দিল্লি হিংসা: সাংসদের অভিযোগের পরেও পুলিশ উদাসীন! অমিত শাহকে লিখিত অভিযোগ অকালি দলনেতার

এক জন সাংসদ ব্যক্তিগতভাবে অভিযোগ করার পরেও যদি পুলিশ এমন উদাসীন থাকে এই পরিস্থিতিতেও, তাহলে সেটা কি আশ্চর্যের নয়!

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং দিল্লির উপরাজ্যপাল অনিল বায়জলকে চিঠি লিখলেন শিরোমণি আকালি দলের সাংসদ নরেশ গুজরাল। অভিযোগ করলেন, দিল্লির মৌজপুর এলাকায় আটকে পড়া ১৬ জনকে সাহায্য করার জন্য তিনি বারবার পুলিশকে অনুরোধ করলেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি চিঠিতে লেখেন, “আমি এক জন সাংসদ। এক জন সাংসদ ব্যক্তিগতভাবে অভিযোগ করার পরেও যদি পুলিশ এমন উদাসীন থাকে এই পরিস্থিতিতেও, তাহলে সেটা কি আশ্চর্যের নয়!”

    পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তা এবং উদাসীনতার অভিযোগ তুলে লেখা এই চিঠিতে সাংসদ নরেশ গুজরাল জানান, বুধবার রাতে একদল উত্তেজিত জনতা উত্তর-পূর্ব দিল্লির মৌজপুরের একটি মহল্লায় ঢুকে পড়ে অশান্তি বাঁধায়। সেখানে আটকে পড়েন ১৬ জন মুসলিম ব্যক্তি, তাঁদের সহায়তার জন্য বারবার পুলিশকে জানালেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি তারা।

    চিঠিতে ওই সাংসদ লেখেন, “আমি পরিস্থিতির জরুরি অবস্থা সম্পর্কে পুলিশকে জানাই। এটাও জানাই, যে আমি একজন সাংসদ। রাত তখন ১১:৪৩ বাজে। দিল্লি পুলিশের তরফে আমায় জানানো হয়, আমার অভিযোগ নেওয়া হয়েছে। আমার অভিযোগ নম্বরও দেওয়া হয় ৯৪৬৬০৩…। কিন্তু ওই অবধিই। আমার অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। দিল্লি পুলিশের তরফে ওই ১৬ জন কোনও সাহায্যও পাননি। কয়েক জন হিন্দু প্রতিবেশী সাহায্য করায় তাঁরা পালিয়ে যেতে পারেন।”

    নাগরিকত্ব আইন নিয়ে হিংসায় উত্তপ্ত রাজধানী। রবিবার থেকেই চলছে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ। গোটা শহর যেন ধ্বংসস্তূপ। রাস্তায় মোতায়েন কয়েকশো আধা সামরিক বাহিনী এবং পুলিশ। মৃতের সংখ্যা ছুঁয়েছে ৩৮। এই অবস্থায় বারবার অভিযোগ উঠেছে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার। সাংসদ নরেশ গুজরালের চিঠি সেই নিষ্ক্রিয়তাকেই আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

    এর আগেও অকালি দলের সাংসদ নরেশ গুজরালের মন্তব্যে বিজেপির সঙ্গে অকালি দলের দূরত্ব বাড়ে। নরেশ বলেছিলেন, নাগরিকত্ব আইনের মধ্যে মুসলিমদেরও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। তার পরেই বিজেপি ও অকালি দলের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়। বিজেপিকে পরোক্ষে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি সে সময়ে বলেন, যেভাবে শরিকদের সঙ্গে আচরণ করা হচ্ছে, তাতে অনেকেই অসন্তুষ্ট। যদিও এর পরে গত মাসেই অকালি দল ঘোষণা করে যে, দু’দলের মধ্যে তৈরি হওয়া ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে ফেলা হয়েছে।

    কিন্তু হিংসার আবহে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে অকালি-সাংসদের লেখা চিঠি আরও একবার উস্কে দিল বিতর্ক।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More