয়েছেন, কন্যাসন্তানের বাবা বা মা বেঁচে থাকুন বা না থাকুন, পারিবারিক সম্পত্তিতে পুত্রের মতোই কন্যা সন্তানেরও সমান অধিকার।

বিচারপতি অরুণ মিশ্রের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ আজ জানিয়েছে, পরিবারের কন্যা সর্বদাই কন্যাই থাকেন। কিন্তু এক জন ছেলে বিয়ে না হওয়া পর্যন্তই ছেলে। বিয়ের পরে আর নয়। তাই মেয়ে সব সময়ই সম্পত্তির শরিক, তা সে বাবা বেঁচে থাকুন বা না থাকুন। পৈতৃক সম্পত্তিতে সমানাধিকার থেকে কখনওই বঞ্চিত হবেন না পরিবারের কন্যাসন্তান।

প্রসঙ্গত, ১৯৫৬ সালে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন তৈরি হয়েছিল। তা সংশোধন করা হয়েছিল ২০০৫ সালে। কিন্তু পরবর্তীকালে বেশ কয়েকবার এই আইন নিয়ে কিছু অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছিল। প্রশ্ন উঠেছিল, ২০০৫ সালের আগে বাবা মারা গেলেও কি তাঁর সম্পত্তিতে কন্যাসন্তানের অধিকার থাকবে?

এদিন সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেই জানিয়ে দেয় সবসময়ই বাবার সম্পত্তিতে যে কোনও মহিলার অধিকার জন্মগত। এ কথা ২০১৮ সালেও আরও একবার বলা হয়েছিল বলে জানায় শীর্ষ আদালত। জানায়, হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী এক জন কন্যা জন্ম থেকেই পৈতৃক সম্পত্তির সমান ভাগীদার সাধারণ নিয়মেই।

অর্থাৎ এই রায় অনুযায়ী, ২০০৫ সালের আগে অর্থাৎ হিন্দু উত্তরাধিকার আইনের সংশোধনী কার্যকর হওয়ার আগেও যদি কারও বাবা মারা গিয়ে থাকেন, তাহলেও তাঁর সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারেন সেই ব্যক্তির মেয়েরা।

এদিন রায় দিয়ে বিচারপতি অরুণ মিশ্র বলেন, “একটা মেয়েই সারাজীবন বাবা-মায়ের আদরের মেয়ে হয়ে থাকেন। তাই সম্পত্তির মালিক বেঁচে থাকুক আর না থাকুক, সেই সম্পত্তির উপর মেয়ের সারাজীবন অধিকার থাকবেই।” শুধু তাই নয়। এই সংক্রান্ত যত মামলা রয়েছে, সেগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্যও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More