শুক্রবার, নভেম্বর ২২
TheWall
TheWall

১০ বছর ধরে ২০০ বাচ্চাকে বিনামূল্যে পড়াচ্ছেন এই অধ্যাপক! দিচ্ছেন খাবার, আশ্রয়ও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক দিন বা দু’দিন নয়। এক বছর বা দু’বছরও নয়। টানা দশ বছর ধরে দু’শোরও বেশি গরিব শিশুকে বিনা পারিশ্রমিকে পড়াশোনা করিয়ে চলেছেন তিনি। সেই সঙ্গে তাদের দিয়েছেন আশ্রয়, খাবার। দেশের প্রতিটা শিশুর কাছে শিক্ষা, খাবার পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। এবং সে স্বপ্ন পূরণ করতে নিজের সাধ্যমতো লড়াই করে চলেছেন এক দশক ধরে। পেশায় প্রফেসর হলেও, হায়দরাবাদের সৈয়দ জাহাঙ্গির নামের এই মানুষটি আসলে এক জন সমাজ সংস্কারক।

প্রফেসর জাহাঙ্গিরের কথায়, “শিক্ষাই শক্তি জোগায়। তথ্য জ্ঞান বৃদ্ধি করে। প্রত্যেক সমাজে, পরিবারের মধ্যে শিক্ষার গুরুত্ব বাড়ছে দিন দিন।”

আরব স্টাডিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রধান এই প্রফেসর নিজে তাঁর ছাত্র-ছাত্রীদের তিনটি বিষয় পড়ান। ভাষা, সামাজিক শিক্ষা এবং পলিটিক্যাল সায়েন্স। প্রফেসরের কথায়, “আমি বিশ্বাস করি, বাচ্চারা যে যে বিষয়ে দুর্বল হয়, সেই সেই বিষয়ে আরও উন্নত মানের শিক্ষা দরকার। এবং এই উন্নত শিক্ষার জন্য নামিদামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়েও বেশি জরুরি সেরা শিক্ষক।”

তিনি মনে করেন, এই সময়ে শিক্ষার অঙ্গাঙ্গি অংশ হওয়া উচিত একাধিক ভাষার চর্চা। সেই কারণেই তিনি নিজে ইংরেজি, সংস্কৃত, আরবি, উর্দু ও পার্সি ভাষা শেখান তাঁর পড়ুয়াদের। এবং কত সহজে ও কত দ্রুত এক একটি ভাষাকে আত্মস্থ করানো যায়, সে বিষয়েও নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যান প্রফেসর। এ ছাড়াও অঙ্ক, বিজ্ঞান, ইতিহাস, ভূগোল– সবই নিয়ম মেনে পড়ানো হয় জাহাঙ্গিরের এই স্কুলে।

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়, তার পরে বাকি গোটা দিনটা গরিব ছেলেমেয়েদের শিক্ষার পেছনে ব্যয় করা– এটাই দশ বছরের রুটিন প্রফেসর জাহাঙ্গিরের। তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতেও কম পরিশ্রম করতে হয় না তাঁকে। দেখতে দেখতে নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছেন প্রফেসর জাহাঙ্গির। দেশের অন্যান্য প্রান্ত থেকেও কোনও কোনও অনাথ, অসহায় ছাত্র খবর পেয়ে তাঁর কাছে পড়তে আসে।

জাহাঙ্গির জানালেন, তাঁর কাছে পড়াশোনা করে বেশ কিছু পড়ুয়া এখন বড় বড় বহুজাতিক সংস্থায় অনুবাদক হিসেবে কাজ করছেন।

মহম্মদ সাদিক নামের এক ছাত্র যেমন বলছিল, “আমি বিহার থেকে এখানে এসেছি পড়তে। তিন বছর হল। আগে রাস্তায় থাকতাম, ভিক্ষা করতাম। এখন আমার যা যা লাগে, সবই এখানে পাই। পড়াশোনা করতে খুব ভাল লাগছে। কখনও ভাবিনি, আমার থাকার জায়গা হবে, তিন বেলা খাবার জুটবে, পড়াশোনাও করা হবে।”

আব্দুল আলিম আজ থেকে আট বছর আগে এই স্কুলে এসেছিলেন, যখন তিনি কিশোর ছিলেন। এখন নিজেই শিক্ষক হিসেবে বিজ্ঞান পড়ান জাহাঙ্গিরের অধীনেই। তিনি বললেন, “এখনকার দিনে শিক্ষার চেয়ে বড় সম্পদ আৎ কিছু নেই। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে, এখনও এ দেশে অনেক শিশুই শিক্ষার  সুযোগটুকুও পায় না। কোনও কোনও পরিবার আবার সন্তানকে পড়াতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে যায়। সকলের জন্যই আমাদের এই চেষ্টা।”

পড়ুন ‘দ্য ওয়াল’ পুজো ম্যাগাজিন ২০১৯–এ প্রকাশিত গল্প

প্রতিফলন

Comments are closed.