শনিবার, মার্চ ২৩

এত সন্ত্রাস কেন

দিল্লির এক নামজাদা সাংবাদিক, যিনি নেত্রীর ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত, টুইট করলেন…….এ কী কাণ্ড! চৌতিরিশ শতাংশ আসনে ভোট হলো না! ভয় দেখিয়ে চোখ রাঙিয়ে নাম তুলতে বাধ্য করা হলো! এ তো খুবই উদ্বেগের বিষয়!

পাল্টা টুইট ও এল। দিদির দলের এক সাংসদের কাছ থেকে, যিনি দলের অন্যতম সর্বভারতীয় মুখ হিসেবে দিদির যথেষ্ট আস্থাভাজনও বটে। তিনি সহজ ব্যাখ্যা দিলেন কেন এত গুলো আসনে ভোটের লড়াই হচ্ছে না। এক নম্বর, সি পি এম বলো কংগ্রেস বলো বা মোদির দল, কারোরই বাংলার মাটিতে কোনো সংগঠন নেই। দুই, গ্রামে গঞ্জে প্রচুর কাজ হয়েছে, দিদি একটার পর একটা সামাজিক প্রকল্প এনেছেন, যা মা ভাই বোন দের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। তিন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যাযের আর এক নাম সম্মোহন। তিনি আস্থার প্রতীক।

আর ভয় দেখানো, রক্তপাত, খুনখারাপি প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, বাম আমলে ভোট সন্ত্রাসে এত এত মানুষ মরেনি? এক ২০০৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটেই এক দিনে ৩০/৪০ জন খুন হয়নি? যে কোনো মৃত্যুই দুঃখজনক। তবে সে গুলো তো মাথায় রাখতে হবে!

তার কাছে যে বার্তা পাঠিয়েছেন, তাতে এ সব মনে রাখারাখির মধ্যে যাননি। সাফ সাফ বলে দিয়েছিলেন যে খুনখারাপি চলবে না। তাতে দুটো সিট কম হবে তো হোক না।

কিন্তু সোমবারের সকাল যে ইঙ্গিত দিতে শুরু করেছে, আগুনের অশান্তি আর অশান্তির আগুন যে ভাবে বিরাজ করছে রাজ্য জুড়ে, তাতে মনে হচ্ছে না ওই বার্তায় বিশেষ কোনো কাজ হয়েছে।

তার মানে কি দলের নিচু তলায় সত্যি আর নিয়ন্ত্রণের রাশ শক্ত রাখা যাচ্ছে না? না কি বার্তা দিতেও কিঞ্চিৎ দেরি হয়ে গেল?  আর তিনি সত্যিই যদি গ্রামজীবনের উন্নয়নে এত কাজ করে থাকেন, তা হলে এ সব বার্তা দিতে হবেই বা কেন? মানুষ তো স্বতঃস্ফূর্ত ভাবেই ব্যালট বাক্সকে ভরিয়ে দেবে জোড়া ফুলের অভিনন্দনে!

নেত্রী বা তাঁর লেফটেন্যান্ট রা যদিও বলবেন, শাসক কখনও অশান্তি করে না, বিরোধী রা গন্ডগোল পাকিয়ে পাল্টা দোষ চাপাচ্ছে, আমজনতার কেমন যেন সব গুলিয়ে যাচ্ছে। কোনটা ঠিক কোন টা ভুল। কোনটা সত্যি। কোনটা অর্ধসত্যি। কোনটা মিথ্যে।

 

 

Shares

Leave A Reply