সোমবার, জানুয়ারি ২৭
TheWall
TheWall

বিরোধীশূন্য

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

এমন নয় যে প্রবণতাটা অভূতপূর্ব এবং আগের জমানা ধোয়া তুলসীপাতা ছিল। কিন্তু শব্দবন্ধটা হালফিলে যেমন ঘনঘন শোনা যায়, সেটা হত না। এখন তো কথাটা কখনও দিদি বলছেন, কখনও তাঁর ভাইরা বলছেন, বোনেরা বলছেন, ভাইপোরা বলছেন। একদম কোরাস যেন।

বিরোধীশূন্য।

বলাই বাহুল্য, ভোটের মরসুমে এই শব্দটির ডিম্যান্ড বেশি হয়। স্থানীয় স্তরের ভোটে আরও বেশি। আগের বছর পুরভোটের সময়ে যেমন। নেত্রী হুঙ্কার ছাড়ছেন, আর দলের বড়, ছোট, মেজ, সেজ সব স্তরের নেতারা ঝাঁপিয়ে পড়লেন নির্দেশকে অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়িত করতে। যেখানে কাজ হয়েছে, যেখানে কাজ হয়নি; বা যেখানে দলের আত্মবিশ্বাস আছে, যেখানে দল ততটা কনফিডেন্ট নয়—সর্বত্র।

সাম্প্রতিক পঞ্চায়েত ভোটেই বা কী হলো? দিদি আমাদের বললেন, যে উন্নয়ন গ্রামে গঞ্জে হয়েছে, সেটা আগের জমানায় ভাবাই যেত না। উনি ঠিক বলেছেন। কাজ বাস্তবিক হয়েছে। উন্নয়ন বাস্তবিক হয়েছে। আবার এটাও সত্যি, তাঁর প্রিয় কেষ্টবিষ্টু ভাই সেই উন্নয়ন শব্দটাকেই খেলো করে এমন ভয় দেখালেন বিরোধীদের, যাতে তারা এলাকা ছেড়ে শূন্যে মিলিয়ে যায়। তাঁর এক অনুজ, যিনি বংশগত ভাবে যথেষ্টই ওজনদার এবং বয়সের তুলনায় বিচক্ষণ বলে সুবিদিত, পুরুলিয়া নিয়ে যা বললেন তা ঠিক সহিষ্ণুতা নয়। এবং নয় যে, তার ইঙ্গিত মিলছে দুটো তাজা প্রাণের বিনিময়ে।

কিন্তু কেন অসহিষ্ণুতা দেখানোর এই প্রবণতা? সুস্থ গণতন্ত্র যে এই চোখরাঙানি, ভীতিপ্রদর্শনকে প্রশ্রয় দেয় না, সুস্থ গণতন্ত্র যে অবাধ ভোটকেই কেবল অনুমোদন করে, সেটা এঁদের মনে করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন আছে কি? এই নীতিবাক্য কি তাঁদের অজানা? আগে বহু বছর বিরোধী থাকাকালীন এই সব কথাই তো ছিল তাঁদের যাবতীয় সাংবাদিক সম্মেলনের লব্জ।

কিন্তু কেন এই শব্দবন্ধটিকে আঁকড়ে ধরা? তা হলে কি সব কিছু করেও কোথাও একটা ভয়, আত্মবিশ্বাসহীনতা কাজ করে? তাই এই ওয়ার ক্রাই? কিন্তু মুশকিল হচ্ছে প্রতীকী ভাবে এই আহ্বান জানালেও দলের নিচুতলার হাতে পড়ার পরে এই শব্দটি বাড়ি জ্বালায়, গলা কাটে, ধর্ষণ করে। সব তছনছ করে দেয়। আমজনতার বিশ্বাসের জায়গাটাকে নষ্ট করে দেয়। একদা আরামবাগ, খানাকুল, কেশপুর, গড়বেতায় যা হয়েছিল।

ইতিহাসকে মনে না রাখলে, বা মনে রেখেও উপেক্ষা করলে, সমূহ বিপদ।

Share.

Leave A Reply