চিন থেকে ভারতে কোনও অনুপ্রবেশ হয়নি ছ’মাসে, দু’দেশের সম্পর্ক এতটুকু খারাপও হয়নি! দাবি বিদেশ মন্ত্রকের

২৪

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গালওয়ান বা তার পরবর্তী সংঘর্ষ, চুক্তিলঙ্ঘন, আস্ফালন—এসবের পরেও চিনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এতটুকু নষ্ট হয়নি। বুধবার বোকসভাইয় কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এ কথাই জানানো হয়। শান্তির পক্ষেই বার্তা দিয়ে ভারত স্পষ্ট করে, চিন্র সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সংঘর্ষ খারাপ হোক, তা চাইছে না ভারত।

বুধবার কেন্দ্রের কাছে ভারত-চিনের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তার জবাবে বিদেশ মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী ভি মুরলীধরণ জানান, এখনও পর্যন্ত ভারত ও চিনের মধ্যে তিক্ততা যাই থাক না কেন, সম্পর্ক মোটেই নষ্ট হয়নি। আলোচনায় আগ্রহী দুই দেশই। শান্তি বজায় রাখতেই দুপক্ষ আগ্রহী। পাশাপাশি মন্ত্রকের তরফে বলা হয়, ভারতের বিদেশনীতিই হল পড়শি দেশগুলির সঙ্গে সুস্থ সম্পর্ক বজায় রাখা। তাই বিভিন্ন প্রতিবেশী দেশের উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতিতে ভারত বারবারই হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

সেই কারণেই চিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রক্ষাও জরুরি মনে করে ভারত। পাশাপাশি বুধবার সংসদে কেন্দ্রের তরফে এ-ও দাবি করা হয়, গত ৬ মাসে চিন থেকে ভারতে কোনও অনুপ্রবেশই ঘটেনি। এই কথায় অবশ্য বিরোধীরা প্রশ্ন তোলেন। কারণ লাদাখ সীমান্তে যে সমস্যা, তা চিন আগ বাড়িয়ে এসেই শুরু করেছে বারবার। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর চিনা সেনার সমাবেশ বাড়ানোর খবরও প্রকাশ্যে আসে। এমনকী মে মাসেই প্যাংগং লেকের উত্তর দিকে চিনা সেনা ঢুকে পড়ার খবরও প্রকাশিত হয়।

এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র চিনের অনুপ্রবেশ নিয়ে যে দাবি করছে, তা পুরোপুরি মেনে নেওয়া যায় না বলেই মনে করছে বিরোধীরা।

পাশাপাশি, কয়েক দিন আগেই সীমান্তে চিনা সেনা রীতিমতো উস্কানি মূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে ভারতীয় বাহিনীর তরফে দাবি করা হয়। গতকাল, মঙ্গলবারই প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সংসদে জানান, ভারত-চিন সংঘাত এখনও মেটেনি। চিন বারবার দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ভঙ্গ করছে বলেও অভিযোগ তোলেন রাজনাথ। জানান, সীমান্তের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে দখলদারির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে চিন সেনা। মঙ্গলবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরের দিনই বুধবার সংসদে চিনকে নিয়ে কেন্দ্রের উল্টো সুর বেশ কানে বেজেছে সকলেরই।

বুধবার অবশ্য সীমান্তের উত্তেজনা নিয়ে বিবৃতি মিলেছে চিনের তরফেও। তবে তারা আবার পাল্টা আঙুল তুলছে ভারতের দিকে। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভারত যেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেনা সরিয়ে নেয় সীমান্ত থেকে। চিনা পত্রিকা গ্লোবাল টাইমস বিদেশ মন্ত্রকের সূত্র উল্লেখ করে দাবি করেছে, চিন জানিয়েছে তারা নাকি সীমান্তে উত্তেজনার জন্য মোটেই দায়বদ্ধ না। ভারতই নাকি প্রথম দ্বিপাক্ষিক চুক্তি লঙ্ঘন করে সীমান্ত অতিক্রম করেছিল।

এরকম মিথ্যে অভিযোগ করে চিন যে আদৌ কতটা শান্তি বজায় রাখতে চাইছে সীমান্তে, সে নিয়েও সন্দেহের অবকাশ থেকে যাচ্ছে বলেই মনে করছে বিরোধীরা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More