লাদাখ সীমান্ত থেকে মোটেই পুরোপুরি সরেনি চিনা বাহিনী! বেজিংয়ের দাবি উড়িয়ে দিল ভারত

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব লাদাখে ভারত চিন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর অশান্তি চলছেই কয়েক মাস ধরে। শেষে দু’পক্ষের আলোচনায় ঠিক হয়েছে, সেনা সরিয়ে নেওয়া হবে সীমান্ত থেকে। সেই মতো দু’দিন আগেই চিন দাবি করেছে, বাহিনী সরিয়ে নিয়েছে তারা, পরিস্থিতি সহজ হচ্ছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার সে দাবি খণ্ডন করে চিনকে পাল্টা জবাব দিল ভারত। জানিয়ে দিল, সীমান্তে তাদের কার্যকলাপ খানিক নিষ্ক্রিয় হলেও এখনও সেনা প্রত্যাহার করেনি চিন।

এ বিষয়ে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, চিনের তরফে সেনা প্রত্যাহারের কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। তবে পরিস্থিতির কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে ঠিকই। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য দুই দেশের সিনিয়র কমান্ডাররাই ফের অদূর ভবিষ্যতে বৈঠক করতে পারেন। কারণ সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখা ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি।

অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন, “ভারত আশা করে চিনা প্রতিনিধিরা শীঘ্রই সীমান্ত অঞ্চলে সম্পূর্ণ ভাবে সেনা নিষ্ক্রিয় করবে এবং সীম্নাতে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য আন্তরিক ভাবে ভারতের সঙ্গে কাজ করবে।”

গত সপ্তাহেই জানা গিয়েছিল, সেনা সরানোর প্রক্রিয়া শুরু করলেও, তা শেষ হওযার আগেই থামিয়ে দিয়েছে চিন। এখনও বড় সংখ্যক চিনা সেনা মোতায়েন ছিল এলাকায়। সংখ্যাটা ৪০ হাজারের কম নয় বলে সূত্রের খবর। অথচ তার আগেই লাদাখের গালওয়ান ভ্যালিতে চিনা সেনার নিষ্ক্রিয়তা সম্পর্কে বলতে গিয়ে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন জানিয়েছিলেন, বেশিরভাগ অঞ্চল থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

জুলাই মাসের শুরুর দিকে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে বৈঠক করেন এনএসএ অজিত দোভাল। এর পরেই দু’দেশের সেনাবাহিনী সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। গালওয়ান উপত্যকার ফিঙ্গার ৪ থেকে ফিঙ্গার ৫ পর্যন্ত পিছু হটে যায় চিনা সেনা। কিন্তু ভারতের দাবি, এখনও এলএসি-র এপারেই দাঁড়িয়ে আছে চিনের বড় বাহিনী।

যদিও চুক্তি অনুযায়ী তা হওয়ার কথা ছিল না। শেষতম বৈঠকের পরে ভারত সেনা সরানোর ব্যাপারে কথা রাখলেও বেজিং কথার খেলাপ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে বিদেশ মন্ত্রকের তরফে। ভারতের এই দাবি যথারীতি অস্বীকার করেছে বেজিং। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করা হয়েছে, চুক্তিমতো অধিকাংশ জায়গা থেকেই সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কোনও ভাবেই স্ট্র্যাটেজি বদল করার কথা ভাবছে না চিন। লাদাখে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই চায় চিন।

কূটনীতিকরা বলছেন, কথার খেলাপ করা চিনের পক্ষে নতুন কিছু নয়। তবে সম্ভবত রাফাল দেখে চিনের খানিকটা সুর নরম। ইতিমধ্যেই ভারতে পাঁচটি রাফাল ফাইটার জেট এসে পৌঁছেছে। সেটি ভারতের মাটি ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং টুইটে লিখেছিলেন এবার ভারতের আগে চোখ তুলে তাকানোর আগে দশবার ভাবতে হবে। ভারত ছেড়ে কথা বলবে না।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More