শুক্রবার, জানুয়ারি ১৭
TheWall
TheWall

‘শুভ-বিজয়া’ কেন বলা হয়? কার জয়, কার বিজয় সেটা জেনে রাখাও জরুরি

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

অনির্বাণ

দেখা হলে তো বটেই সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে দেখা না করেও চলছে বিজয়া পালন। সবাই সবাইকে ‘শুভ-বিজয়া’ বার্তা পাঠাচ্ছেন। কিন্তু কেন দুর্গাপুজোর দশমী থেকে এমন বার্তা দেওয়া হয় কেন। ‘শুভ-বিজয়া’ কেন হয়ে ওঠে শুভেচ্ছা জানানো ভাষা?

বিজয়ার যে ছবিটা আমাদের চোখের সামনে ভাসে, তা তো প্রতিমার চলে যাওয়া। এর মধ্যে কোথায় বিজয়? আনন্দ উৎসবের মহাপার্বণ পার করার পরে বিষাদের বদলে কেন ‘শুভ-বিজয়া’ বলা হয়?

এই প্রসঙ্গে পণ্ডিত নবকুমার ভট্টাচার্য বলেন, “পুজোর দিনগুলিতে পুরোহিতের মন সর্বগতা চিন্ময়ী দেবতাকে আরাধ্য প্রতিমাতে জাগ্রতরূপে বিরাজমানা চিন্তা করে। সহজ কথায় এর নাম ‘আবাহন’ আর সেই চিন্তা থেকে পুরোহিতের মনের নিবৃত্ত হওয়াই বিসর্জন। আর বিজয়ার বলা হয় অন্য কারণে।”

শরৎকালে সীতা উদ্ধারের জন্য শ্রীরামচন্দ্র অকালবোধন করে দেবীর পুজো করেছিলেন। দেবীর আশীর্বাদে রাবণকে নিহত করে সীতাকে উদ্ধার করেছিলেন। তাই প্রচলিত প্রথা অনুসারে ‘বিজয়া’শ্রীরামচন্দ্রের বিজয়ের দিন। বিজয় উৎসব থেকেই‘বিজয়া’ কথাটি এসেছে। নবকুমার ভট্টাচার্য আরও বলে, “সাধন জগতে ‘বিজয়া’ কথাটির তাৎপর্য হলো— মহাদেবীর বিশেষ আবির্ভাব ক্ষণে তাঁরই প্রসাদে তাঁরই প্রসন্নতায় ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষলাভ। যাঁরা শ্রেয়কাম, তাঁরা সংসার বন্ধনরূপ অজ্ঞানতার প্রতি বিজয়প্রাপ্ত হয়ে মোক্ষলাভ করেন। অশুভের পরাজয়ে শুভের উদ্ভব এদিন থেকেই। সেকারণে বিজয়া আনন্দের দিন, উৎসবের দিন। প্রীতি ও সম্প্রীতির দিন।”

রাবণের পরাজয় এবং মৃত্যু ছাড়াও এই দিনে ইন্দ্র বৃত্রাসুরকে যুদ্ধে আহ্বান করে বধ করেছিলেন। এই যুদ্ধে বিষ্ণু ইন্দ্রের রথের সারথি ছিলেন আর মরুদ্গমন ছিলেন সহকারী।

বৈদিক যুগে হওয়া ইন্দ্রের ওই বৈষ্ণবী শক্তির আশ্রয়ে বৃত্রবিজয়ী লীলাই মহামায়ার পুজোকেও অসুর বিসর্জনের এক পদ্ধতি মানা হয়। এই পরম্পরা এখনও পালন করা হয় সারা দেশে। এই দিন দশেরা উৎসবে অনুষ্ঠিত হয় রাবণবধের অনুষ্ঠান।

Share.

Comments are closed.