লোকসভার ভোট ধরে রাখতে পারছে না বিজেপি, একুশের জন্য অক্সিজেন পেল তৃণমূল

দিল্লি ভোটের ফলাফলের পর আরেকটি বিষয়ও পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। তা হল- বিজেপি উগ্র ধর্মীয় মেরুকরণের তাস খেলেছে ঠিকই কিন্তু তাতে আপ-এর সুবিধা হয়েছে বেশি। কারণ, সংখ্যাগুরুর ভোটের মেরুকরণ ষোল আনা ঘটেনি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যওয়াড়ি ফলাফলের কথা মনে পড়ে! দিল্লিতে সাতটি লোকসভা আসনের মধ্যে সাতটিতেই জিতেছিল বিজেপি। অথচ বিধানসভা ভোটে ধুয়ে সাফ হয়ে গেল!

    শুধু দিল্লি কেন! হরিয়ানার বিধানসভা ভোটের ফলাফল দেখুন। লোকসভা ভোটে হরিয়ানায় ১০ টি আসনের মধ্যে ১০টিতেই জিতেছিল বিজেপি। কিন্তু ৬ মাসের মধ্যেই সেখানে যখন বিধানসভা ভোট হল, এক সংখ্যাগরিষ্ঠতাই অর্জণ করতে পারল না মোদী-অমিত শাহর দল।

    তার আগে ওড়িশায় দেখুন। সেখানে লোকসভা ও বিধানসভার ভোট একই সঙ্গে হয়েছে। মজার ব্যাপার লোকসভা ভোটে বিজেপি সেখানে রাতারাতি সাতটি আসন বাড়িয়ে ফেললেও, বিধানসভায় জয় অব্যহত থাকল বিজু জনতারই।

    এবার আসুন ঝাড়খণ্ডে। লোকসভা ভোটে ঝাড়খণ্ডের ১৪ টি আসনের মধ্যে ১৩টিতেই জিতেছিল বিজেপি। অথচ বিধানসভা নির্বাচনে সেখানে সরকারই ধরে রাখতে পারল না গেরুয়া শিবির।

    এগুলো নিছক কাকতালীয় ঘটনা নয়। রাজনীতিতে একেই বলে ট্রেন্ড। তা নিত্য নয় ঠিকই, বরং অনিত্য। তবু একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই ট্রেন্ড রাজনীতির একটা দিক নির্দেশ করে।

    বলাবাহুল্য সেই মঙ্গলবার দিল্লি ভোটের ফলাফলে সেই দিক নির্দেশের পর দৃশ্যতই উজ্জীবিত দিদি এবং গোটা তৃণমূল। তাঁদের আশা বাড়ছে- দিল্লি, হরিয়ানা, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ডে বিধানসভা ভোটে যখন লোকসভা নির্বাচনের সাফল্য ধরে রাখতে পারছে না বিজেপি, তখন বাংলাতেও অন্যথা হবে না। উনিশের ভোটে বাংলায় রাতারাতি ১৮ টি আসনে জিতে যাওয়া বিজেপির অশ্বমেধ একুশেই রুখে দেওয়া যাতে পারে। মজবুত সংগঠন, বুথ স্তরে ম্যানেজমেন্ট, ঐক্যবদ্ধ দল, আর সরকারের পপুলিস্ট সব প্রকল্পের রসায়ণে আটকে দেওয়া যাবে বিজেপির বৃদ্ধি। উপরি থাকবে তৃণমূলের দিকে সংখ্যালঘু ভোটের মেরুকরণ। আর সর্বোপরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ।

    মঙ্গলবার বাঁকুড়ায় জনসভা ছিল দিদির। এবং দিল্লি ভোটের ফলাফল দেখার পর সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে এই প্রথম একুশের ভোটের জন্য দলকে প্রস্তুত হওয়ার কথা বললেন তিনি।

    বস্তুত রাজ্য স্তরের নির্বাচনে বিজেপির একটা দুর্বলতা বার বারই প্রকাশ পেয়ে যাচ্ছে। তা হল, রাজ্যে রাজ্যে গ্রহণযোগ্য নেতার অভাব। এমন নেতা যিনি আঞ্চলিক নেতৃত্বকে টেক্কা দিতে পারেন। যাঁর সঙ্গে রাজ্যের লোক রয়েছেন।

    গত পাঁচ বছরে দিল্লি, হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশায় এমন নেতা কিন্তু তৈরি করতে পারেননি নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ। মনোহরলাল খট্টর, মনোজ তিওয়ারি, রঘুবর দাসকে মুখ করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাঁদের দেখেই বোঝা গিয়েছে—এঁরা দিল্লির পুতুল। সূর্যের আলোয় তাঁরা আলোকিত। নিজেদের কোনও ধার বা ভার নেই। বাংলাতেও সেদিক থেকে অ্যাডভান্টেজ দিদিই। রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের সমাজের একটি অংশে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে ঠিকই। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মোকাবিলায় দিলীপবাবুই যথেষ্ট—এমন ধারনা বাংলার রাজনীতিতে তৈরি হয়নি।

    তাৎপর্যপূর্ণ হল, দিল্লি ভোটের ফলাফলের পর আরেকটি বিষয়ও পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। তা হল- বিজেপি উগ্র ধর্মীয় মেরুকরণের তাস খেলেছে ঠিকই কিন্তু তাতে আপ-এর সুবিধা হয়েছে বেশি। কারণ, সংখ্যাগুরুর ভোটের মেরুকরণ ষোল আনা ঘটেনি। বরং হয়তো ‘গোলি মারো শালে কো’-র মতো স্লোগান শুনে সংখ্যালঘু ভোটের ষোল আনা মেরুকরণ হয়েছে আম আদমি পার্টির অনুকূলে। অরবিন্দ কেজরিওয়াল বা প্রশান্ত কিশোররা মুখে সে কথা বলবেন না ঠিকই, বরং ফল ঘোষণার পর কেজরিওয়াল কৌশলে জয় হনুমান ধ্বনি তুলেছেন। কিন্তু বাস্তব হল, সংখ্যালঘু ভোটের পুরোটাই আম আদমির অনুকূলে চলে যাওয়ায় কংগ্রেসের দেউলিয়া অবস্থা হয়েছে।

    পর্যবেক্ষকদের অধিকাংশই মনে করেন বাংলাতেও এর অন্যথা হবে না। আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দল বাংলায় শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করলেও সংখ্যালঘুরা কৌশলগত ভাবেই সেই দলের পক্ষেই ভোট দেবেন যারা বিজেপিকে ঠেকাতে পারবে।
    তবে এতো কিছুর একটা বিপরীত যুক্তিও রয়েছে। তা হল, ঝাড়খণ্ড বা হরিয়ানায় বিজেপিকে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার চাপ সামলাতে হয়েছে। দিল্লি ও ওড়িশায় সরকারের বিরুদ্ধে কোনও প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া সেভাবে ছিল না। কিন্তু বাংলায় তৃণমূল স্তরে শাসক দলের স্থানীয় নেতা-বিধায়ক-মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। ক্ষোভ রয়েছে, কাটমানি, অনুন্নয়ন, কর্মসংস্থানের অভাব ইত্যাদির বিরুদ্ধে। লোকসভা ভোটে সে সবেরই সুবিধা পেয়েছিল বিজেপি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More