সন্তানের পিতৃপরিচয়ের দাবিতে ধর্নায় বসলেন মহিলা

বেলঘড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা সুপ্রভাত চৌধুরী দীর্ঘ বেশ কয়েক বছর ধরে পুনের একটি হোটেলে কাজ করেন। সেই হোটেলেই কাজ করতেন চম্পা নামে ওই মহিলা। একই জায়গায় কাজ করার সূত্রে পরিচয় হয় এই দু'জনের। চম্পাদেবীর অভিযোগ, বছর দশেক আগে পুনেতেই তাকে বিয়ে করেন সুপ্রভাতবাবু। বিবাহের ফলস্বরূপ দুটি সন্তানও রয়েছে এই যুবক যুবতীর।

২৩

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া:  দু’দুটি সন্তান আছে তাঁদের৷ কিন্তু লকডাউনে সেই যে বাড়ি ফিরেছেন, তারপর স্ত্রীর আর কোনো খোঁজ রাখেননি স্বামী৷ দায়িত্ব নেননি সন্তানদেরও। নিজের এবং সন্তানদের অধিকার বুঝে নিতে এবার সেই স্বামীর বাড়ির সামনেই ধর্নায় বসলেন মহিলা। ঘটনাটি ঘটেছে নদীয়ার শান্তিপুর থানার ফুলিয়া এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদিয়া শান্তিপুর থানার বেলঘড়িয়া ১নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বেলঘড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা সুপ্রভাত চৌধুরী দীর্ঘ বেশ কয়েক বছর ধরে পুনের একটি হোটেলে কাজ করেন। সেই হোটেলেই কাজ করতেন চম্পা নামে ওই মহিলা। একই জায়গায় কাজ করার সূত্রে পরিচয় হয় এই দু’জনের। চম্পাদেবীর অভিযোগ, বছর দশেক আগে পুনেতেই তাকে বিয়ে করেন সুপ্রভাতবাবু। বিবাহের ফলস্বরূপ দুটি সন্তানও রয়েছে এই যুবক যুবতীর।

লকডাউনের কিছুদিন আগেই নদিয়ার বাড়িতে ফিরে আসেন সুপ্রভাতবাবু। তারপর থেকে আর কোনও খোঁজ নেই তার।লকডাউনের এই দীর্ঘ ছমাসে একবারও স্ত্রী সন্তানের খবর নেননি এই যুবক। এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে চম্পাদেবী বলেন, বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বললেই দীর্ঘদিন ধরে নানারকম টালবাহানা করতেন ওই যুবক। লকডাউনের মধ্যে বেশ কয়েক মাস ধরে আর কোনও সম্পর্কই রাখছিলেন না সুপ্রভাত।

স্বামী দায়িত্ব অস্বীকার করে পালাতে চাইছেন এটা বুঝেই ওই যুবতী তার দুই সন্তানকে নিয়ে তড়িঘড়ি ওই যুবকের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কথাবার্তায় কাজ হয়নি আগেই। তাই ১৯ তারিখ শনিবার বেলঘড়িয়া গ্রামে ওই যুবকের বাড়ির সামনে স্ত্রী এবং সন্তানের অধিকারের দাবিতে নিজের দুই ছেলেমেয়ের হাত ধরে ধর্নায় বসেন ওই মহিলা।

এই ঘটনায় এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। ঘটনার খবর জানাজানি হতেই শনিবার ওই বাড়ির সামনে ভিড় জমান এলাকার বাসিন্দারা। যদিও মহিলা ধর্নায় বসার আগেই পরিস্থিতি আন্দাজ করে ওই যুবকের পরিবারের সদস্যরা বাড়ির দরজায় তালা ঝুলিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান়।

এর পরেই শান্তিপুর থানায় এসে ওই যুবতী নিজের এবং সন্তানদের অধিকারের দাবিতে সুপ্রভাতবাবুর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে এলাকার পুলিশ। এই ঘটনার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছে অভিযুক্ত সুপ্রভাত চৌধুরী এবং তার পরিবার।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More