মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭

‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি ঘিরে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ, বোমা, ভাঙচুর, বৃদ্ধকে মার

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচীকে ঘিরে শুক্রবার তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতির বাড়িতে বোমাবাজি, ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। আবার বিজেপির সমর্থক বৃদ্ধ প্রদীপ মন্ডলকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে অঞ্চল সভাপতির বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে পুলিসের বিরুদ্ধে তৃণমূল কর্মীদের উপর লাঠিচার্জ করার অভিযোগ উঠেছে।  ওই ঘটনায় দু’পক্ষের মোট ছ’জন জখম হয়েছেন। তৃণমূল ও বিজেপি দুই জায়গায় পৃথক ভাবে পথ অবরোধ করেছে। আবার ভাঙচুর চালানোর প্রতিবাদে পুলিস বিজেপির শিলদা মন্ডল সভাপতি রজত ঘোষ সহ মোট দু’জনকে আটক করেছে। অতিরিক্ত পুলিস সুপার কুঁয়ার ভূণ সিং, ডিএসপির নেতৃত্বে তিন থানার আইসি সহ বিরাট পুলিস বাহিনী মোতায়ন রয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে বেলপাহাড়ি ব্লকের হাড়দা গ্রামপঞ্চায়েতের হাড়দা গ্রামে ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি পালন করতে গিয়েছিলেন বিনপুরের বিধায়ক খগেন্দ্রনাথ হেমব্রম , ঝাড়গ্রাম পৌরসভার প্রাপ্তম পৌরপিতা দুর্গেশ মল্লদেব। এছাড়া ছিলেন ঝাড়গ্রাম জেলার আরও কয়েকজন নেতা। তৃণমূলের হাড়দা পার্টি অফিস থেকে শুরু হয় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি । গ্রামের চার পাঁচটি বাড়ি যাওয়ার পরেই এলাকার পরিস্থিতি বদলে যায় । উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা । কর্মসূচি চলাকালীন তৃণমূল অঞ্চল সভাপতির বাড়ি লক্ষ্য করে বোমাবাজির পাশাপাশি পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। বিজেপি কর্মীদের বাধা না দিয়ে উল্টে তৃণমূল কর্মীদের উপর লাঠিচার্জ করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় পাঁচ তৃণমূল কর্মী আহত হয়েছেন। তারপরই অঞ্চল অফিসের সামনে পথ শুরু করে তৃণমূল। আবার বিজেপি সমর্থককে মারধর ও আটকের প্রতিবাদে বিজেপি পথ অবরোধ শুরু করে। পরে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিস সুপার কুঁয়ার ভূণ সিং গেলে তৃণমূল কর্মীরা পথ অবরোধে তোলেন।

 

হাড়দা গ্রামে পুলিশ ক্যাম্প থেকেয় বিকেল থেকেই উপস্থিত ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী । এলাকা উত্তপ্ত হওয়ার ফলে আরও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাত্রি আটটার পর পথ অবরোধ তুলে দেওয়ার পর এলাকায় টহল দিচ্ছে পুলিশ বাহিনী ।

হাড়দা গ্রামপঞ্চায়েত তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল । কিন্তু গত বছর পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই এলাকায় তৃণমূলের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যায় । হাড়দা গ্রামপঞ্চায়েতের ১৪ টি আসনের মধ্যেই ১৪ টি জয় লাভ করে বিজেপি । লোকসভা নির্বাচনেও এই এলাকা থেকে ভালো ফল করে বিজেপি ।

বিনপুরের বিধায়ক খগেন্দ্রনাথ হেমব্রম বলেন , এলাকার মানুষের কতদূর উন্নয়ন হয়েছে, কী করলে আরো উন্নয়ন করা যায় সেকথা জানার জন্য এবং কোনও অভাব অভিযোগ থাকলে দিদিকে জানানোর জন্য বাড়ি বাড়ি কার্ড বিলি করছিলাম। ঠিক সেই সময় বিজেপির লোকজন আমাদের কর্মীদের উপর হামলা চালায় । পুলিশও আমাদের কর্মীদের উপরেই লাঠিচার্জ করে । আমাদের অঞ্চল সভাপতির বাড়িতে ইট পাথর ছুঁড়ে ও বোমাবাজি করে বিজেপির লোকজন । আমাদের কর্মীরা এখানে যতক্ষন পথ অবরোধে বসে থাকবে ততক্ষণ আমিও এই পার্টি অফিসে থাকবো ।

 

অপরদিকে তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে হাড়দা গ্রামের বাসিন্দা বিজেপির ঝাড়গ্রাম জেলা সাধারণ সম্পাদক রাজেশ মন্ডল বলেন , এই এলাকায় তৃণমূলের পায়ের তলায় মাটি নেই । তারা ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে । তাদের ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি চলাকালীন আমাদের কিছু কর্মী ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল । সেই সময় বিধায়ক ও পুলিশের উপস্থিতিতেই তৃণমূলের লোকজন আমাদের কর্মীদের  মারধর করে ।

Comments are closed.