দেব থেকে পার্থ, নরম সুরে চিকিৎসকদের কাজে ফিরতে অনুরোধ তৃণমূল নেতাদের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিরাপত্তা নেই তাঁদের। এনআরএসে গুন্ডাদের হাতে মার খেয়ে জুনিয়র চিকিৎসক পরিবহ মুখোপাধ্যায়ের মাথার খুলি তুবড়ে যাওয়ার ঘটনা সে কথাই আরও এক বার প্রমাণ করেছে তীব্র ভাবে। এই নিগ্রহের প্রতিবাদে রাজ্য জুড়ে থমকে স্বাস্থ্য পরিষেবা। কর্মবিরতি চলছে চিকিৎসকদের। ফলে অসংখ্য রোগীও নিরাপত্তা হারিয়েছেন। এই চূড়ান্ত অস্থিরতায় রোগী পরিবার থেকে শুরু করে আন্দোলনকারী চিকিৎসক মহল– সকলেই চেয়েছিলেন এক জনকেই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। চিকিৎসকেরা চেয়েছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী এসে দায়িত্ব নিন তাঁদের নিরাপত্তার। রোগীরা চেয়েছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী এসে দায়িত্ব নিন তাঁদের চিকিৎসার সুযোগ পাওয়ার।

তিনি এসেছিলেন গত কাল। এসএসকেএমের আন্দোলনে এসেছিলেন। কিন্তু গোটা পরিস্থিতি যে সহানুভূতি দাবি করেছিল, তার লেশমাত্র ছিল না মমতার আচরণে। রীতিমতো হুঙ্কার দিয়ে, হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানান, চার ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসকেরা কাজে না ফিরলে, হস্টেল খালি করে দেওয়া হবে। বলেন, চিকিৎসার মতো জরুরি পরিষেবা বন্ধ করা যায় না। এসএসকেএমে চিকিৎসার অভাবে অপেক্ষা করা কয়েক জনের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করেন তিনি। কিন্তু একটা বারের জন্যও কথা পর্যন্ত বলেন না আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে। পরিবহর মার খাওয়ার ঘটনাকে ‘তাৎক্ষণিক উত্তেজনা’ বলে ঘোষণা করেন। এবং তাঁর এই প্রচণ্ড হুঙ্কারি স্বরে আরও তীব্র হয় প্রতিরোধ, প্রতিবাদ। গণ ইস্তফা দিতে শুরু করেন রাজ্য জুড়ে শয়ে শয়ে চিকিৎসক।

এ রকমই সময়ে আচমকা নরম সুর তৃণমূলেরই নেতাদের। দেব, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম– সকলেই অনুরোধ করেন চিকিৎসকদের কাজে ফিরতে।

এ দিন ঘাঁটালের সাংসদ দেব টুইট করেন, “যাঁরা আমাদের প্রাণ বাঁচান, তাঁরাই কেন বারবার মার খাবেন? তাঁদের সুরক্ষার দায়িত্ব আমাদের। আবার তারই সঙ্গে লক্ষ লক্ষ অসুস্থ মানুষ ডাক্তারবাবুদের দিকে তাকিয়ে, আপনারা পাশে না দাঁড়ালে তারা অসহায়। সবার শুভবুদ্ধি ফিরে আসুক, সমস্যার সমাধান চাই।”

দেখুন সেই টুইট।

দেব বরাবরই অন্যদের চেয়ে ব্যতিক্রমী। বাকি সকলে চিকিৎসকদের কাজে ফিরতে বললেও, একমাত্র তিনিই উল্লেখ করেছেন, চিকিৎসকদের সুরক্ষা দেওয়াটাও সাধারণ মানুষের দায়িত্ব। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও ফেসবুকে আবেদন করেন চিকিৎসকেরা যেন কাজে ফেরেন। তিনি লেখেন, “যতই ভুল-বোঝাবুঝি হোক না কেন মানুষের উপর বিশ্বাস রাখো।” তিনি আরও জানান, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা যেমন দরকার, তেমনই রোগগ্রস্ত মানুষ যে চিকিৎসকদের সেবায় ভাল হয়ে উঠবে, সেটাও দরকার। তাই এই বিষয়টি আবেগ দিয়ে নয়, হৃদয় দিয়ে বিবেচনা করার আবেদন রেখেছেন তিনি।

দেখুন তাঁর পোস্ট।

আমি আন্দোলনকারী আমার ছোট ছোট ডাক্তার বন্ধুদের কাছে আন্তরিকভাবে অনুরোধ জানাই যতই ভুল-বোঝাবুঝি হোক না কেন মানুষের উপর…

Partha Chatterjee এতে পোস্ট করেছেন বৃহস্পতিবার, 13 জুন, 2019

মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও জানান, চিকিৎসকেরা দাবিদাওয়া নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা শুরু করুন কিন্তু পরিষেবা অব্যাহত রাখুন। জানান, চিকিৎসকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা মুখ্যমন্ত্রী নিজে করেছেন। দেখুন সেই পোস্ট।

আন্দোলনরত ডাক্তারবাবুদের কাছে একান্ত অনুরোধ পরিষেবা শুরু করুন |বিভিন্ন হাসপাতালে রুগী মৃত্য হচ্ছে এটাকে মানবিকতার সাথে…

Firhad Hakim এতে পোস্ট করেছেন শুক্রবার, 14 জুন, 2019

তবে নেতা-মন্ত্রীদের এই বোধোদয়ের আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিবাচক মতামত রেখেছিলেন তাঁদের ডাক্তারি পড়ুয়া সন্তানরা। আন্দোলনের গোড়ার দিকেই চিকিৎসক নিগ্রহের বিরুদ্ধে সরব হন ফিরহাদ হাকিমের কন্যা শাব্বা হাকিম। জানিয়ে দেন, রাজনীতি রাজনীতির জায়গায়, চিকিৎসা চিকিৎসার জায়গায়। তিনি এক জন হবু চিকিৎসক হিসেবে এই আন্দোলনের পাশে আছেন। এমনকী গত কাল মুখ্যমন্ত্রী যখন হস্টেল খালি করে দেওয়ার হুমকি দেন, তখনও তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন, তাঁদের হস্টেলে এসে আশ্রয় নিতে পারেন জুনিয়র চিকিৎসকেরা।

দেখুন সেই পোস্ট।

This was posted by Doctors for Cause. A non profit started by my wonderful juniors like Anujeet Paul, Arjun Talapatra and others. Please if any of you feel unsafe make your way to KPC.

Shabba Hakim এতে পোস্ট করেছেন বৃহস্পতিবার, 13 জুন, 2019

হাকিম কন্যার পথেই হেঁটেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো আবেশ বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তারদের অবস্থান বিক্ষোভে অংশ নেন তিনি। প্রতিবাদ মিছিলে পা মেলান কেপিসি মেডিক্যালের পডু়য়া আবেশ।

এর পরেই বৃহস্পতিবার রাতে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ছেলে, পেশায় চিকিৎসক বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার সরব হয়েছেন আন্দোলনের পক্ষে। জুনিয়র ডাক্তারদের উপর হামলা, সেই থেকে তৈরি হওয়া অস্থিরতা, আন্দোলন, রাজনীতি এই সবের মধ্যে তাঁর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন বৈদ্যনাথ। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি স্পষ্টই বলেছেন, তিনি এনআরএসের সঙ্গে আছেন, রাজনীতি গোল্লায় যাক!

তৃণমূলের কট্টর সমর্থক ও এক সাংসদের পুত্র হওয়া সত্ত্বেও আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তারদের পাশে রয়েছেন। তিনি লিখেছেন, দুশো জন উর্দুভাষী জনতা হাসপাতালে ঢুকে তাণ্ডব করে, এক ডাক্তারকে প্রায় মৃত্যুর দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। এটা কোনওমতেই মেনে নেওয়া যায় না। সেই দুশো হামলাকারীর মধ্যে মাত্র পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, এটাও মেনে নেওয়া যায় না। তিনি লিখেছেন, হাসপাতালে ডাক্তারেরা নিরাপদ নন, তাঁদের কুপিয়ে হত্যা করা হতে পারে এই আশঙ্কা থেকেই যায়। ডাক্তারেরা যেখানে মানুষের জীবন বাঁচাচ্ছেন, সেখানে তাঁদের বিরুদ্ধে অন্যায় ভাবে রাজনীতির রং দেওয়া হচ্ছে। তিনি নিজে গিয়ে আন্দোলনরত ডাক্তারদের খাবার ও জল পৌঁছে দেবেন বলে জানিয়েছেন বৈদ্যনাথ।

দেখুন তাঁর পোস্ট।

https://www.facebook.com/bdastidar/posts/10211888674526096

তবে সবাইকে চমকে দিয়েছে যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সাংসদ তথা আইএমএ সভাপতি ডাঃ শান্তনু সেনের স্ত্রী। দেশের সমস্ত ডাক্তারদের একজোট হওয়ার আবেদন করেছেন তিনি। ডাঃ কাকলি সেন লিখেছেন, “প্রয়োজন হলে যত ক্ষণ না দাবি পূরণ হচ্ছে তত ক্ষণ দেশের সমস্ত চিকিৎসা পরিষেবা বন্ধ রাখা হোক। ডাক্তারদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস নয়।”

প্রশাসনের বিরুদ্ধে যখন সব মহলের ক্ষোভ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে, তখন নেতামন্ত্রীদের পরিবারের তরফে এই অরাজনৈতিক অবস্থান অনেককেই বিস্মিত করেছে। সেই সঙ্গে আশাও জাগিয়েছে।

তবে আন্দোলনের চার দিনের মাথায় নেতামন্ত্রীদের এই নরম সুরে অনেকেই মনে করছেন, এসএসকেএমে গিয়ে যে হুঙ্কার দিয়ে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, তার জেরে যে ভাবে মুখ ঘুরিয়েছে গোটা চিকিৎসা মহল, যে ভাবে গণ ইস্তফা চলছে রাজ্য জুড়ে, সেই ক্ষতি পূরণ করতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নেমেছেন তাঁরা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More