সোমবার, এপ্রিল ২২

আমার শিল্পবোধটা একান্তই আমার, সেটা আমাকেই গড়ে তুলতে হবে: অনির্বাণ ভট্টাচার্য্য

থিয়েটারের অভিনয় নিয়ে কী তাঁর নিজস্ব বোধ? কেমন ভাবে নিজেকে তৈরি করা উচিত একজন হবু অভিনেতার? থিয়েটার শিক্ষা নিয়ে কোথায় তাঁর ক্ষোভ? অনির্বাণ ভট্টাচার্য্যের কথা শুনে এলেন কবি ও নাট্যকর্মী পম্পা দেব। তিন পর্বের এই সাক্ষাৎকারের আজ দ্বিতীয় পর্ব। 

পম্পা দেব

এক মনে কথা বলে চলেছেন অনির্বাণ। আশ্চর্য প্রত্যয় তাঁর চোখে। শেষ বিকেলে তাঁর ব্রহ্মপুরের নতুন ফ্ল্যাটে বসে কথা বলছি আমরা।

“অভিনয়ের সময় একজন অভিনেতার মানসিক, শারীরিক, বৌদ্ধিক ভারসাম্য রক্ষা করা, সেটা কী ভাবে হয়?”

“শারীরিক, মানসিক ও বৌদ্ধিক অভিনয় কোনওটাই আলাদা আলাদা নয়। পুরোটাই এক। মানুষের শরীর জৈবিক ভাবে যেমন কাজ করে, এক্ষেত্রেও তাই করে। এটার ভারসাম্য রাখাটা আমার কাজ নয়। এটা আমার শরীরের গঠনতন্ত্রের কাজ।” দু’টো হাত দিয়ে শরীরটাকে যেন টুকরো টুকরো করে ভাগ করে ফেলছেন অনির্বাণ।

“আমার মস্তিষ্ক নিজে থেকে ভারসাম্য রাখে সবটার। এর জন্য আমাকে আলাদা করে কিছু করতে হয় না। শুধু মনটাকে অধ্যবসায়ে নিয়ে যেতে হয়। বাকিটা শরীর নিজে থেকেই করে নেয়।”

“দেখুন অনেকে বলে ক্যারেক্টারে ঢোকা…”

প্রশ্নটা শেষ হল না। কথাটা থামিয়ে দিলেন অনির্বাণ, “ওই কথাটায় আমি বিশ্বাস করি না।”

একটু পজ় নিলেন। “আসলে কোনও ক্যারেক্টারে ঢোকা যায় না। একজন মানুষ কখনই অন্য একজন মানুষ হয়ে উঠতে পারে না। অভিনয় করতে করতে আমারই দুঃখ হয় তখন চোখে জল আসে। আসলে ওটা অনির্বাণেরই কান্না। কোনও অভিনেতার পক্ষেই অন্য চরিত্রের শরীরে বায়োলজিকালি বা অর্গানিক্যালি ঢোকা সম্ভব নয়।”

প্রথম পর্ব : এখানে দর্শক গ্রিনরুমে ঢুকে পড়ে, যা কোনও সভ্য দেশে হয় না : অনির্বাণ ভট্টাচার্য্য

“প্রসেসটা তা হলে কী?”

“অভিনয়ে একজন অভিনেতার জন্য কিছু লাইন আছে। আর যেটা আছে তা হল তাঁর ব্যক্তিগত দেখা, কল্পনা। আমি কোনওদিনও ‘আপনি’ হয়ে উঠতে পারব না। আপনার চরিত্রের অভিনয় করার সময় আমার মধ্যে যে‘আপনি’ আছে সেটা খুঁজে বার করতে হবে। খুঁজে বার করতে হবে আমার মধ্যে ‘আপনি’ কোনটা? আমার নিজের ভেতর থেকেই উপাদান খুঁজে বার করে ‘আপনাকে’ রিক্রিয়েট করতে হবে।

দু’আড়াই ঘণ্টা ধরে একটা নাটকের শো চলে, তখন যদি আমি বলি যে আমি সেইসময় আর অনির্বাণ ছিলাম না, অন্য কেউ ছিলাম, তা হলে সেটা একটা বানানো কথা। লোকমুখে চলতে চলতে হয়ে গিয়েছে।”

“এই যে কান্নার কথা বললেন, অনেকে তো মেকানিক্যালি কাঁদতে পারেন।”

“আমি ওই টেকনিক জানি না। আমার শেখা নেই। আমাদের ইউনিভার্সিটিতে একজন অধ্যাপক শেখানোর চেষ্টা করেছিলেন। কয়েকটা রগ টগ টিপে চোখ থেকে জল বার করে আনতে পারতেন উনি। আমি কোনওদিন ওসব করিনি। শেখার চেষ্টাও করিনি।”

খুব সিরিয়াস হয়ে গেলেন অনির্বাণ, “দেখুন, আমার কাছে ফাইনালি এটা গুরুত্বপূর্ণ নয় যে আমি ‘অমিয় চক্রবর্তী’র অভিনয় করতে গেলে সেটা একদম ‘অমিয় চক্রবর্তী’ হল কিনা। আমি তো গবেষণা করছি না। আমি একদম ওই মানুষটাই হতে পারলাম কিনা সেটা এই প্রযোজনার ক্ষেত্রে আমার কাছে ম্যাটার করে না।”

“তা হলে আপনার কাছে সব থেকে ইমপর্ট্যান্ট কী?”

“আমার কাছে? আমি শুধু ভাবি যে আমি ওই চরিত্রটাকে একটা সত্যে উন্নীত করতে পারলাম কিনা। যদি পারি তা হলে কিন্তু দর্শক আমার সঙ্গে কানেক্ট করতে পারবেন। দর্শক একটা মানুষ বা একটা অবয়বকে দেখতে পাবেন। তিনি বলতে পারেন, উনি প্যান্ট পরতেন না। লুঙ্গি পরতেন। অভিনেতা প্যান্ট ছেড়ে লুঙ্গি পরবে। বলতে পারেন চুলটা ওরকম নয়। হেয়ার স্টাইলটা ঠিক করা যেতে পারে। কিন্তু চরিত্রটা মানুষ হিসেবে কেমন হবে সেটা অভিনেতা ঠিক করবে। অবশ্যই পরিচালকের নেতৃত্বে।”

তৃতীয় পর্ব: থিয়েটারকে কেউ ডমিনেট করতে পারে না : অনির্বাণ ভট্টাচার্য্য

প্যাকেট থেকে সিগারেট বার করে ধরালেন অনির্বাণ। ধোঁয়া ছাড়লেন একবার। আবার বলা শুরু করলেন।

“দেখুন চার্চিলকে নিয়ে দুটো ছবি হয়েছে। একটাতে অভিনয় করেছেন ব্রায়ান কক্স। আরেকটাতে অভিনয় করেছেন গ্যারি ওল্ডম্যান। দু’জনকেই প্রচুর মেক আপ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দু’জনের অভিনয়ের ধারাটা সম্পূর্ণ আলাদা। এ বার কোন চার্চিলটা কেমন, সেটা সম্পূর্ণভাবে এই দু’জনের ওপর নির্ভর করেছে। ‘উই উইল নেভার সারেন্ডার’ কথাটা দু’জন দু’ভাবে বলেছেন। অথচ আসলে কথাটা বলেছিলেন চার্চিল। এটা আসলে খুব ক্রিটিকাল একটা ব্যাপার। এটা কোনও নোটবুক সাজেশন দিয়ে বোঝানো যাবে না। এটা নিজের খুব ভেতরের, খুব সাবডিউড একটা ব্যাপার।”

কথা বলে চলেছেন অনির্বাণ। খাটের ওপর টানটান সোজা হয়ে বসে,

“আসলে এটা একটা অর্গ্যানিক স্পেস। ওই অভিনয়ের সময়টায় আমার গ্রোটস্কিকেও দরকার পড়তে পারে, স্তানিস্লাভস্কিকেও দরকার পড়তে পারে, ব্রাত্য বসু আমাকে নির্দেশক হিসেবে কী বলছেন সেটাও দরকার পড়তে পারে।”

প্রসঙ্গ বদলালাম, “এই যে আপনাকে দেখে আরো দশটা ছেলে আসছে প্রফেশনালি থিয়েটার করতে, উৎসাহ পাচ্ছে সেটা নিয়ে আপনার কী মনে হয়?”

“আমি তাঁদের কাছে একটাই প্রশ্ন করতে চাই। তাঁরা অনির্বাণ ভট্টাচার্য্যের কী দেখে থিয়েটার করতে আসছে। খ্যাতি? আদৌ কি তাঁদের নিজের সঙ্গে থিয়েটারের কোনও সম্পর্ক আছে? আমাকে দেখে কেউ থিয়েটার করতে এলে আমার নিজের কোনও আপত্তি নেই। তবে আমি নিজে কিন্তু খ্যাতি দেখে থিয়েটার করতে আসিনি। আমি প্রথমে এসেছিলাম পড়াশুনো ছাড়া অন্য কিছু করব বলে। তারপর তালেগোলে আমি কাজ করেছি, দর্শকের সেটা দেখে ভালো লেগেছে। আমার একটু আধটু নামটাম হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সেটার জন্য তো আমি আলাদা কিছু করিনি। আমি অভিনয় করেছি। যাঁরা আমাকে দেখে অভিনয় করতে আসছে, তারা যত তাড়াতাড়ি এই ব্যাপারটা থেকে বার হবে, ততই মঙ্গল।”

“কেন?”

“মুক্তধারায় একটা সংলাপ ছিল। ‘নিজের পথ তোমাকে খুঁজে বের করতে হবে। আমার পিছনে যদি চল তা হলে আমিই তোমার পথকে আড়াল করব।’ যতদিন কারও সামনে অন্য কেউ দাঁড়িয়ে আছে, ততদিন সে কিন্তু নিজের সামনে কিছুই দেখতে পাবে না।

হ্যাঁ হতে পারে, আমাদের দেশে যে গুরুকুলের ধারণা ছিল, যে গুরু আমাকে ঠিক যেভাবে যেতে বলবে আমিও সেইভাবে যাব। কিন্তু আমাদের প্রদেশের থিয়েটার ওইভাবে তো গড়ে ওঠেনি। আমাদের এখানকার থিয়েটারের লেগ্যাসি হচ্ছে ‘সেলফ টট’ হওয়ার। স্বশিক্ষিত হওয়ার।”

আরও পড়ুন: ইনটারভিউ-  মুখ খোলেন বলেই খুন হন কালবুর্গি, দাভোলকর, পানসরে: গুলজ়ার

“কেন? স্বশিক্ষিত কেন?”

“এই স্বশিক্ষার বাইরে আমাদের এখানে তো শেখার তেমন কোনও উপায় নেই। কেউ যদি চায়ও, তা হলেও এখানে কোনও ইনস্টিটিউটে গিয়ে শিখতে পারবে না। এইখানে তেমন কোনও ভালো ইনস্টিটিউট নেই। আমি রবীন্দ্রভারতীতে পড়াশুনো করেছি। কিন্তু আমার মনে হয়েছে, রবীন্দ্রভারতীতে মোটেই একজন অভিনেতাকে গড়ে তোলার মতো পরিকাঠামো নেই। অভিনয় শেখাতে গেলে একটা বিরাট ব্যবস্থা লাগে। অনেক যত্ন করে হয়ত একটাই ছাত্রকে হয়তো গড়ে তোলা যায়। দিল্লিতে এনএসডি আছে, সিকিম ও ত্রিপুরায় তার দুটো শাখা আছে, সেখানে একটা পরিকাঠামো পাওয়া যায়। এছাড়া লক্ষ্ণৌতে ভারতেন্দু নাট্য বিদ্যালয় আছে। সরকারের পক্ষ থেকে তো এই। অথচ এত বড় দেশ! বেসরকারি কিছু সংস্থা আছে কিন্তু মুশকিল হল বড়লোকের ছেলেরা খুবই কম আসে থিয়েটারে। ফলত, আমাদের মতো নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা ছেলেমেয়েরা বেসরকারি সংস্থায় যাবে কী করে? তাই চৌদিক থেকে কুড়িয়ে নেওয়া স্বশিক্ষাই আমাদের পরম প্রিয় কষ্টিপাথর। বা সোনার পাথরবাটি।

“তাহলে যিনি অভিনেতা হতে চান তিনি কী করবেন?”

“প্রাথমিক ভাবে দুটো জিনিস। প্রথমত তাঁকে যাঁচাই করতে হবে তাঁর ভেতরে ভালোবাসা কতখানি আছে। দ্বিতীয়ত, তাঁকে তাঁর নিজের শিল্পবোধ তৈরি করতে হবে। তাঁর থিয়েটারে এসে পড়ার প্রাক যুক্তি যদি নাও থাকে, থিয়েটার করতে করতে তাঁকে সেই যুক্তিবোধ তৈরি করতেই হবে। যে কোনও শিল্প মাধ্যমের রস একজন মানুষ তখনই নিতে পারবে যখন সে সম্পূর্ণ ভাবে সেইটার মধ্যে নিজেকে ডুবিয়ে দিতে পারবে। সেই মাধ্যমটার সঙ্গে তাঁর যখন নিজস্ব একটা যোগাযোগ তৈরি হবে।

দেখুন, আমার যে শিল্পবোধ সেটা আমিই তৈরি করেছি। সেটা একান্তই আমার। এর জন্য আমাকে কারও কাছ থেকে ধার করতে হয়নি। তবে হ্যাঁ ব্রাত্য বসু, সুমন মুখোপাধ্যায়ের মতো মানুষেরা কোনও না কোনওভাবে আমাকে ইনস্পায়ার করেছে। এদের সবার কাছ থেকেই আমি কিছু না কিছু নিয়েছি। কিন্তু যেটা আমি গড়ে তুলেছি, সেটা আমিই গড়ে তুলেছি। যে মূর্তিটা আমি গড়ে তুলেছি, সেটার মাটি আমি বিভিন্ন জায়গা থেকে নিয়েছি। কিন্তু মূর্তিটা আমারই নির্মাণ। অন্য কেউ আমার হয়ে সেটা করে দেবে না। করে দিতে পারে তা হলে দুর্গা বা কালী ঠাকুর হবে। শিল্পের দেবী হবে না।  একজন হবু অভিনেতাকে কিন্তু নিজের মতো করেই এগোতে হবে।”

আরও পড়ুন: ইনটারভিউ- সুচিত্রা সেনকে আমি স্যার বলতাম: গুলজ়ার

“অদ্রিজা দাশগুপ্ত’র সঙ্গেই তো আপনার কাজ শুরু।”

“অদ্রিজাদিকেই তো আমি আমার গুরু বলে মনে করি। কিন্তু অধুনা অদ্রিজাদি আমাকে ছাত্র হিসাবে অস্বীকার করেন। যাই হোক, তাঁর কাছে আমি শিখেছি বেসিক থিয়েটার। কথা-বলা উচ্চারণ, হাঁটা, অভিনয় সব কিছু তাঁর কাছ থেকেই শেখা।

অদ্রিজাদিকে আমি চিনতাম না। আমার বন্ধু তথাগত চৌধুরী চিনত। আমি তখন কলকাতায় আসার পর এদিক ওদিক করে বেড়াচ্ছি। তথাগতই আমাকে নিয়ে গেল অদ্রিজাদির কাছে।

তারপর আমি ওই যাকে নাড়া বেঁধে থাকা বলে না, গুরুর বাড়িতে থাকা, ওই ভাবে ওঁর দমদমের বাড়িতে থেকেওছি।”

“হঠাৎ গুরুর বাড়িতে থাকা শুরু হল কী ভাবে?”

“আমার তখন খুব শরীর খারাপ। ইউনিভার্সিটিতে স্টিভ ক্লোরফিন বলে একজন আমেরিকান থিয়েটার ডিরেক্টর এসেছিলেন সেই সময়। আমি তাঁর সঙ্গে কাজ করছিলাম। খুব চাপ ছিল। ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া হচ্ছিল না। এর মধ্যে আমার লিভার বড় হয়ে গেল। সেই সময় থেকেই অদ্রিজাদির বাড়িতে থাকা শুরু করলাম। অদ্রিজাদির সঙ্গে আমার কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে আমি একটা বড় লেখাও লিখেছিলাম। শান্তিপুর সাংস্কৃতিক ‘মহলা’ বলে একটা বই করেছিলেন, সেইখানে।”

“অবন্তী  চক্রবর্তীর সঙ্গে কাজ?”

“অবন্তিদি খুব আধুনিক চিন্তার পরিচালক। ইয়েলে পড়াশুনো করা। সারা পৃথিবীর থিয়েটারের এক্সপোজার আছে। সেটা অবশ্য সুমন মুখোপাধ্যায়েরও আছে। তবে অবন্তিদির প্রসেস করার জায়গাগুলো একটু আলাদা। অবন্তিদি আমাকে প্রচুর ইন্টারেস্টিং জায়গায় নিয়ে গিয়েছে। ওয়ার্কশপে নিয়ে গিয়েছে। অবন্তীদির সঙ্গে কাজ করে আমি খুবই সমৃদ্ধ হয়েছি।

যাঁদের সঙ্গে আমি দীর্ঘদিন কাজ করেছি, বা বলা চলে কাজ করতে চেয়েছি, তাঁদের প্রত্যেকের সঙ্গেই আমার একটা ব্যক্তিগত লেনদেন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। সেটা আমি বলব অদ্রিজা দাশগুপ্ত, অবন্তী চক্রবর্তী, সুমন মুখোপাধ্যায়, ব্রাত্য বসু।”

আরও পড়ুন : ইনটারভিউ – আমি প্রথম থেকেই অন্যরকম কিছু করতে চেয়েছিলামঃ অনুপম রায়

“থিয়েটার খুব শক্তিশালী শিল্প মাধ্যম । সরাসরি তা মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। আপনার কি মনে হয় যে মঞ্চের ওপর থেকে মঞ্চের বাইরে যে জীবন, সেক্ষেত্রে থিয়েটার ততটাই প্রভাবশালী।”

“থিয়েটার যে করে তাঁর ক্ষেত্রে প্রভাবশালী। কিন্তু দর্শকের ক্ষেত্রে আমি বলতে পারব না। সমাজের বৃহৎ অংশের মানুষের কাছে এটা একটা আয়োজন বিশেষ। তবে হ্যাঁ কিছু মানুষ থিয়েটারে আশ্রয় খুঁজে পান বটে। যাঁদেরকে আমরা রসিক বলে থাকি। সংস্কৃত নাটকে যে দর্শক কূলকে ‘সহৃদয় সামাজিক’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। তাঁরাও আছেন। দেখুন মঞ্চ একটা অনির্দেশ্য জায়গা। অভিনেতা এলেন,  ওটা নির্দিষ্ট হল।  পরমুহূর্তেই মরে গেল।  হ্যাঁ, ওটা যদি মিউজিক বা সিনেমার মতো ডকুমেন্টেড থাকত তাহলে অন্য কিছু হতে পারত। হয়তো অন্য কোনও জায়গায় ফেলে আপনি সেটার প্রভাব বোঝার চেষ্টা করতে পারতেন। আবার এ-ও বলব এই মরে যাওয়াটা কিন্তু থিয়েটারের শক্তি। এটা কিন্তু আর কোনও শিল্প মাধ্যমে নেই। তবে থিয়েটারের এই শক্তি বা প্রভাব নিয়ে সমাজ সভ্যতা খুব একটা ভাবে-টাবেনি।

থিয়েটারকে বৃহত্তর সমাজ এবং রাষ্ট্র কোনওদিনই আদর দেয়নি। এখনও দেয় না। থিয়েটার একটা প্রান্তিক শিল্প। ভালোবাসা ও আবেগই এই শিল্পের পুঁজি।”

(আগামী পর্বে শেষ )

ছবি  সৌজন্য –  সন্দীপ কুমার 

Shares

Leave A Reply