সোমবার, অক্টোবর ১৪

দশমীর পরে শুরু হয় আর এক দেবীর পুজো, জানুন সেই দুর্গার কথা

অনির্বাণ

চার দিনের পুজো শেষ দশমী তিথিতে। নবমী থেকেই বেজে যায় বিদায় বেদনা। কিন্তু দশমী পুজোর দিন দেবী দুর্গার বিসর্জনের পরে বিজয়লাভের সঙ্কল্প নিয়ে হয় অপরাজিতা পুজো। দুর্গার আর এক রূপ ‘অপরাজিতা’। প্রাচীন কালে রাজারা শরৎকালে নবরাত্র ব্রতের পরে বিজয়া দশমীতে যুদ্ধযাত্রা করতেন। কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র-এ এই সময়কেই যুদ্ধযাত্রার শ্রেষ্ঠ সময় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

নানা শাস্ত্রেই এই সম্পর্কে বলা হয়েছে। স্মার্ত পণ্ডিত রঘুনন্দন তাঁর ‘তিথিতত্ত্ব’ গ্রন্থে বলেছেন, যে রাজা দশমী ত্যাগ করে যাত্রা করেন, সারা বছর তাঁর কোথাও জয় হয় না। তাই সারাবছর জীবনযুদ্ধে আমরা যেন অপরাজেয় থাকতে পারি— এই সঙ্কল্প নিয়ে বিজয়া দশমীর দিন দেবী বিসর্জনের পরে আজও অনেক জায়গায় হয় অপরাজিতা পুজো।

শাস্ত্রবচন মতো একটি সাদা অপরাজিতা গাছকে দেবীরূপে কল্পনা করে পুজো করা হয়। কেউ কেউ আবার ঘটস্থাপন করেও দেবী অপরাজিতার পুজো করেন। অনেক জায়গায় পুজোর ফল লাভের জন্য হাতে অপরাজিতা লতা বাঁধার রীতিও রয়েছে। সেই সময়ে প্রার্থনা জানিয়ে বলা হয়, ‘‘বিচিত্র হার শোভিতা উজ্জ্বল স্বর্ণমেখলাধারিনী মঙ্গলনিরতা অপরাজিতা দেবী করোতু বিজয়ং মম।’’ অর্থাৎ, দেবীর কাছে বলা হয়, ‘‘হে অপরাজিতা দেবী, তুমি সর্বদা আমার বিজয় বর্ধন কর। আমার মঙ্গল ও বিজয় লাভের জন্য আমি দক্ষিণ হাতে তোমাকে ধারণ করছি। তুমি শত্রু নাশ করে নানা সমৃদ্ধির সহিত আমাকে বিজয় দান কর। রামচন্দ্র যেমন রাবণের উপর বিজয় লাভ করেছিলেন, আমারও যেন সেইরূপ জয় লাভ হয়।’’

Comments are closed.