সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬

দেবশ্রী রায় আড়াল ভেঙে সামনে, ঝলসে উঠল ক্যামেরা, জটিল হল ধাঁধা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেই ১৪ অগস্ট থেকে তিনি আড়ালে। সেই যেদিন দিল্লিতে বিজেপি সদর অফিসে এক ঝলক দেখা গিয়েছিল দেবশ্রী রায়কে। তার পর থেকেই মহাভারত সিরিয়ালের সত্যবতী পর্দানশসিন হয়ে যান। তাঁকে নিয়ে অনেক জল্পনা থাকলেও তার সত্যাসত্য জানার উপায় ছিল না। রাতের অন্ধকারে গিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের বাড়িতে। তা নিয়ে জল্পনার পর জল্পনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু তিনি নীরবে থেকে গিয়েছেন আড়ালে। ফোনটাও সুইচ অফ করে।

কেউ যোগাযোগ করতে পারেনি। অবশেষে বুধবার দেখা মিলল। এলেন বিধানসভায়। তবে এখনও মুখে কুলুপ।

তিনি কি বিজেপিতে আসছেন? এই প্রশ্নটা রাজ্য রাজনীতিতে সেই কবে থেকে। কিন্তু এখনও সে উত্তর পাওয়া যায়নি। তিনি বিজেপিতে এলে শোভন চট্টোপাধ্যায়, বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়রা থাকবেন না। তিনি এলে শোভন-বৈশাখীকে হারাতে রাজি দিলীপ ঘোষ। তিনি এমন অনেক খবরে গত প্রায় এক মাস ধরে। কিন্তু সেই তিনি কোনও কথা বলেননি। দেখাও দেননি। বুধবার দেখা দিলেও সাংবাদিকদের এড়িয়ে গেলেন। কোনও প্রশ্নেরই মুখোমুখি হলেন না এককালের ডাকসাইটে অভিনেত্রী। তবে একটা রহস্যের কিছুটা উত্তর পাওয়া গিয়েছে। যদিও সেই উত্তরে মূল ধাঁধা আরও জটিল হল।

এদিন বিধানস‌ভায় ছিল তথ্য-সংস্কৃতি স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠক। কমিটির সদস্য হিসেবে বৈঠকে যোগ দেন রায়দিঘির বিধায়ক দেবশ্রী। এর পরে বিধানসভায় মহিলা বিধায়কদের বসার জায়গায় যান তিনি। সেখানে মালা সাহা, জ্যোৎস্না মান্ডি, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা বিধায়করা ছিলেন। তাঁদের কাছেই দেবশ্রী দিয়েছেন সেই লাখ টাকা দামের প্রশ্নের উত্তর। শোভন-বৈশাখীর যোগদানের দিনেই কার সঙ্গে তিনি গিয়েছিলেন দিল্লিতে বিজেপি দফতরে? দেবশ্রী জানিয়েছেন, একটি এনজিও তাঁকে সেখানে নিয়ে যায়। কিন্তু কোন সে এনজিও তা অবশ্য তিনি খোলসা করেননি।

এনজিও রহস্যটাও নতুন নয়। এর আগেই সেই রহস্যের কথা বলেছেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। যদিও কোন সে এনজিও, কী তার লক্ষ্য, দেবশ্রী রায়ের সঙ্গে সম্পর্ক কী, বিজেপির দফতরেই বা যেতে হল কেন– এমন অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে বিজেপি, তৃণমূল সকলেই। তার একটিরও উত্তর মিলল না এদিন। সত্যিই পুরনো ধাঁধা জটিল হল আরও।

Comments are closed.