বৃহস্পতিবার, জুন ২০

অভিষেকের ভোকাল টনিকে কোচবিহারে উলট পুরাণ, মাদারের মারে হাসপাতালে যুবরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোচবিহারের রাসমেলা মাঠ থেকেই শুরু হওয়ার কথা ছিল বিজেপি-র রথযাত্রা। কিন্তু গেরুয়া শিবিরের সেই রথের চাকা আদালতের গাড্ডায় ফেঁসে রয়েছে। কিন্তু ওই রাসমেলার মাঠে যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভার পরেই কোচবিহার তৃণমূলের রথের চাকা উল্টো দিকে ঘুরতে শুরু করে দিল। এতদিন উত্তরবাংলার এই জেলায় যুবদের দাপটে এক প্রকার কুঁকড়ে থাকত মাদার। এ বার সেটাই ঘুরে গেল উল্টো দিকে।

অভিযোগ, মাদারের ‘তাণ্ডবে’ শুধুমাত্র দিনহাটা হাসপাতালেই ভর্তি রয়েছেন ১৫ জন যুব তৃণমূল নেতা-কর্মী। জেলার বিভিন্ন অংশে যুব নেতাদের বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে মাদারের বিরুদ্ধে।

প্রসঙ্গত, কোচবিহারের মাদার-যুবর কোন্দল নতুন ঘটনা নয়। দলের বহু সভায় জেলা নেতাদের পইপই জরে কোন্দল থামানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। কিন্তু কে শোনে কার কথা। কোচবিহারের শাসক দলে কোনও বদল ঘটেনি। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তো বোমা-বন্দুকে ছয়লাপ হয়ে গিয়েছিল গোটা জেলা। এমন সব অস্ত্র এসেছিল, যা দেখে প্রশাসনের রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছিল। আর এ সবেই নাম জড়িয়েছিল যুবদের। উনিশ পড়তেই উলট পুরাণ।

গত ৭ জানুয়ারি কোচবিহারে রাসমেলার মাঠে ব্রিগেডের প্রস্তুতি সভায় গিয়েছিলেন অভিষেক। গোটা বক্তৃতার অনেকাংশ জুড়েই যুবদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। মাস দুয়েক আগেই কোচবিহারের দাপুটে যুব নেতা নিশীথ প্রামাণিককে বহিষ্কার করেছিল তৃণমূল। অভিষেক তাঁর বক্তৃতায় নিশীথের নাম উচ্চারণ না করে তাঁকেই তুলোধনা করেছিলেন। আর তার পরেই খোলস ছেড়ে বেরোয় মাদার। জানা গিয়েছে, যুব নিধন অপারেশনে মাদারকে সাহায্য করছে পুলিশও।

গোটা ঘটনায় উদ্বিগ্ন তৃণমূলের উপরের সারির নেতারা। যদিও, জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, “কিছু সমাজবিরোধী যুব’র নাম করে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছে। প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, মাদারের উপর ক্ষুব্ধ মানুষ প্রতিবাদের মঞ্চ হিসেবে যুবকে বেছে নিয়েছিল। অনেকেই মনে করছেন, এখন যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে জনতার একটা বড় অংশ শেল্টার পাওয়ার জন্য বিজেপি-তে যেতে পারেন। আর তা যদি সত্যি সত্যিই হয়, তাহলে উনিশের ভোটে দিনহাটা, সিতাই, শীতলকুচি, নাটাবাড়ি, মাথাভাঙার বড় অংশে শাসক দলকে বেগ পেতে হবে।

Comments are closed.