পিপিই ছাড়াই হাজার করোনা রোগী দেখেছেন তিন মাসে! তবু কী করে সুস্থ দিল্লির এই কোভিডযোদ্ধা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পিপিই অর্থাৎ পার্সোনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্ট। এই জিনিসটি যেন এখন চিকিৎসকদের কাছে কাছে গায়ের চামড়ার সমার্থক হয়ে গেছে। করোনা রোগীদের চিকিৎসা করার সময়ে সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে ভরসা এই পিপিই কিটই। সারা বিশ্বের চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্যই এই পিপিই কিট পরা বাধ্যতামূলক একটা বিষয়। প্রাণের ভয়ের চেয়ে বড় বাধ্যতা আর কীই বা আছে!

কিন্তু এসবের মধ্যেও ব্যতিক্রম দিল্লির রাজীব গান্ধী সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে চিকিৎসক ডক্টর অজিত জৈন। সেই জুন মাস থেকে মোটেও পিপিই কিট পরছেন না এই কোভিডযোদ্ধা। অথচ একনাগাড়ে করে যাচ্ছেন করোনা রোগীদের চিকিৎসা। সপ্তাহ দুয়েক আগে এই চিকিৎসকের নামই সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে এসেছিল, যখন একটানা ১৭৫ দিন ডিউটি করে তিনি ছুটি পেয়ে বাড়ি এসেছিলেন নয়াদিল্লির কমলানগরে। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে রীতিমতো শঙ্খধ্বনি দিয়ে বরণ করে নেন।

সে না হয় হল, কিন্তু পিপিই কিট ব্যতীত করোনা রোগীদের সংস্পর্শে থাকার সাহস পাচ্ছেন কী করে ওই চিকিৎসক! ডক্টর জৈনের যুক্তি, তিনি অত্যন্ত চিন্তাভাবনা করেই পিপিই কিট না পরার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ করোনাভাইরাস সম্বন্ধে এখনও পর্যন্ত যেটুকু জানা গিয়েছে, তাতে  এই ভাইরাস দেহে প্রবেশ করে মুখ এবং নাক দিয়ে। ফলে দেহের এই দুটি জায়গা ঢেকে রাখলেই ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় বলে মনে করেন ডক্টর জৈন। তা ছাড়া করোনা রোগীদের চিকিৎসা করার পরে তিনি নিজের শরীরের অন্যান্য অংশগুলি ভাল করে জীবাণুমুক্ত করেন।

তিনি জানান, তাঁর অন্যান্য সহকর্মীরা করোনা রোগীদের চিকিৎসা করার সময় নিজের সুরক্ষার জন্য পিপিই কিট, সার্জিক্যাল ক্যাপ, ফেসশিল্ড, এন ৯৫ মাস্ক, জুতোর কভার এবং গ্লাভস পরেন। ফলে তাঁদের থেকে সংক্রমণের সম্ভাবনা খুবই কম। কিন্তু তিনি নিজে কেবল সার্জিক্যাল মাস্ক, ফেস শিল্ড এবং সার্জিক্যাল ক্যাপ পরেই করোনা রোগীদের চিকিৎসা করে থাকেন। তাঁর থেকেও অন্যদের মধ্যে সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে না চট করে। এটা তাঁর সঙ্গে সহকর্মীদের বোঝাপড়ার বিষয় বলেই জানান তিনি।

ডক্টর অজিত জৈন বলেন, ১৬ জুন থেকে তিনি পিপিই কিট পরছেন না। গত তিন মাসে তিনি লাগাতার প্রায় এক হাজার করোনা রোগীর চিকিৎসা করেছেন। এমনকি তিনি সুরক্ষিত আছেন কিনা তা দেখার জন্য এই তিন মাসে মোট পাঁচ বার নিজের করোনা পরীক্ষা করেছেন। প্রত্যেকবারই রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে বলে জানান তিনি।

ডক্টর জৈনের মতে, তাঁর নাক-মুখ বন্ধ থাকার কারণেই শরীরে করোনা ভাইরাস মোটেই থাবা বসাতে পারেননি সংস্পর্শে এসেও। তাঁর সর্তকতা যে পর্যাপ্ত, তার প্রমাণ তাঁর সুরক্ষিত থাকাই। তাঁর কথায়, “তবে তার মানে এই নয়, যে আমি অসতর্ক। আমি পরিমাপ করে সতর্কতা নিয়েছি, যতটা দরকার ততটা। তার মানে এই নয় এমনটাই সকলের করা উচিত। আমি কখনওই কাউকে এরকম কিছু ফলো করতে বলব না। পিপিই পরলে আমি খুব দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলাম। সে কারণেই এই সিদ্ধান্ত। সেটা আমার ক্ষেত্রে কাজও করেছে।”

ডক্টর জৈনের পরিবার জানিয়েছেন, তাঁরা খুব ভয়ে রয়েছেন এই কয়েক মাস ধরে। দেশ জুড়ে এত মানুষ মারা গিয়েছেন, তাঁর মধ্যে কত চিকিৎসকও রয়েছেন। তাই ঘরের মানুষটির স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগে ছিল গোটা পরিবার। তার ওপর তিনি পিপিই কিট পরছেন না। সবমিলিয়ে সারাদিনে হয়ত ৫ মিনিট কথা হত চিকিৎসকের সঙ্গে। সেই কথা বলার জন্য গোটা পরিবার রাত ২টো পর্যন্ত জেগে থাকতেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

দিল্লি সরকার স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের থাকার জন্য একটি হোটেলের ব্যবস্থা করেছিল। সেখানেই এই ৬ মাস ছিলেন ডঃ অজিত জৈন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More