দিল্লিতে তৃতীয় কোভিড ওয়েভ? মন্ত্রী বললেন বোঝা যাবে এক সপ্তাহের মধ্যে

৩২১

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বেশ কয়েকদিন ধরে কোভিড সংক্রমণ কমছিল রাজধানী দিল্লিতে। কিন্তু বুধবার আচমকাই দৈনিক সংক্রমণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬৭৩। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, রাজধানীতে করোনার তৃতীয় ওয়েভ দেখা দিতে পারে। দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন বলেন, তৃতীয় ওয়েভ দেখা দিয়েছে কিনা এখনই বলা সম্ভব নয়। আমাদের এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে। লক্ষ রাখতে হবে, রোজই সংক্রমণ বাড়ছে কিনা। একইসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তৃতীয় ওয়েভের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

গত এক সপ্তাহ ধরে দিল্লিতে দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা ছিল চার হাজারের আশপাশে। সোমবার সংক্রমণ বেড়ে হয় ৪৮৫৩। বুধবার সংক্রমণের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে যায়। দেশ জুড়ে যখন সংক্রমণের হার কমছে, তখন দিল্লিতে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়েছেন অনেকে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করিনি এইভাবে সংক্রমণ বাড়বে। তাঁর কথায়, “এখন উৎসবের মরসুম চলছে। একটু ঠান্ডাও পড়েছে। আমরা করোনা মোকাবিলার কৌশলে কিছু পরিবর্তন করেছি। এখন কেউ করোনা পজিটিভ হলে তার বাড়ির সকলের এবং যারা তার সংস্পর্শে এসেছিল, সকলের করোনা টেস্ট করা হয়। একবার নয়, দু’বার এইরকম টেস্ট করা হয়।”

সত্যেন্দ্র জৈনের মতে, “টেস্টিং-এর সংখ্যা বেড়েছে। তার ফলেও সংক্রমণের সংখ্যা বেশি দেখাতে পারে। এই রোগকে নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে টেস্টিং-এর সংখ্যা বাড়াতেই হবে।”

অনেকেই মনে করছেন, ভ্যাকসিন না আসা অবধি করোনাকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে না। কেন্দ্র জানিয়েছিল, একুশের গোড়াতেই দেশে কোভিড ভ্যাকসিন চলে আসার সম্ভাবনা প্রবল। একাধিক সংস্থার ভ্যাকসিন দেশের বাজারে চলে আসবে বলেই দাবি করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষবর্ধন। এরপরে প্রশ্ন উঠেছিল, টিকা চলে আসার পরে প্রথম কাদের দেওয়া হবে। টিকার অগ্রাধিকার পাবে কারা?  এ প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্র বলেছিল, গুরুত্ব বুঝেই টিকার সমবন্টন করা হবে। কাদের আগে দেওয়া হবে তার গাইডলাইন তৈরি হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ৩০ কোটি মানুষকে আগে করোনার টিকা দেওয়া হবে। তার জন্য প্রোটোকল তৈরি হয়েছে। রাজ্যে রাজ্যে সে প্রটোকল পৌঁছে দেওয়া হবে। কেন্দ্রের নির্দেশিকা মেনেই টিকাকরণ করতে হবে। যে বয়সের মানুষকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে তার তালিকাও তৈরি হচ্ছে। এর জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রক রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে মিলে কাজ করছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রক এই মুহূর্তে একটি ফরম্যাট তৈরি করছে যেখানে রাজ্যগুলি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নামের তালিকা জমা দিতে হবে। ভ্যাকসিন দেওয়ার ক্ষেত্রে কারা অগ্রাধিকার পাবে তার একটা রূপরেখাও জানানো হয়েছে কেন্দ্রের তরফে।

পেশা, বয়স ইত্যাদির ভিত্তিতে গুরুত্ব বুঝে চারটি ক্যাটেগরি করা হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। প্রথমেই রয়েছেন ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, আশাকর্মী, ডাক্তারি পড়ুয়ারা। সব মিলিয়ে প্রায় এক কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া হবে আগে। দ্বিতীয়ত, পুলিশ, প্রশাসন, মিউনিসিপ্যালিটির কর্মী মিলিয়ে অন্তত ২ কোটি জনকে টিকা দেওয়ার তালিকা তৈরি হয়েছে।  তৃতীয় ক্যাটেগরিতে রাখা রয়েছে ২৬ কোটি মানুষকে, যাদের বয়স ৫০ বছরের বেশি। চতুর্থ ক্যাটেগরিতে থাকবে কোমবির্ডিটির রোগীরা এবং ৫০ বছরের কম লোকজন যাদের পেশার জন্য বেশি মেলামেশা করার প্রয়োজন হয়। এই চার ক্যাটেগরিতে কারা থাকবেন তাদের তালিকা তৈরি করে নভেম্বরের মাঝামাঝি জমা করতে হবে কেন্দ্রকে। এই তালিকায় যাদের রাখা হবে তাদের আধার কার্ড ও অন্যান্য পরিচয়পত্র দিতে হবে রাজ্যগুলিকে।

কেন্দ্র জানিয়েছে, কাদের ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে, কী পরিমাণ ডোজ বিতরণ করা হচ্ছে এবং টিকা সংরক্ষণের কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে তার রিপোর্ট রাখতে অনলাইন ট্রেনিং মডিউল তৈরি হচ্ছে। ‘ইলেকট্রনিক ভ্যাকসিন ইনটেলিজেন্স নেটওয়ার্ক’ নামে এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে টিকার বিতরণ ও সংরক্ষণের সব তথ্য রেকর্ড করা থাকবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More