রবিবার, মার্চ ২৪

সেক্স বুঝি বর্ম-হেলমেট পরে করার মতোই বিপজ্জনক কোনও ব্যাপার!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাভ হার্টস।

ভালবাসার এই বেদনা কিন্তু শুধুই প্রত্যাখ্যান বা প্রেম ভাঙার নয়, বরং সেই ব্যথা আসলে ভালবাসারই চরম মুহূর্তে ঘটে যাওয়া কোনও এক বিপত্তি থেকে। যার জন্য ছুটতে হতে পারে হাসপাতালে। এমনকী ঘটতে পারে মৃত্যুও! আর সেই আঘাত এতটাই, যে অতি নিরাপদ যৌনতাকেও ভয়ংকর বিপদ বলে মনে হতে পারে। কেউ ভেবে ফেলতেই পারেন যৌনতা বুঝি আসলে গ্ল্যাডিয়েটরের মতো সারা গায়ে বর্ম আর হেলমেট পরে করার মতোই কোনও ব্যাপার!

দেখা যাক এই যৌনতা থেকে পাওয়া আঘাতের ১০ টা চরম নমুনা।

হাড় ভাঙা

এটাকেই যৌনতা থেকে ঘটা বিপদের চরমতম উদাহরণ বলা যায়। সারা পৃথিবীতেই হাসপাতালের এমার্জেন্সি রুমে দেখা যায় এমন রোগীদের। কারও হাতের আঙুল বেঁকে মুচড়ে গিয়েছে, তো কারও পায়ের আঙুল গুঁতো খেয়ে থ্যাঁতলানো। লজ্জায় মুখ লাল। এ দিকে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। শুধু আঙুলের আঘাত তো খুবই কমের উপর দিয়ে যাওয়া। সেক্স করতে গিয়ে পাঁজর ভাঙার ঘটনাও কম নয়! এদের কেউ আনন্দের আতিশয্যে কখন যে গড়িয়ে খাট থেকে পড়ে গিয়ে পাঁজর ভেঙেছেন খেয়ালই করেননি। কেউ আবার খুব বেশি অন্তরঙ্গ হয়ে একসঙ্গে স্নান করার সময়ে পা স্লিপ করে বেদম আছাড় খেয়েছেন বাথরুমের মেঝেয়।

ভাঙা যৌনাঙ্গ

ব্যাপারটা শুনলেই লোম খাড়া হয়ে যাচ্ছে তো? হ্যাঁ, এই যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতি কিন্তু মোটেও বিরল নয়। বরং মাঝেমাঝেই ঘটে থাকে এমন। প্রবল যৌনতা থেকে অনেক সময়েই পুরুষাঙ্গের ভেতরের রক্তধমনী ভেঙে যায়! তবে এর চেয়েও খারাপ ঘটনা আছে। কিছু দিন আগেই এমন এক ঘটনা ঘটেছিল এক ষাটোর্ধ্ব ভদ্রলোকের সঙ্গে। মাস্টারবেশান করার সময় তিনি হঠাৎ টের পান দরজাটা ফাঁক হয়ে গিয়েছে। আর তাঁর বৃদ্ধ মা আসছেন ঘরে। লজ্জায় তড়িঘড়ি লাথি মেরে দরজা বন্ধ করতে গিয়ে টাল সামলাতে না পেরে পড়ে যান। পুরুষাঙ্গের ওপরে গোটা শরীরের ওজন। তার পর ভাঙা পুরষাঙ্গ নিয়ে যন্ত্রণা আর লজ্জায় কাতর হওয়া!

পা ছড়ে যাওয়া

কারও পা ছড়ে যায় কার্পেটে, কারও আবার মেঝেতেও। ভালবাসার আতিশয্যে কখনও কখনও খেয়ালও থাকে না, কখন হাঁটুর নুনছালের ওপর বড্ড বেশি অত্যাচার করা হয়েছে। তবে এই ঘটনা থেকে হাসপাতালে ছুটতে হয় না। সামান্য মলমই যথেষ্ট।

পেশির টান

সবাই জিমন্যাস্টিক্স করতে পারে না। কিন্তু ভালবাসার সময় সেই খেয়াল থাকলে তো! তা-ও আবার সেই মুহূর্তগুলোয় শরীরের ভেতর এন্ডোমরফিন হরমোনের ক্ষরণ হয়। যা আসলে অবশ করে রাখে পেশিদের। তাই জিমন্যাস্টিক্স কেন, তার বেশি কিছুও অনেকেই বেখেয়ালের বশে করে বসেন। টের অবশ্য পাওয়া যায় পরে। হয়ত আগের রাতে নিজেরই ঘাড় জিভ দিয়ে চাটতে গিয়ে কাঁধে প্রবল ব্যথা। কিংবা দুই পায়ের থাইয়ের পেশিতে প্রবল ব্যথা… কেন তা আপনি নিজেই জানেন।

স্ত্রী যৌনাঙ্গে চোট

বলে রাখা ভাল, মেয়েদের এই অঙ্গই শরীরের অন্যতম শক্তিশালী অঙ্গ। প্রায় সব কিছুই সহ্য করতে পারে। কিন্তু ‘প্রায়’ সব কিছুই। সব কিছুই নয়। রাফ সেক্স বা লুব্রিক্যান্ট ব্যবহার না করার জন্য স্ত্রী অঙ্গের ভেতরে ছড়ে যাওয়া বা আরও খারাপ ভাবে ছিঁড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেই থাকে। এমনকি আঘাত লাগতে পার জরায়ুতেও!

বেড়ালের কামড়-আঁচড়

ভাবছেন এর সঙ্গে আবার যৌনতার কী সম্পর্ক? আসলে আপনার মার্জারটি আপনাকে ভালবাসে। তবে আপনি যে আপনার পার্টনারকেও ভালবাসেন, সেটা সে না-ও বুঝতে চাইতে পারে। এমনকী সে আপনাকে ভালবাসে বলে তাকে আপনার সহচর বা সহচরীটিকে ভালোবাসতে হবে, এমন মাথার দিব্যিও তাকে কেউ দেয়নি। বিশেষ করে খাটে শোয়া অবস্থায় আপনাদের দেখে সে ভেবে বসতেই পারে, যে আপনি আসলে আক্রান্ত, আর তারই দায় আপনাকে বাঁচানোর। ফলে সে লাফিয়ে পড়ে কামড়ে-আঁচড়ে আপনার মনের মানুষটিকে জখম করতেই পারে, এমনকী ঘায়েল করে ফেলতে পারে আপনাদের সম্পর্কটাও। বাড়িতে মার্জার থাকলে বরং ওই সময়টিতে তাকে ঘরে না ঢুকতে দেওয়াই ভাল।

লাল চোখ

চোখে কিছু ঢুকে গেলে চোখ লাল বা গোলাপি হয়েই যায়। কিন্তু জানেন কি, আপনার অর্গাজমের সময়েও আপনি আপনার চোখের রক্তধমনীকে ফাটিয়ে ফেলতে পারেন! হ্যাঁ, সেটাও ঘটতে পারে আপনার তীব্র শীৎকারের চোটে। এটা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। তবে এমন হলে চিন্তার কোনও কারণ নেই। দু’দিন পরে আপনাআপনিই মিলিয়ে যাবে অস্বস্তি!

মৃত্যু

প্রবাদ বলে, যৌনতাবিহীন মৃত্যুর থেকে অন্তত যৌনতার সময় মৃত্যু ভাল! তথ্য বলছে যৌনতা হল গোটা বিশ্বের ০.৬ শতাংশ মৃত্যুর কারণ। ক্যালকুলেটর নিয়ে গোটা বিশ্বের জনসংখ্যার ০.৬ শতাংশ হিসেব করে ফেলুন দেখি! ভয় লাগছে তো? আচ্ছা আরও একটা তথ্য দিই, যৌনতাজনিত হঠাৎ মৃত্যুর পরিসংখ্যান কিন্তু পরকীয়ারত পুরুষদের ক্ষেত্রেই বেশি।

কনডোম হারানো

সেফ সেক্স আর কনডোম যেন সমার্থক। তবে কনডোম থেকে বিপদ ঘটার সম্ভাবনাও কম নয়। যৌনতার সময় কনডোম খুলে গিয়ে যৌনাঙ্গের ভেতরে ঢুকে গিয়েছে এমন ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু ওরাল সেক্স করার সময় কনডোম গিলে ফেলা বা আরও খারাপ ভাবে শ্বাসনালিতে ঢুকে যাওয়ার মতো ঘটনা যতই উদ্ভট শোনাক, মোটেও অস্বাভাবিক নয়।

কামড়

কামড়, আঁচড় কিংবা ছড়ে যাওয়া– যৌনতার কারণে ডাক্তারের কাছে ছোটার সব থেকে সাধারণ কারণ। হঠাৎ গুঁতো খেয়ে চোট লাগার ঘটনাও খুবই স্বাভাবিক। এমনকী স্প্যাংকিং-ও এর কারণ হতে পারে। গলার কাছে লাল দাগ আপনার সম্পর্কে দু’টো কথা সবাইকে জানিয়ে দেয়– এক, আপনি সদ্য যৌনতা করেছেন আর আপনার কোনও গলা ঢাকার কাপড় কেনার সামর্থ্য নেই। অথবা আপনি সবাইকে সব কিছুই জানাতে চান। তবে জানাজানিতে বিপদ থাকুক বা না থাকুক, কামড়ের তীব্রতা খুব বেশি হলে তা কিন্তু এর থেকে অনেকটা বেশি বিপজ্জনক! নিতে হতে পারে ইঞ্জেকশনও!

তা হলে সমস্ত আশঙ্কার কথাই জেনে গেলেন, এবার থেকে যতই ভালবাসুন সঙ্গীকে, যৌনতার সময়ে একটু সামলে থাকাই ভাল।

আরও পড়ুন: দুজনের মাঝে নাক আসুক বা না-আসুক, চুমু খাওয়ার সময়ে মাথা কিন্তু ডান দিকেই হেলবে

Shares

Comments are closed.