শনিবার, মার্চ ২৩

শরীর ভালো রাখতে রোজ যত্ন নিন লিভারের, খান আপেল, বিট, লেবুর রস

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শরীরের যাবতীয় হজমের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে লিভারের। রক্তকে ছেঁকে নিয়ে, তার থেকে বিষাক্ত বা ক্ষতিকারণ উপাদান বার করে দেয়ে লিভার। তার পর খাবারের পুষ্টির উপাদানগুলিকে প্রসেসিং করে। লিভারের এই সব কার্যকলাপের পরেই শরীরের সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গে সেই রক্ত পৌঁছয়। সামগ্রিক ভাবে শরীরকে পুরোপুরি সুস্থ রাখতে লিভারের যত্ন নিতেই হবে।

আমরা না চাইলেও, ব্যস্ততার এই যুগে অনেক সময় আমরা তাড়াহুড়োতে এমন কিছু খাই, যা লিভারের পক্ষে আদৌ ভালো নয়। মাথায় রাখতে হবে যে আমরা প্রতিদিন যা যা খাই তার মধ্যে কয়েকটা কিন্তু লিভারকে ধীরে ধীরে নষ্ট করে ফেলে। বিশেষত, তেল বা চর্বিজাতীয় খাবার, অতিরিক্ত নুন ও চিনি দেওয়া খাবার দিনের পর দিন খেতে থাকলে লিভারের স্বাস্থ্যের উপর তার কুপ্রভাব পড়বেই। ফলে লিভার তার কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

ফাস্ট ফুড ও প্রসেসড ফুড পুরোপুরি এড়িয়ে চলা হয়তো সম্ভব হয় না, কিন্তু একটু কষ্ট করে যদি সেটা অনেকটা কমিয়ে ফেলতে পারি, তা হলে লিভারকে ভালো রাখতে পারব বহুদিন। সুগার ফ্রি জাতীয় কৃত্রিম চিনি ও মোনো সোডিয়াম গ্লুটামেট লিভারের পক্ষে অতি মাত্রায় ক্ষতিকর। খাবারকে সুস্বাদু বানাতে অতিরিক্ত পরিমাণে কৃত্রিম ফ্লেভার না দেওয়াই লিভারের পক্ষে ভালো। ভালো করে ধুয়ে নেওয়া কাঁচা কিছু সব্জি লিভারের পক্ষে আদর্শ।


শরীর ও লিভারকে টক্সিন থেকে বাঁচাতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস তৈরি করুন। রসুন, পেঁয়াজ ও লেবুর রস এই তিনটি জিনিসই লিভারের ডিটক্সিফিকেশনে সাহায্য করে ও শরীরকে ভালো রাখে। আপেলে থাকে পেকটিন নামে একটি উপাদান যা শরীরে জমে থাকা পারদের মতো হেভি মেটালকে বার করে দিতে সাহায্য করে। গাঢ় লাল বিটকে রাখুন খাদ্যতালিকায়। বিটে আছে অ্যান্টি টিউমার উপাদান। আছে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিড্যান্টও, যেমন অ্যান্থোসায়ানাইড এবং ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট। এগুলি খাবারের তেল ও চর্বিজাতীয় জিনিসের ক্ষতিকারক উপাদানকে শরীর থেকে বার করে দেয়।

মদ যে লিভারের পক্ষে খারাপ সে তো জানাই সবার। মদ যখন শরীরে ঢোকে, লিভার তখন তার অন্য কাজ বন্ধ করে অ্যালকোহল থেকে শরীরকে বাঁচাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে লিভার তার পুরো কাজ করতে পারে না। মনে রাখবেন, ধূমপানও লিভারের পক্ষে ক্ষতিকর। গাদাগাদা পেন কিলার খাবেন না। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনও ওষুধই খাওয়া উচিত না। কারণ এই সব ওষুধের জন্য খারাপ হতে পারে লিভার। এমনিতেই কিছু অসুখে লিভার বেশি মাত্রায় খারাপ হয়ে যায়। যেমন হেপাটাইটিস এ, বি  সি এবং সিরোসিস অফ লিভার। যক্ষ্মা ও অন্ত্রের কিছু অসুখ থেকেও খারাপ হতে পারে লিভার। মনে রাখবেন, লিভারের যত্ন নিতে হবে প্রতি মিনিটেই। যা প্রাণে চাইলো খেয়ে নিলাম, এমন যেন না হয়।

সব শেষে মনে রাখতে হবে ওজন যেন ঠিক থাকে। জাঙ্ক ও ফ্যাটি ফুড খেয়ে ওজন বাড়াবেন না। রোজ ব্যায়াম করুন। খাবারের তালিকায় রাখুন নানা রকম দানাশস্য, ফল, সব্জি আর দুগ্ধজাত জিনিস। প্রচুর জল খান। ধূমপান পুরোপুরি ছেড়ে দিন, অ্যালকোহল খেলে সামান্য।

আরও পড়ুন: 

Shares

Comments are closed.