সোমবার, অক্টোবর ১৪

ভারত কারও বাপের নয়, শুরুতেই আক্রমণাত্মক তৃণমূলের মহুয়া

  • 508
  •  
  •  
    508
    Shares

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কখনও হিন্দি কবি রামধারী সিং দিনাকর আবার কখনও কবি রাহেত ফতে ইন্দোরিকে সংসদে উদ্ধৃত করলেন মহুয়া মৈত্র। আর তার মধ্য দিয়েই বিজেপিকে বার্তা দিলেন, ‘ভারত কারও বাপের নয়, সবার রক্তে গড়া।’

মঙ্গলবার জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) ইস্যুতে লোকসভায় বক্তব্য রাখেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র। ২০১৯-এর লোকসভা ভোটের ফল বেরোনোর পর প্রথম বাদল অধিবেশন শুরু হয় গত সপ্তাহে। আর তার শুরুতেই দাপট দেখালেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ। এনআরসি ইস্যুতে কেন্দ্রের শাসক দলকে ঠুকে তিনি বলেন, সংসদের সদস্যরা নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট দিতেই যদি ব্যর্থ হন তাহলে আপনারা কিসের ভিত্তিতে সাধারণ মানুষের কাছে নাগরিকত্বের প্রমাণ চাইছেন? যারা ৫০ বছর ধরে দেশে থাকছেন তাঁদেরকে বাধ্য করছে প্রমাণ দেখাতে? বলেন, ‘…সাভি কা খুন হ্যায় সামিল ইহাঁ কি মিট্টি ম্যায়/কিসি কে বাপ কা হিন্দুস্তান থোড়ি হ্যায়।’

সংসদে মহুয়া।

জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) প্রকাশের পর পরই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে অসমে গিয়েছিলেন। বিমানবন্দরে রাজ্য সরকারি বাধা এড়াতে গিয়ে পুলিশি ধস্তাধস্তির মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। সাংসদ জীবনের শুরুতেই সেই এনআরসিকেই হাতিয়ার করলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর দাবি, এনআরসি-র নামে একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষদের নিশানা করা হচ্ছে। উগ্র জাতীয়বাদের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, “গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে এই কাল্পনিক উগ্র জাতীয়বাদ।”

এদিন গণপিটুনি নিয়েও গেরুয়া শিবিরকে আক্রমণ করেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ। তাঁর ভাষণে উঠে আসে পেহলু খান হত্যা থেকে সম্প্রতি ঝাড়খণ্ডে গণপিটুনির জেরে মৃত্যুর উল্লেখ। মহুয়া স‌ংসদে বলেন, “মণীষীদের অপমান প্রতিদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। গবেষণার জন্য অনুদান কমানো হচ্ছে। আপনারা ভারতকে অন্ধকার যুগে নিয়ে যাচ্ছেন।”

এদিন মহুয়া মৈত্রর বক্তব্যের পরেই জবাব দেন বাংলার আর এক সাংসদ দিলীপ ঘোষ। শাসক দলের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে এদিন রাজ্য বিজেপি সাংসদ পাল্টা আক্রমণ করেন রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে।

Comments are closed.