বৃহস্পতিবার, জুন ২৭

মায়ার খেলা

আজব কারখানাই বটে।

এই তো সেদিন আমরা কত মাখো মাখো আলিঙ্গনের সাক্ষী হলাম, বেঙ্গালুরুর মঞ্চে কত ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সুরে সুর মিলিয়ে আকাশের দিকে দৃপ্ত হাত নিক্ষেপ করে  বৃন্দগান। কিন্তু সে সুর মেলানোর আগেই সুর কাটতে শুরু করলো নাকি!

সনিয়া-সাহচর্যে দেবগৌড়া তনয়ের সিংহাসনে আরোহনের দিন আমরা কী কী তথাকথিত “ফোটো অপ” দেখেছিলাম, খেয়াল আছে কি? সব মনে না থাকলেও রাহুলের মায়ের সঙ্গে তাঁর মায়া পিসির অভূতপূর্ব কপাল ঠোকাঠুকি নিশ্চই এত সহজে ভোলেননি! দুই বোনের বেনজির শারীরিক নৈকট্য কোনো সংবাদ মাধ্যমই উপেক্ষা করতে পারেননি।

সেই মায়াবতীই দিন তিনেক যেতে না যেতেই তাঁর দলের কর্মীদের সটান বলে দিলেন, কোনো বেচাল হলেই একা লড়বে তাঁর দল। অন্যায়ের সঙ্গে আপস তিনি করেন না। কোনো অসম্মান মেনে নেবেন না। প্রাক ভোট বোঝাপড়ায় আসন সংখ্যা মনঃপূত হলেই তিনি জোট গড়বেন। নতুবা যে যার পথ দেখে নাও ভাই।

এই মায়ার খেলা শুধু আর্যাবর্তে শুরু হয়েছে তা কিন্তু নয়। কুমারস্বামী কী বলেছেন, খেয়াল করেছেন নাকি? আবেগাপ্লুত গলায় বলেছেন, আমি তো কর্ণাটকের সাড়ে ছয় কোটি মানুষের সমর্থন পেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মসনদে বসিনি, কংগ্রেসের বদান্যতায় এসেছি ক্ষমতায়। চাষিভাইদের ধার-কর্জ মুকুব করে দেব প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চেয়েছি।  করতে না পারলে ক্ষমতা ছেড়ে দেব।

কৃষিঋণ এক্ষুনি মুকুবের দাবিতে বিজেপি রাজ্যে বনধ ডেকেছে, সেটা যেমন কুমারস্বামীর এই কৌশলী সংলাপের একটা হেতু, তেমনি কংগ্রেসের দয়ার প্রসঙ্গ তোলার মধ্যে তির্যক রাজনীতিরও গন্ধ পেতে পারেন অনেকে।

আসলে ভোট যত এগোবে, জোট-বোঝাপড়া-করমর্দন- কোলাকুলির পাশাপাশি পরস্পরকে চাপে রাখার পারদ চড়বে সব শিবিরেই। প্রায় দেড় বছর অতিবাহিত হওয়ার পরে নীতীশ যেমন হঠাৎ উপলব্ধি করলেন, নোটবন্দি আমজনতার কোনো উপকারে লাগেনি। যারা টাকা নিয়ে পালানোর পালিয়েছে। এতদিন লাগলো তাঁর সেটা বুঝতে? নাকি তিনিও চাপে রাখা শুরু করে দিলেন?

মোদী শিবিরে নীতীশের বেসুর সাম্প্রতিকতম অস্বস্তি। মারাঠা মুলুকে তো তথাকথিত বন্ধু শিবসেনার সঙ্গে বন্ধুত্বের আর লেশমাত্র নেই। পালঘর লোকসভা আসনে দুই মিত্রশক্তি শুধু লড়াই করছে না, পরস্পরকে আক্রমণ করেছে এমন ভাষায় যে শত্রুপক্ষও লজ্জা পাবে।

দেখা যাক আগামী কয়েক মাসে কোথাকার খেলা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।

Leave A Reply