রবিবার, অক্টোবর ২০

জানেন কি এই সেলেবরা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমি আপনি যখন ব্লাড সুগার নিয়ে আলোচনা করি, তখন যে বিষয় গুলো উঠে আসে, তাতে স্ট্রেস একটা মুখ্য জায়গা জুড়ে থাকে।  একটু আরাম করে ভবিষ্যৎ কাটাব, এই স্বপ্নকে সত্যি করতেই তো নিত্যদিন আমরা দৌড়ে মরি, আর স্ট্রেসের বোঝা বাড়তে থাকে।  কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছ্ন কি যাঁদের অগাধ বৈভব আছে, ভবিষ্যতের জমি প্রায় প্রস্তুত, তাঁরাও স্ট্রেসে থাকেন, তাঁদেরও ব্লাড সুগারের সমস্যা আছে! এমন কিছু তারকা আছেন, যাঁরা ব্লাড সুগারে মারাত্মক ভাবে আক্রান্ত।

সোনম কাপুরঃ মাসাক্কালি গার্ল, খুবসুরত সোনম কাপুর।  এই তণ্বী গ্ল্যাম ডিভা তাঁর টিনএজ থেকেই মধুমেহর সাথে লড়াই করছেন।  এখনও তাঁকে রোজ ইনসুলিন নিতে হয়! অত্যন্ত সংযমের জীবন যাপন করতে হয় এই তারকাকে।  সকালে উঠে যোগ থেকে শুরু করে নানা এক্সারসাইজ়, নাচ, খাওয়ার প্লেটে বিভিন্ন পদ বাদ থেকে বারে বেশি, পরিমাণে অল্প খাওয়ার অভ্যাস—সবটাই এখনও রুটিনমাফিক করতে হয় সোনম কাপুরকে।

ফাওয়াদ খানঃ ফাওয়াদ খান বহু মেয়ের রাতের ঘুম উড়িয়েছেন।  কিন্তু এই হ্যাণ্ডসাম হাঙ্ক যে হাই ব্লাড সুগারের শিকার, সে খবর হয় তো অনেকেই জানেন না।  অত্যধিক পরিমাণে ধূমপান করার জন্য মাত্র ১৭ বছর বয়স থেকে হাই ব্লাড সুগারে আক্রান্ত হন তিনি।  আপাতত তিনি ভেজিটেরিয়ান ডায়েটের উপর থাকেন, আর রোজ সকালটা শুরু করেন হাল্কা গরম জলে লেবুর রস দিয়ে।  ব্রেকফাস্টে ডিম আর সিরিয়ালের উপরই ভরসা করেন তিনি।  তাঁকে পর্দায় দেখে যতজন আহা উহু করেন, তাঁরা হয় তো খোঁজ রাখেন না, সারাদিন ধরে তাঁর জীবন কতটা নিয়মমাফিক চলে।

ওয়াসিম আক্রমঃ ওয়াসিম আক্রমকে ২২ গজে দৌড়ে বেরাতে দেখেছেন সকলে।  কিন্তু তাঁর মাথায়ও আকাশ ভেঙে পড়েছিল, যখন মাত্র তিরিশ বছর বয়সে জেনেছিলেন তিনি ডায়াবেটিসের খপ্পরে পড়েছেন।  তিনি বলেছেন, “আমার পরিবারে কেউ এই রোগে আক্রান্ত ছিলেন না।  আমি নিজে সারাদিন ফিটনেসের দিকে নজর রাখতাম।  এত খেলাধুলোয় থাকতাম, তারপরেও যখন শুনেছিলাম আমার সুগার হাই হয়েছে, আমি ভেঙে পড়েছিলাম।  সে সময়ে ডাক্তাররা আমায় খুব সাহায্য করেছিলেন।  আমার এই রোগ নিয়ে যখন চিন্তা বেড়ে গেছিল, ডাক্তাররাই আমায় বলেছিলেন, খুব বেশি চিন্তা করলে এই সুগার আরও বাড়তে পারে। ”

নিক জোনাসঃ পিগি চপস এখন যাঁর বক্ষলগ্না, সেই নিক জোনাসও সুগারের রোগী , আপনি জানতেন? এবং সেই সুগারের মাত্রা কত জানেন? ৭০০ ! যেখানে সুগার সাধারণত ৭০ থেকে ১২০ তে থাকা দরকার, সেখানে তাঁর ২০০৭ সালে সুগারের মাত্রা ছিল ৭০০!  সে সময় সারাদিনে বারবার তাঁর তেষ্টা পেত এবং ওজন খুব তাড়াতাড়ি কমে যাচ্ছিল।  এই উপসর্গ দেখে তিনি যখন ডাক্তারের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করান, তখনই দেখেন তাঁর ওই ভয়ঙ্কর মাত্রায় সুগার রয়েছে।  গায়ক-নায়ক জোনাস এরপরেই হাসপাতালে ভর্তি হন এবং কোনওক্রমে তাঁকে সামলানো সম্ভব হয়।  সাধারণত ২০ বছরের কম মানুষের এ ধরণের ডায়াবেটিস হয়।  একে বলা হয় জুভেনাইল ডায়াবেটিস বা টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস।

অতএব কী বুঝলেন? শরীরে কখন কোন রোগ এসে থাবা বসাবে, তা আপনি জানেন না।  আপনার বয়স, লিঙ্গ, দৈনিক যাপন কোনওকিছুরই ধার ধারে না সে।  তাই নিজের হাতে যতটুকু আছে, সামলে রাখুন।  সুস্থ থাকুন।

Comments are closed.