মঙ্গলবার, মার্চ ১৯

জনসংখ্যা কমছে, সন্তানের জন্ম দিলেই পুরস্কার দিচ্ছে জাপানের এক শহর

দ্য ওয়াল ব্যুরো : পৃথিবী জুড়ে যখন জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে, তখন তার উলটোপথে হাঁটছে জাপানের এক শহর। পশ্চিম জাপানে ছবির মতো সুন্দর শহরটির নাম নাগি। আমেরিকার পুলিৎজার সেন্টারের রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই শহরে জনসংখ্যা বাড়ানোর জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে কোনও দম্পতি সন্তানের জন্ম দিলেই তাদের পুরস্কার দেওয়া হয়।

শহরের নিয়ম অনুযায়ী, কোনও পরিবার যত বেশি সন্তানের জন্ম দেবে, তত বেশি পুরস্কার মিলবে তাদের। প্রথম সন্তানের জন্মের পরে দেওয়া হবে ১ লক্ষ ইয়েন ( ৬১ হাজার টাকা), দ্বিতীয় সন্তান জন্মালে দেড় লক্ষ ইয়েন (৯২ হাজার টাকা), তৃতীয় সন্তান জন্মালে ৪ লক্ষ ইয়েন (২ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা)।

এখানেই শেষ নয়। সন্তানের জন্ম হওয়ার পরে দম্পতিরা সস্তায় ঘর ভাড়া পান। সন্তানদের টিকা দিতে কোনও খরচ হয় না। সে যদি শহরের বাইরে কোনও স্কুলে পড়তে যায়, পুর প্রশাসন তার যাতায়াতের খরচ দিয়ে থাকে। অসুস্থ শিশুদের জন্য বিনামূল্যে ডে কেয়ারের ব্যবস্থাও করা হয়।

২০০৫ সালে দেখা যায়, নাগি শহরে মহিলা পিছু সন্তান ধারণের হার মাত্রই ২.৪। তার পরে সন্তানের জন্মদানে উৎসাহ দেওয়ার জন্য ওই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এর ফলে সেখানে মহিলা পিছু সন্তান ধারণের হার বেড়ে হয়েছিল ২.৮। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে এই হার কমে দাঁড়ায় ১.৯ শতাংশ।

বর্তমানে নাগি শহরের জনসংখ্যা মাত্র ৬ হাজার। সেখানে কোথাও ভিড় হয় না। যে কোনও সিনেমা হল, শপিং মল ও অন্যান্য শপিং মল সবসময় ফাঁকা থাকে।

শুধু নাগি নয়, সামগ্রিকভাবে জাপানেই কমছে জন্মহার। একমাত্র সেখানেই ১৯৭০ সাল থেকে প্রতি বছর জন্মের হার কমে যাচ্ছে কিছু কিছু করে। ১৯৭০ সালে জাপানে যত শিশু জন্মেছিল, ২০১৭ সালে জন্মেছে তার চেয়ে ১ লক্ষ কম। কিন্তু মৃত্যুহার বেড়েছে। ২০১৭ সালে জাপানে মারা গিয়েছিলেন ১৩ লক্ষ মানুষ। সেদেশের স্বাস্থ্য ও শ্রম মন্ত্রকের দাবি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে আর কখনই এক বছরে এত মানুষ মারা যাননি।

জাপানের লোকসংখ্যা ১২ কোটি ৭০ লক্ষ। তার মধ্যে মাত্র ১২.৩ শতাংশ শিশু। ভারতে মোট জনসংখ্যার ৩১ শতাংশ শিশু। আমেরিকায় ১৭ শতাংশ ও চিনে জনসংখ্যার ১৯ শতাংশ শিশু। জাপানিদের উদ্বেগ, ২০৬৫ সালের মধ্যে সেদেশের জনসংখ্যা ৮ কোটি ৮০ লক্ষ কমে যাবে।

Shares

Comments are closed.