বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪

‘সিপিএম-বিজেপির দালাল’, পুলিশকে প্রকাশ্যে শাসানি তৃণমূলনেত্রীর, আক্রমণ অনুব্রত মণ্ডলকেও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মনে পড়ে তৃণমূলের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সেই নেত্রীর কথা?

সেটা ২০০৭-০৮ সাল হবে। তখন সেই দাপুটে তৃণমূলনেত্রী দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার নোদাখালি থানার ভিতরে ঢুকে তৎকালীন আইসিকে বলেছিলেন, “মেরে তোমার জিভ ছিঁড়ে নেব ……!” এক দশক পর যেন তাঁর সেই পুলিশকে ধমকানোর স্মৃতি ফিরিয়ে আনলেন পূর্ব বর্ধমানের গুসকড়ার তৃণমূলনেত্রী তথা পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান মল্লিকা চোঙদার।

ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে আউশগ্রাম থানার অন্তর্গত গুসকড়া পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা অফিসার স্নেহময় চক্রবর্তীকে দেদার শাসাচ্ছেন মল্লিকাদেবী। কী বলছেন? বলছেন, “আপনি সিপিএম আর বিজেপির দালাল। আপনি গুসকড়ায় তৃণমূলের শত্রু। আপনি স্নেহময় নন। আপনি দাবাং। পারলে আমায় কেস দিন। আপনাকে একটা নেতা পুষে রেখে দিয়েছে। আপনাকে কেষ্ট মণ্ডল পুষে রেখেছে বলে আপনার এত বাড়বাড়ন্ত।”

কালীপুজোয় জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় একটি বচসার ঘটনা থেকে গণ্ডগোল হয় গত মঙ্গলবার। সেই খবর পেয়ে ওই এলাকায় যান স্নেহময় চক্রবর্তী। তখনই তাঁকে অনুগামীদের নিয়ে ঘিরে ধরে ডাকাবুকো তৃণমূলনেত্রী হিসেবে পরিচিত মল্লিকা চোঙদার হুমকি দেন বলে অভিযোগ।

বর্ধমানের এই এলাকার সাংগঠনিক দায়িত্বে অনুব্রত মণ্ডল। দীর্ঘদিন ধরেই অনুব্রতর বিরুদ্ধে সরব মল্লিকা। লোকসভার কয়েকমাস আগে একটি দলীয় সভায় অনুব্রতবাবুকে বলতে শোনা গিয়েছিল, “ওই মল্লিকা না কী যেন নাম মেয়েটার! ও বিজেপি হয়ে গেছে। ওকে সরিয়ে দে।”

যদিও এই গোটা ঘটনা নিয়ে মুখ খোলেনি পুলিশ। মল্লিকাদেবীরও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। যদিও অনুব্রত মণ্ডলের অনুগামীরা বলছেন, আসলে ওখানকার আইসি খুব কড়া। যে নেতারা দুর্নীতি করছিল, তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিচ্ছিল। তাই মল্লিকাদের মৌরুসীপাট্টা বন্ধ হতেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, গত কয়েক বছরে একাধিক ঘটনা দেখা গিয়েছে, যেখানে পুলিশকে ধমক দিচ্ছেন শাসকদলের নেতারা। খোদ কলকাতায় দেখা গিয়েছে সমাজবিরোধীদের ভয়ে টেবিলের তলায় লুকিয়ে পড়ছে পুলিশ। এই ঘটনা তাতেই নতুন সংযোজন।

Comments are closed.